শুক্রবার ২১ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

জামিন পাওয়ার আশা খালেদা জিয়ার

 স্টাফ রিপোর্টার : গত এক মাস ধরে কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া উচ্চ আদালতে জামিন পাবেন বলে আশা করছেন। আগামী রোববার তার জামিনের ব্যাপারে আদেশ হওয়ার কথা রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের একথা জানিয়েছেন তার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। এর আগে বিকালে বেগম জিয়ার আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান, জয়নুল আবেদিন, এ জে মোহাম্মদ আলী, মাহাবুব উদ্দিন খোকন ও সানাউল্লাহ মিয়া কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান।

জয়নুল আবেদীন জানান, খালেদা জিয়ার সঙ্গে আইনগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এক ঘণ্টা পাঁচ মিনিট বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে কথা হয়েছে। সেখানে আমরা প্রায় একঘণ্টা পাঁচ মিনিটের মতো ছিলাম। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাদের কাছে জামিনের বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। আমরা তাকে (খালেদা জিয়াকে) সব জানিয়েছি। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আরো বলেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে আমরাও আশা করছি রোববার উচ্চ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার জামিন আবেদনে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন। কারণ এটি জামিনযোগ্য মামলা।

 সিনিয়র এই আইনজীবী সাংবাদিকদের জানান, বেগম জিয়ার সঙ্গে মামলা, জামিন ও আইনি বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা আশা করছি, আগামী রোববার উচ্চ আদালত তাঁকে জামিন দেবেন। জয়নুল আবেদীন বলেন,খালেদা জিয়ার মনোবল অত্যন্ত শক্ত আছে। তিনি আত্মবিশ্বাসী যে, তিনি ন্যায়বিচার পাবেন উচ্চ আদালতে।

তিনি আরও বলেন, বেগম জিয়াকে বলেছি, আপনার জামিনের জন্য আমরা আবেদন করেছিলাম। এরপর আদালত জানিয়েছেন, নথি আসার পর শুনানি নিয়ে জামিনের বিষয়ে আদেশ দেবেন। কিন্তু গতকাল বুধবার (৭ মার্চ) নথি আসার সেই ১৫ দিন সময় পার হয়ে গেছে। তাই বৃহস্পতিবার (৮ মার্চ) আমরা মেনশন স্লিপ দিয়ে নথি আসার সময় শেষ হওয়ার বিষয়ে আদালতকে অবহিত করি। এ পর্যায়ে আদালত আগামী রবিবার জামিন বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেন।

খালেদা জিয়াকে তার এই আইনজীবী আরও  বলেন, আপনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এছাড়া জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের এখতিয়ারও রয়েছে। জামিনের জন্য আমরা অনেকগুলো গ্রাউন্ড দিয়েছি। তাই সেসব গ্রাউন্ড বিবেচনা করে আদালত রবিবার আপনাকে জামিন দেবে বলেও আমরা বিশ্বাস করি। খালেদা জিয়ার সঙ্গে আর কোনও বিষয়ে কথা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে জয়নুল আবেদীন বলেন, তার সঙ্গে শুধু মামলার আইনগত দিক নিয়ে আলোচনা করেছি। এর বেশি কোনও কথা হয়নি।

পরে খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আমরা যখন তার সঙ্গে দেখা করি, তখন তাকে বেশ আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে। তিনি আমাদের বলেছেন, আমি টাকা আত্মসাত করলাম না। টাকা লেনদেনের কোনও কাগজে স্বাক্ষর করলাম না, অথচ আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হলো।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদ- দেয় আদালত। এরপর থেকে তিনি পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে আছেন। খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা। মামলার নথি না পাওয়ায় এ ব্যাপারে আদেশ বিলম্বিত হচ্ছে। আগামী রবিবার সকালে মামলার নথি উচ্চ আদালতে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেদিন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ ব্যাপারে আদেশ দেবেন। 

এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চে খালেদা জিয়ার জামির আবেদনের ওপর শুনানি হয়। সেদিন আদেশ না দিয়ে নথি দেখে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেন দুই বিচারপতি। এর আগে ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের একই বেঞ্চ খালেদা জিয়ার করা আপিল গ্রহণ করে ১৫ দিনের মধ্যে মামলার নথি পাঠানোর আদেশ দেন। সেই অনুযায়ী ৭ মার্চ সেই সময় শেষ হয়। তবে হাইকোর্টের আদেশের কপি বিচারিক আদালতে পৌঁছেছে ২৫ ফেব্রুয়ারি। সেই অনুযায়ী আগামী ১১ মার্চ রবিবার হবে ১৫ দিন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ