সোমবার ০১ মার্চ ২০২১
Online Edition

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা জবানবন্দী দণ্ড প্রসঙ্গ

জিবলু রহমান : [আট]
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। তবে দুদক প্রসিকিউশন মনে করেন, খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের এমন অভিযোগ সঠিক নয়। আদালত রায়ে যা লেখবেন-তা সবাইকে মানতে হবে। খালেদা জিয়ার আইনজীবী ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সানাউল্লাহ মিয়া বলেছেন, বিচারক রায় ঘোষণার সময় খালেদা জিয়ার অর্থদণ্ডের বিষয়ে কোনো কিছু বলেননি। কিন্তু আমরা যখন সার্টিফায়েড কপি হাতে পেলাম, তখন সেখানে খালেদা জিয়ার অর্থদণ্ডের বিষয়টি লক্ষ্য করি। এ বিষয়টি নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র হয়েছে। বিচারক আদালতে অর্থদণ্ডে না ঘোষণা দিলেও রায়ের কপিতে তা (অর্থদণ্ড) বলেছেন। এখন আর আমাদের কিছু করার নেই। (সূত্র : দৈনিক যুগান্তর ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮)। খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারে নেয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা বলেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়াকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে। প্রথম দিন পুরনো কারাগারের একটি অফিস কক্ষে খালেদা জিয়াকে রাখা হয়। প্রথম দুদিনতো কারাগারে ডিভিশন সুবিধা পাননি খালেদা জিয়া। তাকে সাধারণ বন্দি হিসেবেই  রাখা হয়। এছাড়া তার গৃহপরিচারিকা ফাতেমাকে সঙ্গে রাখার আবেদন করা হলেও তাকে সঙ্গে দেয়া হয়নি। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বিকালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসে এসব তথ্য জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। পাঁচ সদস্যের আইনজীবী দল খালেদা জিয়ার সঙ্গে এক ঘণ্টার বেশি সময় কথা বলেন। সাক্ষাৎ শেষে ব্যারিস্টার মওদুদ জানান, বাইরে প্রপাগান্ডা চালানো হচ্ছে খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দেয়া হয়েছে, তার সঙ্গে কাজের মেয়ে ফাতেমাকে দেয়া হয়েছে। এর সবই অসত্য। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে পরিত্যক্ত নির্জন কারাগারে সাধারণ বন্দির মতো রাখা হয়েছে। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতা হিসেবে খালেদা জিয়া আবেদন ছাড়াই ডিভিশন পাওয়ার যোগ্য, তাকে এ সুবিধা না দেয়ায় আইনের আশ্রয় নেয়ার কথা জানিয়ে মওদুদ বলেন, কারাগারে খালেদা জিয়ার মনোবল অটুট রয়েছে।
সাক্ষাৎ শেষে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়াকে কষ্ট দেয়ার জন্যই জেলকোড অনুযায়ী ডিভিশন দেয়া হচ্ছে না। অথচ তিনি ডিভিশন পাওয়ার যোগ্য। তিন যোগ্যতায় তার ডিভিশন পাওয়ার অনুমোদন তো কারাকোডেই রয়েছে। প্রথমত, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী। দ্বিতীয়ত, সাবেক সংসদ সদস্য এবং তৃতীয়ত, তিনি একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান। এ অবস্থায় তাকে ডিভিশন দেয়ার জন্য তো কোনো দরখাস্ত করারও প্রয়োজন নেই। আজ আমরা দেখলাম জেলকোড অমান্য করে তাকে সাধারণ বন্দির মতো রাখা হয়েছে। অথচ তাকে ডিভিশন দেয়া হয়েছে ও গৃহপরিচারিকা ফাতেমাকে তার সঙ্গে দেয়া হয়েছে বলে বাইরে প্রপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। কাজের মেয়েকে দেয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কোর্ট আদেশও দিয়েছেন। খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন এই গৃহপরিচারিকার সহযোগিতা নিয়ে চলছেন। তার ওষুধপত্র সেবনসহ নিত্য-নৈমিত্যিক সমস্যা ও দৈনন্দিন কাজগুলো এই ফাতেমাকে ছাড়া চলে না। অন্য দিকে তিনি অসুস্থ। অথচ তাকে ডিভিশন না দিয়ে নির্জন কারাগারে রাখা হয়েছে। ভাঙা পরিত্যক্ত বাড়িতে সুযোগ-সুবিধা ছাড়া জনমানবহীন অবস্থায় রাখা হয়েছে। যা একেবারে সংবিধান পরিপন্থি। আমরা এ নিয়ে আদালতে যাবো। এ ক্ষেত্রে সরকারেরও ভূমিকা আছে। আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও যাবো। তিনি আরো বলেন, এমনিতে তার শারীরিক অবস্থা ভালো না। তিনি একধরনের খাবারে অভ্যস্ত। অথচ বাসা থেকে খাবারও আনতে দেয়া হয়নি। সাধারণ বন্দির যা খাবার তাই তাকে খেতে দেয়া হচ্ছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তাকে সাধারণ একটি কক্ষে রাখা হয়েছে। তার পরিবেশও ভালো নয়। আমরা কথা বলার সময় সেখানে ছিলেন জেলার ও গোয়েন্দা সংস্থার বেশ কিছু লোকজন। তাদের সামনেই কথা বলতে হয়েছে। (সূত্র : দৈনিক মানব জমিন ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮) ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সাপ্তাহ থেকে রাজনৈতিক ঘটনাবলী বিবেচনায় নিলে স্পষ্ট হয় যে দেশের অনেক বিষয় ক্ষমতাসীন সরকারের ইঙ্গিতে হচ্ছে। এ বছরটি একাদশ সংসদ নির্বাচনের বছর। টানা নয় বছর সরকারে থাকা আওয়ামী লীগ চায় আগামীতেও ক্ষমতার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে। তাদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি চায় দাবি আদায় করে ক্ষমতায় ফিরতে। বিএনপিকে চাপে রাখার অবস্থান থেকে সরছে না ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। খালেদা জিয়াসহ অন্য নেতাদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং দলীয়ভাবে বিএনপিকে ছাড় না দেওয়ার অবস্থানেই থাকছে শাসক দল। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের দাবি, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির পর থেকে বিএনপির ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে থাকার কারণে সরকার পরিচালনায় ‘অহেতুক’ সমস্যা এড়ানো গেছে। সর্বশেষ আওয়ামী লীগ ও সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণেই বিএনপির চেয়ারপারসনের কারাগার যাওয়ার মতো বড় ঘটনার পরও বিএনপি নমনীয় অবস্থানে রয়েছে। সহিংস ও নাশকতা থেকে দূরে রয়েছে।
বিএনপির সাম্প্রতিক রাজনীতি নিয়ে আওয়ামী লীগের মূল্যায়ন হলো, দলটি এখন ভেতর-বাইরে চাপে আছে। এ কারণে কঠোর অবস্থান না নিয়ে দলটি ‘ধীরে চলো নীতি’ নিয়েছে। এই নীতি নেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপির যেসব বিবেচনা কাজ করেছে তা হলো, বিএনপি বুঝতে পেরেছে তারা গত নির্বাচনে অংশ না নিয়ে ভুল করেছে, সেই নির্বাচন ঠেকাতে এবং পরে সরকার পতনে সহিংসতার পথে গিয়ে অযথা শক্তিক্ষয় হয়েছে, দলের ক্ষতি হয়েছে। এবার যে পরিস্থিতিই হোক না কেন, দলটি নির্বাচনে যাওয়ার সুযোগ কোনোমতেই ছাড়বে না। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগে অযথা সহিংসতার পথে গিয়ে শক্তিক্ষয় তাদের লক্ষ্য নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ