বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই ২০২০
Online Edition

খুলনায় অর্থ ও স্বর্ণ নিয়ে স্বর্ণকার পালিয়েছে

খুলনা অফিস: খুলনা মহানগরীতে মোটা অঙ্কের অর্থ ও স্বর্ণ নিয়ে আনন্দ চক্রবর্তী নামে একজন স্বর্ণকার আত্মগোপন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি তিনি বাড়ি ভাড়াও পরিশোধ করেননি। ভাড়া বাড়িও ছেড়ে না যাওয়ায় তার মালপত্র নিয়ে বাড়িওয়ালা বিপাকে পড়েছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক সাধারণ ডায়রি করেছেন পাওনাদাররা।
দেবা জুয়েলার্স নামে শের-এ বাংলা রোডস্থ হাসান টাওয়ারে একটি স্বর্ণের দোকান ছিল আনন্দ চক্রবর্তীর। তিনি দোকানটিও ছেড়ে গেছেন। ফলে পাওনাদাররাও তার হদিস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মো. সুমন সেলিম কর্তৃক ১৬ জানুয়ারি খুলনা সদর থানায় করা সাধারণ ডায়রিতে উল্লেখ করা হয়, নগরীর বানিয়াখামারস্থ জাহিদুর রহমান সড়ক এলাকার মৃত গুরুপদ চক্রবর্তীর ছেলে আনন্দ চক্রবর্তী প্রায় চার বছর ধরে তার বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। তিনি বাড়িওয়ালা সুমনের স্ত্রীর গহনা মেরামতের জন্য দুই ভরি ওজনের একটি চেইন এবং বাড়ি ভাড়া বাবদ এক লাখ ৩৪ হাজার টাকা পরিশোধ করেননি। পাওনা পরিশোধ না করেই ১৫ জানুয়ারি ঘর তালাবদ্ধ করে চলে যান। ফোনে যোগাযোগ করলে আর ফিরবেনা এবং টাকাও পরিশোধ করবেন না বলে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন। বাড়িওয়ালা সুমন ২৫ জানুয়ারি করা দ্বিতীয় ডায়রিতে উল্লেখ করেন, আনন্দ চক্রবর্তীর আত্মগোপনের খবর পেয়ে অনেক পাওনাদারই তার বাড়িতে আসছেন। এতে প্রমাণ করে সে অনেকের কাছ থেকেই টাকা এবং স্বর্ণ নিয়ে কৌশলে পালিয়ে গেছেন। তবে, তার ভাড়া করে কিছু মালামাল থাকায় তিনি অন্য কারো কাছে ঘরটি ভাড়াও দিতে পারছেন না।
অপরদিকে নগরীর কাশেমনগর এলাকার কাজী বেল্লাল হোসেনের স্ত্রী হোসনেআরা বেগম ২০ ফেব্রুয়ারি খুলনা থানায় করা সাধারণ ডায়রিতে উল্লেখ করেন, তিনি স্বর্ণকার আনন্দ চক্রবর্তীকে কানের দুল, চুড়ি ও আংটি তৈরির জন্য দুই ভরি পুরাতন সোনা এবং নগদ ৩০ হাজার টাকা দেন। কিন্তু তিনি ফেরত না দিয়ে দোকান ছেড়ে চলে গেছেন। তাকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। একইভাবে অপর পাওনাদার নগরীর হরিণটানা কৃষ্ণনগর সাচিবুনিয়া এলাকার নূর ইসলাম ব্যাপারীর স্ত্রী নেহারুন বেগম ২৪ ফেব্রুয়ারি খুলনা থানায় করা সাধারণ ডায়রিতে উল্লেখ করেন তিনি দু’টি চেইন, দু’টি কানের দুলসহ এক লাখ টাকার স্বর্ণালংকার রেখে আনন্দ চক্রবর্তীর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ধার নেন। পরে ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু স্বর্ণালংকারগুলো ফেরত না দিয়ে তিনি আত্মগোপন করেন। মোবাইলফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
এছাড়াও তিথি বেগম ৬০ হাজার টাকা, লিপি বেগম ৭০ হাজার টাকা, মো. রমজান ৩০ হাজার টাকা, তুলি বেগম ১৫ হাজার টাকা, মো. মিজান ৩০ হাজার টাকা এবং আনিসুজ্জামান চুন্নু ২২ হাজার টাকাসহ আরও একাধিক ব্যক্তি আনন্দ চক্রবর্তীর কাছে স্বর্ণ এবং টাকা পাবেন বলে সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু তিনি আত্মগোপন করায় পাওনাদাররা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
এ ব্যাপারে আনন্দ চক্রবর্তী পাওনাদারদের অভিযোগের আংশিক সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তিনি অসুস্থ হয়ে ঢাকায় এক বন্ধুর বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কারো কারো তার কাছে পাওনা থাকলেও তারা তা বাড়িয়ে বলছে। তবে, তিনি সুস্থ্য হয়ে ফিরে এসে পাওনা পরিশোধ করবেন বলে জানালেও তার কোন সময়সীমা উল্লেখ করেননি তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ