সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

শীতলক্ষ্যা নদীর অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন

স্টাফ রিপোর্টার : শিল্প কারখানার বেপরোয়া দখল, দূষণ ও ভরাটের ফলে শীতলক্ষ্যা নদীর অস্তিত্ব এখন হুমকির সম্মুখীন। কারখানাগুলোতে শিল্প বর্জ্য পরিশোধনের জন্য ইটিপি স্থাপন করলেও অনেকে তা সার্বক্ষণিক চালু রাখছে না। ফলে দূষণ প্রকট আকার ধারণ করেছে। মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। দখল-দূষণ, ভরাট রোধ করে শীতলক্ষ্যা বাঁচাতে হলে অবিলম্বে নদী তীরবর্তী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও কারখানায় সার্বক্ষণিক ইটিপি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন পবাসহ ১৭টি সংগঠনের উদ্যোগে দখল-দূষণ রোধ করে শীতলক্ষ্যা বাঁচাও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও কারখানায় ইটিপি বাধ্যতামূলক করার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তারা এ দাবি জানান।
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-র চেয়ারম্যান আবু নাসের খান-এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বাঁচাও শীতলক্ষ্যা নদী আন্দোলনের আহ্বায়ক বোরহান মেহেদী, পবা’র সহ-সম্পাদক এম এ ওয়াহেদ, পুরান ঢাকা নাগরিক অধিকার উদ্যোগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন, পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চ-এর সভাপতি আমির হাসান মাসুদ, সুবন্ধন সমাজ কল্যাণ সংসদ-এর সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান, বাঁচাও শীতলক্ষ্যা নদী আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহ্বুব সৈয়দ, ডাব্লিউবিবি-ট্রাস্ট-এর কর্মসূচি ব্যবস্থাপক সৈয়দা অনন্যা রহমান, সচেতন নগরবাসীর সভাপতি জিএম রোস্তম খান, নগরবাসী সংগঠনের চেয়ারম্যান হাজী শেখ আনসার আলী, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর হিরু, ইয়ুথ সান-এর সমন্বয়ক শিকদার আরিয়ান তানভীর প্রমুখ।
আবু নাসের খান বলেন, বিভিন্ন কলকারখানায় উৎপাদিত বিষাক্ত বর্জ্য, টেক্সটাইল মিলের রাসায়নিক বর্জ্যসহ অন্যান্য বর্জ্য সরাসরি নদীতে না ফেলে ইটিপির মাধ্যমে পরিশোধন করতে হবে এবং ইটিপি সর্বক্ষণ চালু রাখতে হবে। এ ছাড়াও নরসিংদীর পলাশসহ শীতলক্ষ্যার দু’পাড়ের অবৈধ সকল স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে।
বাঁচাও শীতলক্ষ্যা নদী আন্দোলন-এর আহ্বায়ক বোরহান মেহেদী বলেন, শীতলক্ষ্যা নদীতে বালু তুলে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা রাতারাতি অসম নদী ড্রেজিং করার ফলে পাশর্^বর্তী গ্রামসমূহ ভাঙনের কবলে পড়েছে। তাছাড়া নদীর তীর  কেটে নির্বিচারে বালুদস্যুতার ফলে ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, শীতলক্ষ্যা নদী পাড়ের সোনার জমিগুলি ছিল সবুজ ফসলে ভরা। নদীতে ছিল প্রচুর প্রজাতির মাছ। আজ তা অতীত গল্প মাত্র। বাস্তব হচ্ছে কল্লোলিনী শীতলক্ষ্যা এখন আর বহমান নয়। আমৃত্যু লালিত শীতলক্ষ্যা হারিয়েছে তার সতীত্ব। একদল লুটেরা লুট করে নিয়েছে শীতলক্ষ্যার যৌবন। শীতলক্ষ্যা এখন স্থবির, জীর্ণ ও অসহায়। নদীপথ যোগাযোগ ব্যবসা-বাণিজ্যসহ জীবন উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা ছিল। এই নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা। এসব প্রতিষ্ঠানগুলি ধীরে ধীরে নদীর জমি ভরাট করে দখল করে ফেলেছে। শিল্প প্রতিষ্ঠানের দখল ও দূষণের ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এই নদীটি। বেকার হয়ে পড়েছে শতশত জেলে পরিবার। নরসিংদী পলাশের অংশের পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে সেভেন রিংস সিমেন্ট, তাওহদী সিমেন্ট, কাজী সিমেন্ট, সেমরী ডাইং, ফৌজী চটকল মিল, প্রাণ আরএফএল গ্রুপ, ক্যাপিটাল পেপার মিল, জনতা জুট মিল, দেশ বন্ধু সুগার মিলসহ অসংখ্য ছোট বড় শিল্প কারখানা। আর এসব শিল্প কারখানাগুলির বর্জ্যও সরাসরি ফেলা হচ্ছে নদীতে। কোম্পানিগুলি ব্যক্তি মালিকানা কৃষি জমি ক্রয় করে এবং পরবর্তীতে বর্জ্য, বালি ও মাটি ফেলে ভরাট করে কারখানার সীমানা বৃদ্ধি করেছে ও করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ