বুধবার ০২ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

যুব গেমস এবং কিছু কথা

মোহাম্মদ সুমন বাকী : যুব গেমসের উত্তাপ লেগেছে দেশের ক্রীড়া ভুবনে। এর মূল লক্ষ্য সারা দেশে তৃণমূল পর্যায় হতে তারকা খুঁজে বের করা। বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন (বিওএ) চলতি মাসে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন নিয়ে মেতে উঠবে। তা হবে নিঃসন্দেহে বর্ণাঢ্য। কারণ সিডিউল অনুযায়ী যুব গেমস উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেটা ১০ মার্চ। এই অবস্থায় ক্রীড়াঙ্গন সরগরম। তা স্বাভাবিক। গেমস মানেই ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকের মহামিলন। যা তৈরি করে ভালোবাসার বন্ধন। যুব গেমসের স্টোজ দ্বিতীয় সারিতে। সেটা ঠিক। এরপরও নবাগত এবং সুপার তারকার সংমিশ্রণ ঘটে সেখানে। তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। যা প্রতিযোগিতাকে করে আকর্ষনীয়। সেটা সিনিয়র লেবেলের বাংলাদেশ গেমসের ন্যায়। তা প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টি করে নিজেদের মধ্যে। যা দক্ষ প্লেয়ার সংগ্রহের খোড়াক যোগায়। কি বলেন? সেটা দেখা গেছে যুগ যুগ ধরে। এমন ফর্মূলায় এই দেশের খেলাধুলা এগিয়ে চলেছে। অবশ্যই তা সুখ-দুঃখ মিলিয়ে। তবে কথা আছে। সুখ একেবারে কম। সেই তুলনায় দুঃখের পাল্লাটা  অনেক ভারী। এ সব গেমস তারকা পাইয়ে দিয়েছে দেশকে। যারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গেমসে লাল-সবুজ পতাকা দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, কাবাডি, এ্যাথলেটিকস, উশু, ভলিবল, তায়কোয়ান্দো, কারাতে, জুডো, হ্যান্ডবল, বক্সিংসহ অন্য ক্রীড়ার ছায়াতলে অংশ নিয়ে। যা সাফল্য দিয়েছে খুবই কম। সেটা বাড়িয়েছে হতাশার পর হতাশা। এরই মাঝে ঘিরে থাকে দুঃখ। তা ধারাবাহিক ভাবে। যা সুখকে অনেক দূর পিছনে ফেলে আঠার মতো লেগে রয়েছে। কোনক্রমে ছাড়তে চায় না সেটা। এই ক্ষেত্রে প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করানো যায় অলিম্পিক গেমসকে। সেখানে কি সাফল্য আছে? প্রশ্ন উঁকি দেয় আপন মনে? একটু বিশ্লেষণে যাওয়া দরকার। বিশ্ব দরবারের অলিম্পিক গেমস। তা ঘরে ঘরে পরিচিত নাম। যা মহা স্বপ্ন সকলের কাছে। সেটা স্বর্ন, রৌপ্য, ব্রোঞ্জ পদক জয় করার জন্য। তা কলমের কালিতে নতুন করে উল্লেখ না করলেও হয়। বলেন কি? এ পরিস্থিতিতে কাবাডি একবার ব্রোঞ্জ পদক জয় করা ছাড়া অলিম্পিকে বাংলাদেশ দলের রেজাল্ট হতাশাজনক। যা কোনো পর্যায়ে কাউন্ট করা যায় না। শূন্যের আদলে বড় লজ্জা। সেটা বজায় আছে অংশগ্রহনের পর থেকে এখন পর্যন্ত। সব সময় হিটে বাদ! এ্যাথলেটিকস অন্যতম উদাহরন। ফুটবলতো বাছাই হতে নেমে গিয়ে প্রাক বাছাই পর্বে নাম লিখিয়েছে। তা জানা রয়েছে সকলের। যা অধঃপতনের ধারায় নৈপূন্যের দাপট দেখাবার উল্টো চিত্রকে পুঁজি করে। সেটা দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে দেশের কোটি কোটি ক্রীড়া পাগল প্রেমিকে। এই স্ট্যান্ডার্ড লড়াইয়ে প্রথম ধাপে বাদ পড়েছে  বাংলাদেশ। তা যে কোনো ক্রীড়া ডিসিপ্লিনে। শুধুমাত্র অলিম্পিয়াড দাবায় অংশ নিয়ে মূল পর্বে লড়াই করেছে। যা গেমস প্রতিযোগিতার সম্পৃক্ততা পায়নি কখনো। এর আয়োজন আলাদা। বাংলাদেশ শিরোপা জিতেনি। তবে ফাইট করে দাপট দেখিয়ে। এছাড়া অন্য ক্রীড়ার লড়াইয়ে পাত্তা নেই বাংলাদেশের। কমন ওয়েলথ গেমস মানে লাল-সবুজ পতাকা দলের শ্যূটিং সাফল্য। সেটা ঘিরে রাখে স্বর্ণ, রৌপ্য, ব্রোঞ্জ পদক জয় করার মধ্যে দিয়ে। তা পেয়েছে দাপট দেখিয়ে।  সুপার পারফরম্যান্সকে পুঁজি করে। ১৯৯০ সলে চমক শুরু হয়। এরপর থেকে সাফল্য ধরা দেয় ঘুরে ফিরে। এখানে শ্যূটিং ছাড়া অন্য কোনো খেলায় বিন্দু পরিমাণ সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। তাইতো কমন ওয়েলথ গেমস মানে শ্যুটিং এবং তারকা প্লেয়ার মানে ছাত্তার, আতিক, শাহানা, সাবরিনা, আসিফদের উজ্জ্বল করা পদক জয়ী তালিকায় নাম। এশিয়ান গেমসেও বুরি বুরি সাফল্য নেই। যেখানে ক্রিকেট মান বাঁচায় প্রথম স্বর্ণ পদক জয় করে। যা পেয়েছে ২০১২ এশিয়ান গেমস লড়াইয়ে। বক্সিংয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতে। সেটা ১৯৮৬ সালে। কাবাডিতে রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পায় বাংলাদেশ। তা ছাড়া সব স্থানে ব্যর্থ। যা স্বীকার করা যায় অনায়াসে। তবে সাফল্য রয়েছে সাউথ এশিয়ান গেমসে। সেটা বুরি বুরি। বড় গেমসের ব্যর্থ ফুটবল দলও স্বর্ণ জিতেছে এখানে। সে তালিকায় ক্রিকেট, শ্যূটিং, ডুডো, তায়কোয়ান্দো, উশু, বক্সিং ক্রীড়াগুলো অন্যতম নাম। এ হলো আন্তর্জাতিক গেমসে বাংলাদেশের অবস্থান। যার ওপর ভর করে মাঠের লড়াইয়ে এগিয়ে চলেছে তারা। এক কথায় বলা যায় আপাতত এটাই সম্বল। সেটা মডেল হয়ে দেখা দিবে এবারের যুব গেমস প্রতিযোগিতায়। নতুন প্লেয়ারদের প্রেরণা যোগাবার জন্য। যা দিবে কতটুকু? প্রশ্ন জাগে এখানে! যুব গেমস আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন!! তা ভাবা কী যায়!!! বিশাল বাজেট ব্যয়ে বাংলাদেশ যুব গেমস আয়োজন হচ্ছে। ক্রীড়া ডিসিপ্লিনের সংখ্যা কম নয়। রাজধানী ঢাকা কেন্দ্রিক চর্চার ধারায় স্বাভাবিক। অন্য জেলার বাস্তব দৃশ্যের প্রেক্ষাপটে যা হবে অস্বাভাবিক। সে জন্য যুব গেমসের বর্নাঢ্য আয়োজন নিয়ে আলোড়ন নেই সারা দেশে। এ ক্ষেত্রে উদাহরন নারায়ণগঞ্জ জেলা। যেখানে সবাই নীরব। সে তালিকায় রয়েছেন খেলোয়াড়রা। আর স্পোর্টস প্রেমীদের অবস্থা কি? তা খুব সহজে অনুমেয়। বিশ্লেষন করার দরকার পড়ে না। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, শ্যূটিং ও প্রমিলা ভলিবলের লড়াইয়ে ভালো দল নারায়ণগঞ্জ। সেখানে তারকা হয়ে আলোর উজ্জ্বলতা ছড়ান আলাউদ্দিন খান, ধীরেন্দ্র ভাওয়াল, চুন্নু, এমিলি, মুন্না, গাউস, গাউস, স্বপন, বাবু, জাহাঙ্গীর, বিদ্যুৎ, শরীফ, শাহানা পারভীন, আখি, আতিয়া বাকী পাখি, মাহমুজা, নায়লা, নাহিদা, পপি, ববি, মুক্তাসহ অনেকে। যাদের ব্যক্তিগত নৈপূন্য দেখার জন্য দর্শক মাঠে উপস্থিত হতেন। সেটা গত শতাব্দীর আশি, নব্বই দশকের কথা। এখন কি সেই দৃশ্য ফুটে উঠে? এই অবস্থায় যুব গেমসের বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হয় দেশের চট্টগ্রাম বিভাগে। এমন ধারায় কক্সবাজার জেলাও ব্যতিক্রম নয়। স্টার ক্রিকেটার মমিনুল হক ও এ্যাথলেটিকস হিরো স্কুল ছাত্র নবিউল হাসান, প্রিয়াদের সুপার পারফরম্যান্সের ধারায় আলোড়ন নেই সেখানে। যা দুঃখজনক। এ অভিমত ক্রীড়া ভক্ত স্থানীয় সংগীত শিল্পী পৌষীর। কক্সবাজার জেলার কর্মকর্তা অপু বড়–য়া সাফল্যের ব্যাপারে আশাবাদী। বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলেও একই অবস্থা। ফেনী জেলার দর্শকরা চুপ হয়ে বসে আছে। যুব গেমস উৎসবের রেশ তাদের শরীরে বিন্দু পরিমান স্পর্শ করেনি। উল্টো এই জেলার ক্রিকেট টিম ভারত সফরে ওয়ান ডে এবং টি-টুয়েন্টি সিরিজ লড়াইয়ে অংশ নিবে। ফেনীর সাংসদ লিটন হাজারী, ডিসি ও এসপির তত্ত্বাবধানে দুই দেশের জেলা দলের মধ্যে এ আয়োজন। সেটা বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ক্রীড়া মহল এবং মিডিয়াতে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ যুব গেমসের আয়োজন। তা সফল হোক। নতুন তারকা প্লেয়ার জন্ম নিবে। তৃনমূলে প্রতিভার খোঁজ মিলবে। যারা দেশের জন্য সাফল্য অর্জনের পথে শতভাগ নৈপুণ্য প্রদর্শনের ধারায় নিজেদের বিলিয়ে দিবে। সে আশায় বুক বেঁধে আছেন খেলাধুলা জগতের বিশেষজ্ঞরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ