শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই আত্রাই নদী পারাপারের একমাত্র মাধ্যম

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ): ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে এভাবে চলাচল করে এলাকাবাসী -সংগ্রাম

শাহজাহান (সিরাজগঞ্জ) থেকে: চলনবিলের নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার আত্রাই নদীর সাবগাড়ী হাটবাজার পয়েন্টে দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার মানুষের যাতায়াত। স্থানীয়দের চলাচলের সুবিধার্থে একটি সেতু নির্মাণের দাবি বহুদিনের। কিন্তু সেতু নির্মাণ না হওয়ায় নদী পারাপার এখন ভরসা ঝুঁকিপূর্ণ দীর্ঘ বাঁশের সেতু। ঘাটটি ডাক হওয়ার পর আত্রাই নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করেছেন স্থানীয় খোকন মাঝি নামের এক ব্যক্তি। সেতুতে পারাপারের জন্য টোল বাবদ দিতে হচ্ছে ফসল অথবা টাকা।
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবগাড়ি আদর্শ বাজার সংলগ্ন আত্রাই নদীর ওপর ওই বাঁশের সেতুর অবস্থান। বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মওসুমে বাঁশের সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীসহ আশপাশের পনের গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। স্বাধীনতার পর থেকে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি অপেক্ষিত থেকেই গেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, আত্রাই নদীর পৃর্ব ও পশ্চিম-দক্ষিণ দুইপাড় মিলে বিয়াঘাট, সাবগাড়ি, বিলদহর ও জ্ঞানদা নগর গ্রামছাড়াও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা ও সাবগাড়ী হাট রয়েছে। আত্রাই নদীর দুই পাড়ের প্রায় ৫০হাজার মানুষ ওই বাঁশের সেতুর ওপর প্রত্যক্ষ ও পরক্ষভাবে নির্ভশীল। ওই নদী পার হয়ে দুই পাড়ের মানুষ এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে। এছাড়া সর্ব পাড়ের মানুষের জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকার সাথে যোগাযোগ রক্ষাকারী মাধ্যমও এটি। তাছাড়া ইরি-বোরো রবিশষ্য আবাদ শুরু হওয়ায় পারাপারে চাপ বাড়ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীটির এপার ওপার জুড়ে বাঁশের সেতুটি নিমার্ণ করা হয়েছে। মাঝামাঝি পর্যায়ে খানিক জায়গা রেখে সেখানে নৌকা রাখা হয়েছে। ফসলাদী নিয়ে মানুষ ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হচ্ছেন। স্থানীয় খোকন মাঝি নামের এক ব্যাক্তি খেয়াঘাটটি ইজারা নিয়েছেন। সেতুতে পার হতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে সদস্য অনুপাতে আধা মণ থেকে ১ মণ হাড়ে ধান নেওয়া হয়। এছাড়া দূর-দূরান্ত থেকে থেকে আসা পথচারীদের ক্ষেত্রে বাই সাইকেল ২ টাকা, মোটরসাইকেল ৫ টাকা ও মানুষ পারাপারের ক্ষেত্রে ৫ টাকা করে নেওয়া হয়।
 খোকন মাঝি জানান, ভরা বর্ষায় নৌকায় মানুষ পারাপার করা হয়েছে। এখন পানি কমে যাওয়ায় গ্রামবাসীর কাছ থেকে চাঁদা তুলে ১লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যায়ে ২৫০ মিটারের বাঁশের সেতুটি নির্মাণ করেছেন তিনি। তবে সেতু পারাপারে টোল বাবদ মানুষের জন্য ২ টাকা ও মটর সাইকেল পরাপারের ক্ষেত্রে ৫ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। যারা বছর চুক্তি করেছেন তাদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয় না।
 সাবগাড়ী গ্রামের আতাব আলী বলেন, নদীর ওপর সেতু নাথাকায় পূর্ব পাড়ের বাসিন্দারা বেশি কষ্টে আছেন। কারন মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের কোন বিদ্যালয় নেই। প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে নদী পাড় হয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে আসে। আবার মানুষ মারা গেলে দক্ষিণ পশ্চিমের মানুষদের দুর্ভোগ বাড়ে। তাছাড়া এখানকার মানুষের নিত্য কেনা-কাটা, জমির ফসল উৎপাদন-বিক্রি ও দেশের অভ্যন্তরে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যেম হয়ে উঠেছে ওই বাঁশের সেতু। একটি ব্রিজ নির্মাণ এই এলাকার মানুষের আর্ত-সমাজিক উন্নয়ন ঘটবে।
বাঁশের সেতু পাড়পাড়ের সময় কথা হয় সাবগাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী, সোহেল, স্বপ্না, মরিয়ম, আঁখি ও শাপলা জানায়, বাঁশের সেতু পার হতে ভয় লাগে। তবুও বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য ঝুঁকি নিয়েই পাড় হতে হয়। হাট-সাবগাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়াছকুরুনী বলেন, নদীটিতে সেতু না থাকায় বর্ষাকালে খেয়া নৌকা আর শুস্ক মওসুমে বাঁশের সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে শত শত ছাত্র-ছাত্রী পারাপার করে। বর্ষায় খেয়া নৌকা আর শুকনায় বাঁশের সেতুর ওপর ভর করে চলছে এসব গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা । নদীর পূর্ব পাড়ের বাসিন্দা রবিউল করিমের সাথে কথা হয়। এসময় তার স্ত্রী রেখা বেগমও ছিলেন। কারন তিনি তার অন্তস্বত্তা স্ত্রীকে বিলদহর চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। বাঁশের সেতুতে উঠতেই তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কারন সেতুটি দুলছিল। তাদের মত এমর দূর্ভোগ নিয়ে এই এলাকার হাজার হাজার মানুষ পারাপার হয়।
স্থানীয় কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, নদীর পূর্ব পাশে বিস্তীর্ণ চলনবিল। ওই এলাকার মানুষ আত্রাই নদী পার হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন। তাছাড়া কৃষকদের পন্য পরিবহনেও বাড়ে অসহোনীয় ভোগান্তি। বিশেষ করে ইরি-বোরো মওসুমে ধান বহনকারী গরু ও মহিসের গাড়ি পারাপারে দুর্ভোগ দেখা দেয়। তাছাড়া প্রসূতি ও অসুস্থরা সময়মতো চিকিৎসা সেবা না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক মো. মোজাম্মেল হক বলেন, দেড় বছর আগে সাবগাড়ি বাজারে সেতুর দাবিতে একটি বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকের দাবি সংবলিত একটি কপি স্থানীয় সাংসদকে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সাংসদ আব্দুল কুদ্দুস বলেন, এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে সেতু নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়টি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তরভুক্ত করা হয়েছে। এখন টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। খুব তারাতারি এলাকার মানুষ আশার আলো দেখবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ