সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

তুমব্রু সীমান্ত থেকে ভারী অস্ত্র সরিয়েছে মিয়ানমার -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ২৭ মার্চ থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মিয়ানমার সীমান্ত পুলিশ বিজিপি একসঙ্গে সীমান্তে টহল দেবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, বান্দরবানের তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী যেসব ভারী অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিয়েছিল তারা সেগুলো সরিয়ে নিয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ‘দ্য মেট্রোপলিটন কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’-এর ৩১তম সাধারণ সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ২৭ মার্চ থেকে সীমান্তে বিজিবি ও বিজিপি একসঙ্গে টহল দেবে। আমরা এও বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা শিগগিরই তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবেন।’
গত ৯ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল অং সো মাইকিং করে ঘোষণা দেন, ‘নো-ম্যান্স ল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভূমির মালিক মিয়ানমার। তাই রোহিঙ্গাদের নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করা আইনত অবৈধ। দ্রুত নো-ম্যানস ল্যান্ড থেকে সরে না গেলে মিয়ানমার সেনাবাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।’ এরপর ২০ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের রাখাইনের ঢেঁকিবুনিয়া বিজিপি ক্যাম্পে বিভাগীয় কমিশনার পর্যায়ে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে গিয়ে মিয়ানমার সরকার গত ১ মার্চ তমব্রু সীমান্তের কাছাকাছি অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে। অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর রাতের আঁধারে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। এ নিয়ে শুক্রবার দুইপক্ষের মধ্যে পতাকা বৈঠকও হয়েছে।
বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা শিগগিরই দেশে ফিরে যেতে পারবেন। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়, তবে বছরের পর বছর রোহিঙ্গাদের এখানে রাখার কোনো মানে হয় না।
গত কয়েকদিন ধরে বান্দরবানের তুমব্রু সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের হঠাৎ ভারী অস্ত্র ও অতিরিক্ত সৈন্য প্রবেশ করেছে। তুমব্রু সীমান্তে অবস্থানরত প্রায় ৬ হাজার রোহিঙ্গাকে ভয় দেখাতেই তাদের এ অবস্থান বলে ধারণা করা হচ্ছে। যে কোনো ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এড়াতে টেকনাফ সীমান্তজুড়ে অবস্থান নেয় বিজিবি ও কোস্ট গার্ড।
শুক্রবার বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (টেকনাফ-২) লে. কর্নেল আসাদুজ্জামান চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, তুমব্রুসহ টেকনাফ উপজেলা সীমান্তের হোয়াইক্যং, উনচিপ্রাং, ঝিমংখালী, খারাংখালী, হ্নীলা, লেদা, নোয়াপাড়া, দমদমিয়া, টেকনাফ সদর, নাজির পাড়া, সাবরাং ও শাহপরীরদ্বীপ এলাকা সীমান্তে বসবাসরত নাগরিকদের নাফ নদীতে মাছ ধরা ও চলাচলে সীমাবদ্ধতা বজায় রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ