মঙ্গলবার ২৬ মে ২০২০
Online Edition

বাজার বাড়াতে উন্নত পাটপণ্য তৈরিতে গুরুত্ব আরোপ প্রধানমন্ত্রীর

সংগ্রাম ডেস্ক : বাজার বৃদ্ধিতে উন্নতমানের পাটপণ্য তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিডিনিউজ
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় পাট দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পাটের বাজার এখন খুলে গেছে। যতই উন্নতমানের পণ্য তৈরি করতে পারব, ততই আমাদের বাজার বৃদ্ধি পাবে।”
“কৃষি ও শিল্পপণ্য হিসেবে যে বহুমুখী ব্যবহার; এটাই আমাদের জন্য বিরাট সম্পদ।” দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বহুমুখী পাটপণ্য মেলার উদ্বোধন করেন।
পাটের সুতায় তৈরী পাটের শাড়ি এবং পাটের স্যান্ডেল পরে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের সময়ও পাটের হ্যান্ডব্যাগ দেখিয়ে বলেন, “এটা কিন্তু কোনো বিদেশী ব্র্যান্ড না, এটা বাংলাদেশের পাট দিয়ে তৈরি।”
“আমাদের বোনরা আছে- তাদের দেখাই। এখানে বোনরা আছে, তারা ব্যবহার করবে। আর, ছেলেরা আছে, তারা কিনে বউকে একটা উপহার দেবে।”
দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় পাট দিবসের অনুষ্ঠানের মূলমঞ্চ আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকায় সাজানো হয়। মঞ্চের মাঝে বিশাল একটি নৌকার প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়। ওই নৌকার ওপরই টেবিল রাখা হয়। আর টেবিলটি ঢেকে দেওয়া হয়েছিল পাটের তৈরি কাপড়ে।
মঞ্চে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক ও প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো ফয়জুর রহমান চৌধুরী পাটসুতার কাপড়ের তৈরি নীল রঙের ব্লেজার পরেছিলেন।
কৃত্রিম তন্তুর চাহিদা এক সময় বৃদ্ধি পেলেও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এখন পাটের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখন সকলে সচেতন। পরিবেশবান্ধব পণ্য তারা চায়।
“পাট সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। পাট একাধারে কৃষিপণ্য অপরদিকে শিল্পে ব্যবহার হয়। এর চাহিদা কখনো শেষ হতে পারে না।”
পাটের জিন্স সিকোয়েন্স আবিষ্কারের কথা মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পাটের ওপর আমাদের যে অধিকারটা থাকে; সেটাও আমরা নিশ্চিত করেছি।”
গবেষণার ফলে অনেক ধরনের পাটপণ্য উৎপাদন হচ্ছে বলেও প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
পাট দিয়ে উৎপাদিত পণ্যের তালিকা বৃদ্ধির ওপর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, “একটা দুইটা পণ্যের ওপর নির্ভর করতে পারি না। পাটের বহুমুখীকরণ করতে হবে। পাটের রপ্তানি বাড়াতে হবে। নতুন নতুন বাজার ধরতে হবে।”
পরে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে খুলনায় চারটা এবং সিরাজগঞ্জে একটা বন্ধ পাটকল চালুর কথা বলেন।
 বেসরকারি খাতকে সব থেকে বেশি সুবিধা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সরকারিভাবে করলে কিছুদিন ভালো চলে তো সরকারি বেতন তো পেয়েই যাবে, কাজ করলেই বা কী আর না করলেই বা কী এই মানসিকতাটা থাকা উচিত না।”
শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই শিল্পটা আপনাকে সবরকম জীবন-জীবিকার সহায়তা দিচ্ছে। সে শিল্পটাকে বাঁচাতে হবে, তার উৎপাদন বাড়াতে হবে।”
সরকারি পাটকলের পুরনো যন্ত্রপাতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যন্ত্রপাতিগুলো অত্যন্ত পুরনো। এই মেশিনারিজগুলো সব বদলাতে হবে। নতুন মেশিনারিজের ব্যবস্থা করতে হবে। আপনারা তো জানেনই, অর্থমন্ত্রীর কাছে অর্থ চাইতে গেলে তো একটু বাধা দেবেই।”
তিন হাজার কোটি টাকা দেনা মিটিয়ে সরকারি বন্ধ পাটকল পুনরায় চালুর কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “তবে, তিনি একটা কাজ করে দিয়েছেন, এই পাটকলগুলোর তিন হাজার কোটি টাকা ব্যাংকে ঋণ ছিল। এই তিন হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋণের টাকা মওকুফ করে দেওয়া- এটা কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে আমরা করে দিয়েছি। বিরাট বোঝা ছিল, এই বোঝা আমরা লাঘব করে দিয়েছি।
“এখানে যে একেবারে কৃপণতা করা হয়, তা নয়। সব দায়দেনা মুক্ত করে তারপর কিন্তু পাটকলগুলো আমরা চালু করে দিয়েছি। এটা সচল রাখার দায়িত্ব; যারা দায়িত্বে আছেন তাদের, শ্রমিক ও কর্মচারীদের।”
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও শ্রমিকরা যথাযথভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন বলেও প্রধানমন্ত্রী আশা করে বলেন, “সমস্যা যা দেখা দেয়; আমরা তা সমাধান করব।”
পাট উৎপাদন, পাট সংগ্রহ ও পাট সংরক্ষণে আধুনিকতার ওপর গুরুত্বারোপও করেন প্রধানমন্ত্রী।
‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০’ বাস্তবায়নের ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
ইতোমধ্যে ১৭টি পণ্যে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পাট দিবস উপলক্ষ্যে দুই বিভাগে রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রথম তিনজন শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
এছাড়াও পাটের উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য ১১ ক্যাটাগরিতে ১২ জনের হাতে প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার তুলে দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী মেলা পরিদর্শন করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ