বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে -লিসা কার্টিস

স্টাফ রিপোর্টার : রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় এবং তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টা লিসা কার্টিস। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়াও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে সে লক্ষ্যেও কাজ করবে মার্কিন সরকার।
গতকাল শনিবার কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ট্রানজিট ক্যাম্পে এসব কথা বলেছেন লিসা কার্টিস। এ সময় তিনি কফি আনান কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়নের ওপরও জোর দেন। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক সাড়া দেয়ায় বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের জনগণের উচ্ছসিত প্রশংসা করেন লিসা কার্টিস। কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে মার্কিন প্রতিনিধি দলটি উখিয়া বালুখালী ও টেকনাফের শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।
লিসা কার্টিস ব্রিফিংকালে বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন চায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার। পাশাপাশি কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন চেয়ে তিনি বলেন, নির্যাতিত এসব রোহিঙ্গাদের পক্ষে কথা বলার জন্য বিশ্বে এখনও অনেক লোক আছে। লিসা কার্টিস বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে চলমান সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট বলেন, ২৫ আগস্টের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সরকারের শীর্ষ একজন কর্মকর্তা উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে রোহিঙ্গাদের খোঁজখবর এবং নির্যাতনের কথা শোনেন। পরে মিয়ানমার সেনা, বিজিপি ও উগ্রপন্থী রাখাইন যুবকের হাতে ধর্ষিত, নির্যাতিত, গুলীবিদ্ধ, স্বজনহারা বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা নারী পুরুষের সঙ্গে একান্ত আলাপ করেন। আলাপকালে প্রতিনিধিদল জানতে চান, তাদের কী ধরনের অত্যাচার চালানো হয়েছে। প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গাদের কথা শুনে অনেকটা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।
বার্নিকাট বলেন, আমরা আশ্বস্ত করতে চাই, রোহিঙ্গারা যাতে মিয়ানমারে ফেরত যেতে পারে সেজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলে আমরা কাজ করছি। রোহিঙ্গারা যাতে শুধু মিয়ানমারেই নয়, নিজেদের গ্রামগুলোতে ফিরতে পারে সেজন্যও আমরা দেশটির সরকারের সঙ্গে কাজ করব। রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মিয়ানমার সরকার কী করছে, আমরা তা-ও জানতে চাইব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ