রবিবার ২৩ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

বিড়াল

নূরনবী সোহাগ : রাতুল আজকের মত পাঠ চুকিয়ে যখন ঘুমুতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ঠিক তখন আবার সেই শব্দটা  শোনা গেল। শব্দটা গত তিনদিন ধরে এই একই সময় শোনা যায়। ছাদের কার্নিশ ঘেঁষা কি রকম একটা খসখস শব্দ। রাতুল বিষয়টাকে ইঁদুরের কর্মকা- ভেবে পুরোপুরিভাবে উপেক্ষা করে আসছিল এতদিন। কিন্তু আজ চতুর্থদিনের মতো যখন শব্দটা শোনা গেল তখন বিষয়টাকে একটু আমলে আনা দরকার। রাতুলের রুমে এখনো আলো জ্বলছে। অন্যান্য রুমের আলো নেভানো তার মানে বাকি সবাই ঘুমিয়ে পরেছে ধরে নেয়া যায়। রাতুলের ভূতের ভয় নেই। ভূত বিষয়টাকে রাতুল ছোটবেলা থেকেই অনাগ্রহের বিষয় করে রেখেছে। সুতরাং, মনস্থির হল মূল ঘটনা জানতে রাতুল নিজেই ছাদে যাবে। টিমটিমে আলোর একটা টর্চলাইট নিয়ে রাতুল সিঁড়িধাপ পেরিয়ে ছাদে উঠল। টর্চের লালচে আলোটা ছোট একটা বৃত্তের মত রাতুলের আগে আগে চলছে। যেদিক থেকে শব্দটার উৎপত্তি রাতুল সেদিকে যথাসম্ভব ধীর ও সাবধানতার সাথে এগোতে লাগলো। নিস্তব্ধতার মাঝে নিঃশ্বাসে একটা চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে রাতুলের। না জানি সামনে কি রকম অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে তার জন্য। ছাদের প্রান্ত ঘেঁষে বেশ কয়েকটা ফুলের টব রাখা। টবের চারপাশে ভাল করে আলো ফেলতেই রাতুলের ভ্রƒ সংকুচিত হয়ে এলো-কি ওটা? কৌতূহলী দৃষ্টি আপনা থেকেই আরো কাছে চলে যায়। সেকি- ‘বিড়াল’। এই শব্দ উৎপন্নের মূলে তাহলে বিড়াল রয়েছে? আপাতত ভয়ের কিছু নেই। রাতুল যেন মনে মনে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। রাতুল দেখল, দলাপাকানো কতগুলো পাটের বস্তার ভেতর অনেকটা জড়সড় হয়ে শুয়ে আছে বিড়ালটা। তার দেহ ধবধবে সাদা লোমে ঢাকা, আলোর মুখে চেয়ে থাকা চোখদুটো তখন দারুণ রকম জ্বলছে। মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে বিড়ালটা কিন্তু পালালো না। রাতুলের কাছে এখন বিষয়টা একদম পরিষ্কার। এমন শীতের রাতে একটু ওমের লোভে হয়তো বিড়ালটি বহুপথ পাড়ি দিয়ে এসে এই আস্তানাটি আবিষ্কার করেছে। আদুরে হাতে রাতুল বিড়ালের শরীর স্পর্শ করল। বিন্দু বিন্দু শিশির জমে আছে তার শরীরের লোমে। রাতুলের একটু মায়া হল যেন বিড়ালটির প্রতি। খানিকক্ষণ কি একটা ভেবে বিড়ালটি কোলে তুলে নিলো রাতুল। বিড়ালটিও তাতে কোনরূপ অনাগ্রহ দেখাল না। মস্ত বড় বিছানায় রাতুল একাই ঘুমায়। রাতুল বিড়ালটিকে নিজের কম্বলের তলায় জায়গা দিলো। বিড়ালটি হাত- পা টেনে স্বস্তি ও আরাম দুই’ই প্রকাশ করল যেন। বেশ দীর্ঘ একটা ঘুমের পর রাতুল যখন জাগল তখন বিড়ালটি বিছানায় নেই। ঘুমভাঙা চোখেই রাতুলে বিছানার চারদিকে একবার চোখ ঘুরিয়ে নিলো। এমতাবস্থায় বিড়ালটি একবার ‘মিঁউ’ করে ডেকে জানান দিল সে সকাল হওয়া মাত্র অকৃতজ্ঞের মত চলে যায়নি। রাতুল দেখল বিড়ালটি তার পড়ার টেবিলে হাঁটু গেড়ে উবু হয়ে বসে আছে। রাতুল মুখে একবার চুচু শব্দ করতে বিড়ালটা এক লাফ দিয়ে রাতুলের কাছে চলে এল। রাতুল বিড়ালটি পরম আদরে বুকে জড়িয়ে নিল। বিড়ালটিও যেন প্রাপ্ত আদরের পরশটুকু সর্বাঙ্গে মাখিয়ে নিল। সাথে সাথে চোখ বুজে মুখে পরিতৃপ্তির শব্দ করল ‘মিঁউ, মিঁউ’।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ