শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

দুর্নীতি-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার

খুলনা অফিস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মহান স্বাধীনতার এ মাসেই আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হচ্ছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আমাদের এই অগ্রযাত্রা কেউ ব্যাহত করতে পারবে না।’ শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে খুলনা মহানগরীর খালিশপুরের ঈদগাহ ময়দানে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের ৫৮তম কনভেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন। শনিবার সকাল ১১টায় খুলনায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

প্রকৌশলীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেটি হবে ক্ষুধা, দারিদ্র, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিমুক্ত। আধুনিক, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ। জ্ঞান বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির বাংলাদেশ। এ কাজে আপনারাই হচ্ছেন অগ্রসৈনিক। আমরা উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াতে চাই। উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আপনারা পেশাগত দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করুন।’

বিভিন্ন খাতে সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। গত বছরে আমাদের প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.২৮ শতাংশ। দারিদ্র্যের হার ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলারের ওপরে। মাথাপিছু আয় এক হাজার ৬১০ মার্কিন ডলার। সব ক্ষেত্রে আমরা ব্যাপক উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছি।’

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতো বড় বাজেট আমরা নিয়েছি, বাজেটে এতো উন্নয়ন প্রকল্প আর কোনো সরকার নিতে পারেনি। গ্রামপর্যায়ে আমরা উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছি। যেন তৃণমূল থেকে উন্নয়নটা উঠে আসে। আমরা জনগণের সেবক, এ বিষয়টি মাথায় রেখে উন্নয়নের কাজ করছি। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের ফল জনগণ ভোগ করছে।

বিদ্যুৎ সেক্টরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, ভারতের সঙ্গে আন্তঃগ্রিড নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, ভুটান ও নেপালের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। যার মাধ্যমে আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা বলয় গড়ে উঠবে। আমরা ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছি। পর্যায়ক্রমে এ আমদানির পরিমান একহাজার মেগাওয়াট হবে। নেপাল ও ভূটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন বিশ্ব একটি গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে। এ বৈশ্বিক গ্রামে এককভাবে উন্নতি করা প্রায় দুঃসাধ্য। অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি লাভ করতে হলে আন্তঃমহাদেশীয়, আন্তঃদেশীয় এবং আঞ্চলিক সংযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে।’

শনিবার বেলা ১১টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী কনভেশন মঞ্চে উপস্থিত হন। এর আগে সকাল ১০টা ৪৭ মিনিটে খুলনার বানৌজা তিতুমীর হেলিপ্যাড গ্রাউন্ডে তাকে বহনকারী বিমান অবতরণ করে। সেখান থেকে সড়ক পথে তিনি খালিশপুরস্থ আইইবি কেন্দ্রে পৌঁছান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ