মঙ্গলবার ২৬ মে ২০২০
Online Edition

কুয়েতে নিষেধাজ্ঞা কেবল খাদেম ভিসায়

সংগ্রাম ডেস্ক : বাংলাদেশীদের জন্য কুয়েতের শ্রমবাজার আবারও বন্ধ হয়ে গেছে বলে যে খবর সংবাদ মাধ্যমে এসেছে, তা পুরোপুরি ঠিক নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। বিডিনিউজ
কুয়েত থেকে টেলিফোনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেছেন, কুয়েত সরকার ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কেবল ভিসা টোয়েন্টি বা খাদেম ভিসার ক্ষেত্রে। অন্য সব ধরনের ভিসায় লোক নেয়ার সুযোগ আগের মতই বহাল আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ কুয়েত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার। সরকারি হিসাবে দেশটিতে প্রায় তিন লাখ বাংলাদেশী বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন।
কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির আরবি দৈনিক আল জারেদা সোমবার এক প্রতিবেদনে জানায়, কর্মী নিয়োগে ‘রেসিডেন্সি পারমিটে’ ব্যাপক অনিয়মের কারণে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটির সরকার।
আল জারেদাকে উদ্ধৃত করে মধ্যপ্রাচ্যের ইংরেজি সংবাদমাধ্যমগুলো প্রতিবেদন প্রকাশ করলে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমেও তা ছাপা হয়।
কুয়েতে সরকারি সফরে থাকা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম মঙ্গলবার টেলিফোনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, খাদেম ভিসার মাধ্যমে কুয়েতে বিদেশী গৃহকর্মী নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী একটি কুয়েতি পরিবার এই ভিসায় এক দেশ থেকে কেবল একজনকে কাজে নিতে পারে।
“কিন্তু কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখতে পেয়েছে, ২০১৬ সালে তাদের শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য আবার খোলার পর থেকে খাদেম ভিসার ক্ষেত্রে অনেক অনিয়ম হয়েছে। পারস্পরিক যোগসাজশে এক পরিবারে একাধিক কর্মী নেয়া হয়েছে। সেখানে যাওয়ার পর অনিয়মিত হয়ে গেছে, তারা আবার অন্য কাজে যোগ দিয়েছে, যা তারা পারে না।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভিসা টোয়েন্টি ছাড়া অন্য সব ধরনের ভিসায় কুয়েতে বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগের সুযোগ আগের মতই বহাল রয়েছে।
২০১৬ সালে নিষেধাজ্ঞা ওঠার পর বিভিন্ন খাতে মোট ৮০ হাজার বাংলাদেশীকে কুয়েত কাজে নিয়েছে বলে জানান তিনি।
শাহরিয়ার আলম বলেন, সোমবার তিনি কুয়েতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মঙ্গলবার কুয়েতের শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।
জনশক্তি রফতানি প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশী শ্রমিকরা প্রথমবারের মতো কুয়েত যাওয়ার সুযোগ পান। ২০০৭ সাল পর্যন্ত মোট চার লাখ ৮০ হাজার বাংলাদেশী শ্রমিক চাকরি নিয়ে সেখানে যান।
এরপর বাংলাদেশী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কিছু ‘অনিয়মের’ অভিযোগ এনে ২০০৭ সালে অনেকটা কৌশলেই শ্রমিক নেয়া বন্ধ করে দেয় কুয়েত।
সরকারি পর্যায়ে দীর্ঘদিনের চেষ্টার পর ২০১৪ সালে কুয়েত আবারও বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিতে রাজি হয়। ওই বছরই সে দেশের একটি কোম্পানি বাংলাদেশ দূতাবাসে ৫৯৩ জন শ্রমিকের চাহিদা পাঠায়।
কিন্তু দেশটিতে বাংলাদেশীর সংখ্যা দুই লাখ পেরিয়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে ২০১৬ সালে আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরে আবার তা তোলা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ