বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ইয়েমেনে জীবন বাঁচে ডাস্টবিনের খাবার খেয়ে

ইয়েমেনীদের ক্ষুধা মিটছে ডাস্টবিনের খাবারে

১ মার্চ, ডি ডব্লিউ : যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনের ২০ লক্ষেরও বেশি মানুষ গৃহহীন। মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। অনেকেরই সম্বল এখন ডাস্টবিনের খাবার। তেমনই এক পরিবারকে নিয়ে আজকের আয়োজন।

ইয়েমেনের রুজাইক পরিবার প্রাণভয়ে নিজেদের ঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে লোহিত সাগরের তীরের হোদেইয়া বন্দরের কাছের একটি জায়গায়। আপাতত প্রাণ বাঁচাতে পারলেরও প্রায়ই সবার ভাগ্যে খাবার জোটে না।

২০১৫ সাল থেকে যুদ্ধ চলছে ইয়েমেনে। তবে হুতি বিদ্রোহীদের উৎখাত করে প্রেসিডেন্ট হাদিকে ক্ষমতায় ফেরাতে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন বাহিনী হামলা শুরু করার পর থেকে পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হচ্ছে। ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত। যাঁরা বেঁচে আছেন তাদের অনেকেরই রুজি-রোজগার বন্ধ। অনেকেই প্রথমে রাস্তাঘাট থেকে প্লাস্টিকের বোতল বা ধাতব ক্যান বিক্রি করে সামান্য কিছু আয় করত। সে পথও ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে।

আগে প্রতি কেজি প্লাস্টিকের বোতল বা ধাতব ক্যান ৫০ ইয়েমেনি রিয়ালে বিক্রি করা যেত। এখন আর সেই দাম পাওয়া যায় না। কোনো দোকানেই এখন আর প্রতি কেজি প্লাস্টিক বা ধাতব বস্তু ১০ রিয়ালের বেশি দামে বিক্রি করা যায় না। ঘরে খাবার নেই, টাকাও নেই। তাহলে উপায়? উপায় একটা বের করেছে রুজাইক পরিবার। আগে বোতল আর ক্যান কুড়াতো ডাস্টবিন থেকে। এখন তারা খাবারও কুড়ায়। হ্যাঁ, অনেকদিন ডাস্টবিন থেকে কুড়ানো খাবারেই কোনোরকমে ক্ষুধা মেটায় রুজাইক পরিবার।

কী পায় ডাস্টবিনে?

১১ বছর বয়সি আয়ুব মোহাম্মেদ রুজাইক বললো, ‘‘অন্যরা যা ফেলে দেয়, সেই খাবার কুড়িয়েই আমরা খাই, পান করি। আমরা মাছ, মাংস, আলু, পেঁয়াজ, ময়দা ইত্যাদি কুড়িয়ে নিয়ে রান্না করে খাই।’’ রুজাইক পরিবারের প্রধান মোহাম্মেদ রুজায়েক বললেন, ‘‘এই দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতে আমরা চাই তারা যুদ্ধটা বন্ধ করুক। সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে একটাই প্রার্থনা যুদ্ধ বন্ধ হোক।’’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ