বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

জলবায়ু পরিবর্তন বড় হুমকি বাংলাদেশের জন্য

স্টাফ রিপোর্টার: নগর পরিকল্পনায় জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুটাকে সবার আগে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেছেন নগর পরিকল্পনা বিদরা। তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য বড় হুমকি। অদূর ভবিষ্যতে হাড়ে হাড়ে সেসব টের পাবো আমরা। এখন থেকে আমাদের সে ব্যাপারে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। এজন্য অবকাঠামো উন্নয়ন ও নগর পরিকল্পনায় জলাবায়ু পরিবর্তন বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। আর এজন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। কেননা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন পরিকল্পনাবিদরা, এটার বাস্তবায়ন করে রাজনৈতিক সরকার। কোন রাজনৈতিক সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া সুষ্ঠুভাবে কোন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব না।  গতকাল শনিবার রাজধানীর প্ল্যানার্স টাওয়ারে ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানার্স বাংলাদেশ (বিআইপি) ও ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইসিসিসিএডি) যৌথ আয়োজিত “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়াশীল নগর পরিকল্পনা” বিষয়ক আলোচনা সভায় বক্তারা একথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন-বিআইপির সভাপতি ড. একেএম আবুল কালাম।
আইসিসিসিএডি’র পরিচালক ড. সালিমুল হক বলেন, বাংলাদেশের নগর পরিকল্পনা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলোকে আমি দুই ভাগে আলোচনা করে থাকি। একটি অংশে ঢাকা নিয়ে আলোচনা করি এবং অপরাংশে সারাদেশের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করি। কেননা, ঢাকার সমস্যাগুলো এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এগুলো সমাধান করা সম্ভব নয়। সংস্কার করে জোড়াতালি দিয়ে চালাতে হবে। নতুন শহরগুলো পরিকল্পিতভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে সমস্যার সমাধান করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলোকে মাথায় রেখে ঢাকার বাইরের শহরগুলোকে গড়ে তোলা গেলে দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এজন্য শহরের জলাধারগুলো রক্ষা করে সেগুলোকে মানুষের ব্যবহার উপযোগী করতে গড়ে তুলতে হবে। আর বড় কথা হচ্ছে স্মার্ট বা বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে হলে, সবার আগে সেই শহরের মানুষগুলোকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। বর্তমান সরকার দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১২টি পরিকল্পিত শহর গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, এটা করা গেলে, ওই শহরের মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকা বা অন্য কোথাও যাওয়া লাগবে না। কিন্তু মেয়ররা এ বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে না। তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে।             
বিআইপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক গোলাম রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশে। এখন দিনে ৩৪ ডিগ্রী তাপমাত্রা থাকলে রাতে থাকছে ১৭ ডিগ্রি। এছাড়াও অতিবৃষ্টি, অতিখরা, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানান বিষয়ে আমরা সেটা অনুভব করতে শুরু করেছি। এটা প্রতিরোধে আমাদের এখন থেকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নিম্ন আয়ের দেশ হওয়ায় আমরা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত আন্তর্জাতিক কিছু সহায়তা পাচ্ছি। নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হলে আমরা সেই সুবিধাগুলো পাবো না। এজন্য আমি সরকারের কাছে অনুরোধ জানাবো এ স্বীকৃতিটা আরো অন্তত পাঁচ বছর পরে নেয়া হোক। আর নিলেও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সুবিধাগুলো যেন বহাল রাখা যায়, সে বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। নইলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে দেশ অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যা আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা দিয়ে মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না।
বিআইপির সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য বড় দুর্যোগ, এটা নতুন করে বলার কিছু নেই। দেশের সচেতন নাগরিকরা এসব বিষয় অবহিত। দেশি-বিদেশী সহায়তায় বাস্তবায়িত নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষেরাও এসব বিষয়ে সচেতন হয়েছে। তবে দেশের শহরগুলোকে নিয়ে গঠিত মাস্টারপ্ল্যানগুলো জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে সহায়ক কিনা, সেটা ভালভাবে যাচাই-বাছাই করতে হবে।
বিআইপির সভাপতি ড. একেএম আবুল কালাম বলেন, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার মতো অনেক নীতি রয়েছে বাংলাদেশে। কিন্তু সেসব নীতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগুচ্ছে, একারণে আমরা আশাবাদি সামনের দিনগুলোতে যেসব সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন, তারা পরিকল্পিত, বাসযোগ্য ও জলবায়ু পরিবর্তন সহায়ক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে ভূমিকা পালন করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ