শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বন্দী খালেদা জিয়া অনেক বেশি শক্তিশালী

ইব্রাহিম রহমান : বকশীবাজারে প্রতিষ্ঠিত বিশেষ আদালতে বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের পর দেশের রাজনীতি এখন এক জায়গায় এসে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ঐ রায় আদালত দিয়েছে সরকারের কোন হাত নেই। বাংলা ভাষায় একটা কথা আছে, ‘চোরের মন পুলিশ পুলিশ।’ মানুষ বিশ্বাস করে এই বিচারে সরকারের হাত ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে যখন বলা হয়, সাজার কারণে খালেদা জিয়া বা বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে তাতে সরকারের কিছু করার নেই। নির্বাচন কারো জন্য অপেক্ষা করবে না। সরকারের এসব কথা থেকেই মানুষের বিশ্বাস আরও বদ্ধমূল হয় যে, আসলে সরকারের ইচ্ছায়ই এই রায় হয়েছে। তাছাড়া সরকারের লোকেরা রায়ের পূর্বে নিশ্চয়তা দিয়েই বলতেন যে, খালেদা জিয়ার সাজা হবেই। সরকারের লেজুড় গৃহপালিত বিরোধী দলের নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তো বলেই ফেললেন যে, ১৫ দিনের মধ্যেই খালেদা জিয়া জেলে যাবেন। ঠিক ১৫ দিনের মাথায়ই খালেদা জিয়া জেলে গেলেন। সরকারের ভবিষ্যদ্বাণীই প্রমাণিত হলো। এরপরও কি মানুষ বিশ্বাস করবে যে, মামলায় সরকারের হাত নেই। তাছাড়া সরকার আর একটা যুক্তি দেখায়, এই মামলাটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার শুরু করেছে। অর্থাৎ সরকার দায় এড়াতে চায়। সরকারের লোকেরা যে বোকা একথা না বলেও তাদের জিজ্ঞাসা করা যায় যে, ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না’। 

এদিকে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের রাজনীতিতেও একটিই মাত্র কর্মসূচি তা হলো খালেদা জিয়ার মুক্তি। অবস্থান কর্মসূচি, গণ-অনশন, র‌্যালি, সমাবেশ এবং গণস্বাক্ষর কর্মসূচির একই লক্ষ্য খালেদা জিয়ার মুক্তি। বিএনপি’র সব অঙ্গসংগঠনেরও একই কর্মসূচি খালেদা জিয়ার মুক্তি।

পথেঘাটে, রাস্তায়, চায়ের দোকানে, বাসে লঞ্চে, স্টিমারে আড্ডায় সব জায়গায় সকলের মুখে একই কথা খালেদা জিয়ার মুক্তি। মিডিয়ায়ও সকল সংবাদের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খবর হলো খালেদা জিয়া। সম্পাদকীয়, উপ-সম্পাদকীয় ও লেখা হচ্ছে খালেদা জিয়াকে নিয়ে। অর্থাৎ সকলের মুখে এখন একই বুলি খালেদা জিয়া। দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে পত্র-পত্রিকায় টিভিতে এখন বাংলাদেশ সংক্রান্ত সংবাদই হলো খালেদা জিয়া সংক্রান্ত। খালেদা জিয়া এখন ‘টক অফ দ্য কান্ট্রি।’ ভারতের তামিলনাড়–র জনপ্রিয় নেত্রী জয় ললিতাকে ঐ প্রদেশের লোকেরা আম্মা বলে ডাকত, বাংলাদেশে জনপ্রিয়তার কারণে খালেদা জিয়া হয়েছিলেন দেশনেত্রী, কারারুদ্ধ হওয়ার পর আবেগাপ্লুত জনতা এখন খালেদা জিয়াকে মা ডাকতে শুরু করেছেন। এর দ্বারা প্রমাণিত হয়, খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা এখন সর্বোচ্চ মাত্রায়। অর্থাৎ বন্দী খালেদা জিয়া মুক্ত খালেদার চেয়ে অনেক অনেক বেশি জনপ্রিয়। শুধুমাত্র বাংলাদেশের জনকণ্ঠ ভারতীয় কতিপয় পত্রিকা ছাড়া সারা পৃথিবীতে সকল মিডিয়ায় খালেদা জিয়া এখন শীর্ষ সংবাদ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রভাবশালী দেশসমূহ খালেদা জিয়ার মামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ন্যায় বিচারের আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশে বিএনপি ছাড়াও ড. কামালসহ সরকারের বাইরে সব দলই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অরাজনৈতিক সুশীল সমাজও বিচারের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অর্থাৎ জিয়া অরফানেজ মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিহিংসা থেকে খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখার জন্যই করা হয়েছে, এই নিয়ে প্রায় সকল মহলই একমত। তার প্রতি যে ন্যায়বিচার করা হয়নি এ ব্যাপারেও প্রায় ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়া আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে যে বয়ান পেশ করেন, তার অংশবিশেষ এখানে তুলে ধরা হলো: ‘ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে কিনা সে ব্যাপারে দেশবাসীর ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে। আমরাও শংকিত। আপনি জানেন, এই মামলাসহ আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন মামলার তদন্ত ও বিচার কাজ চলার সময় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য এবং শাসক দলের কোনো কোনো নেতা আমাকে দোষী সাব্যস্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন। আমাকে অভিযুক্ত করে বিরূপ প্রচারণা চালিয়েছেন। যেন তারা মামলার রায় কি হবে তা আগাম জানেন। অথবা তারা তাদের বক্তব্যে মাননীয় আদালতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। তদন্ত ও বিচারাধীন বিষয়ে ক্ষমতাসীনদের এহেন অপপ্রচার শুধু ন্যায় বিচারকেই প্রভাবিত করে না, বরং তা আদালত অবমাননার শামিল। এখানেই শেষ নয়, মামলার রায়ে আমার সাজা হবে এবং আমাকে কাশিমপুর কারাগারে রাখা হবে বলে ইতিমধ্যে কোনো কোনো মন্ত্রী প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন। কোনো কোনো মন্ত্রী এবং শাসক দলের কোনো কোনো নেতা প্রায় নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন, আমাকে রাজনীতির অঙ্গন থেকে বিদায় করে দেয়া হবে। 

মাননীয় আদালত,

আপনি জানেন, দুনিয়ায় ন্যায়বিচার আসমান থেকে নাযিল হওয়া কোনো অলৌকিক বস্তু নয়। এটা বেহেশত থেকে টুপ করে পড়া কোনো মেওয়া নয়। আল্লাহ্ আহ্কামুল হাকেমিন অর্থাৎ সকল বিচারকের বিচারক। তিনি পরম ন্যায়বিচারকারী। তিনি সর্বোচ্চ বিচারক। তিনি দুনিয়াতেও ন্যায়বিচার চান। অবিচার ও অন্যায় বিচারের জন্য তিনি কঠিন সাজাও নির্ধারণ করে রেখেছেন। বিশ্বাসী মানুষ হিসেবে আমরা তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসও করি। বিচারকের আসনকে জিল্লুল্লাহ বা আল্লাহ্র ছায়া হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের অভিপ্রায় হচ্ছে, ঐ আসনে যিনি বসবেন, তিনি সুবিচার করবেন। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন। 

মামলাটি যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এ প্রসঙ্গে সুপ্রীমকোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এসএ টিভি’র লেট এডিশনে ঐদিন বলেন, ১/১১-এর দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হয়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা ছিল ৭টি। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর সরকারী প্রভাব খাটিয়ে ১টি মামলার কোনটি কোয়াশ করা হয়েছে, কোনটি খারিজ করা হয়েছে, কোনটিতে শেখ হাসিনার পক্ষে রায় প্রদান করা হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, দুদকের উদ্যোগে দায়ের করা এসব মামলার একটিতেও দুদক আপীল করে নাই। অথচ খালেদা জিয়ার মামলাগুলো সব সচল রাখা হয়েছে এবং খালেদা জিয়ার মামলাগুলোতে দুদক অতিউৎসাহ প্রদর্শন করে চলছে। 

১/১১ এর সময় দুই নেত্রীর বিরুদ্ধেই দুর্নীতির মামলা হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে তার নিজের মামলাগুলো কিভাবে খারিজ করা হয়েছে তার একটি উদাহরণ বেগম খালেদা জিয়া তার বয়ানে উল্লেখ করে আদালতকে উদ্দেশ্য করে তার বয়ানে বলেন, এই প্রসঙ্গে আমি একটি নজির উল্লেখ করতে চাই। মইন উদ্দিন-ফখরুদ্দীন এর আমলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুদক ঐ মামলাটি দায়ের করেছিল।

বার্জ মাউন্টেড দুর্নীতি মামলা নামে বহুল আলোচিত সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল যে, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে একটি বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানীকে কাজ দেয়ার ব্যাপারে টেন্ডারের সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর দফতর ১৯৯৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সারসংক্ষেপটি গ্রহণ করে। এরপর ১৯৯৭ সালের ৮ অক্টোবর ‘বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ নামে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য ধানমন্ডিতে একটি বাড়ি ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা দামে কেনা হয়।

 শেখ হাসিনার নিয়ন্ত্রণাধীন ‘বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ এর অন্যতম সদস্য ছিলেন সামিট গ্রুপ ও ইউনাইটেড গ্রুপের মালিকগণ। সামিট গ্রুপ ও ইউনাইটেড গ্রুপের মালিকরাই আবার উল্লেখিত টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী মেসার্স ওয়ার্টশিল্প গ্রুপের স্থানীয় প্রতিনিধি ছিলেন। সেই স্থানীয় প্রতিনিধিগণ ১৯৯৭ সালের ৭ অক্টোবর ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং ১৯৯৭ সালের ৮ অক্টোবর তারিখে ৫৫ লাখ টাকা ‘বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ দান করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা তাদের অনুকূলে ১৯৯৭ সালের ১১ অক্টোবর তারিখে সার সংক্ষেপ অনুমোদন এবং ১৯৯৭ সালের ১৬ অক্টোবর তারিখে বিদ্যুৎ ক্রয় ও বাস্তবায়ন চুক্তি সই করেন। এরপর আবার ১৯৯৭ সালের ২৪ নবেম্বর ঐ স্থানীয় প্রতিনিধিগণ ‘বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর জমি কেনা বাবাদ আরো এক কোটি টাকা প্রদান করেন। আমাদের হাইকোর্ট বিভাগ ঐ মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন। ‘শেখ হাসিনা বনাম রাষ্ট্র’ এই মামলাটির বিশদ বিবরণ ৬৩ ডিএলআর ১৬২ তে উল্লেখ রয়েছে। (দৈনিক সংগ্রাম ৩১ শে জানুয়ারি ২০১৮)। উল্লেখযোগ্য যে এই খারিজের বিরুদ্ধে দুদক আপিল করেনাই।

হলমার্ক, বেসিক ব্যাংকের অর্থ লোপাট সম্প্রতি প্রকাশিত হলে তা ব্যাংক থেকে একটি কোম্পানির নামে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণের নামে প্রদান করা হয়েছে। একেকটা ব্যাংকের অনুমোদনের নামে শত শত কোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্য হয়েছে। নতুন অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যাংকগুলোর কোনো কোনোটি দেউলিয়াত্ব থেকে রক্ষায় সরকার নতুন করে মূলধন যোগান দিয়ে দুর্নীতিকে সরকারই উৎসাহ দিচ্ছে। এদিকে দুদুকের নজর দেয়ার সময় নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা ডিজিটাল চুরির এখনও কোনো ফয়সালা হয়নি। এমনকি তদন্ত রিপোর্টটিও আজ পর্যন্ত প্রকাশ করা হলো না। পুলিশের অপরাধের তো সীমা-পরিসীমা নেই এই নিয়ে দুদকের কোনো ভাবনা নেই।

সাংবাদিক সাগর-রুনী হত্যার আজও তদন্ত হলো না। ৬ বছরে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ ৫৪ বার পিছিয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ধরা পড়লে অর্থমন্ত্রী মনে করেন ওগুলো হাতে ময়লা। দুদকের নজর শুধু বিরোধীদলের দিকে। সরকারি দলের লোকদের দিকে তাকালে যেন তাদের চোখ অন্ধ হয়ে যায়। সরকারি রাঘব বোয়ালদের ধরতে দুদক নারাজ। কিছু চুনোপুঁটি ধরে দুদক সাধারণ মানুষের চক্ষু ধোলাই (ঊুব ধিংয) করছে মাত্র।

গত ২৩ জানুয়ারি এক আদেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের শিক্ষামন্ত্রীর পিও মোতালেব হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের উচ্চমান সহকারী নাসির উদ্দিনকে আরেক আদেশে বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, যারা দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের দায়ে গ্রেফতার হয়েছেন তাদের নির্বাহী ক্ষমতা বা কোনো নীতি নির্ধারণী ক্ষমতা নেই। এসব নি¤œপদস্থ কর্মকর্তারা মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে কাজ করে থাকেন। এসব কর্মকর্তা দুর্নীতির অনুঘটক হতে পারেন কিন্তু মূলহোতা নন। উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগে এসব কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হলেও এরা কাদের সাথে এসব লেনদেন করতেন, কারা ফাইলপত্র সই করতেন, তাদের অবৈধ কাজে সহযোগিতা করতেন এসব বিষয়ে কোনো অনুসন্ধান করার প্রয়োজনবোধ করছে না কর্তৃপক্ষ। কারণ এক্ষেত্রে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসার আশঙ্কা থাকে। অতএব, অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য চুনোপুঁটি, কোনোভাবেই মূল নায়ক ধরার ইচ্ছা সরকারের নেই। ফলে রাঘব বোয়ালরা সবসময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। তাদের গায়ে একটা ফুলের টোকাও লাগে না।

খালেদা জিয়া পেশাগতভাবে কিংবা পারিবারিকভাবে রাজনীতিতে আসেননি। তিনি ছিলেন নিতান্তই একজন গৃহবধূ। স্বামী হত্যার পর দেশের টানে দলের প্রয়োজনে অবস্থার চাপে তিনি রাজনীতিতে এসেছেন। রাজনীতিতে যোগদান করেই তিনি রাজপথ দখলে নিয়ে নিয়েছেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তিনি সাফল্যের স্বর্ণশিখরে পৌঁছে গেছেন। হুমকি-ধামকি, লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে তিনি নিজেকে আপোসহীন নেত্রী হিসেবে প্রমাণ করেছেন। স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তিন জোটের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন আপোসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া। দেশবাসী তার নাম দিয়েছেন দেশনেত্রী।

’৯১ সালে গণতান্ত্রিকভাবে প্রথম নির্বাচনেই দল যেমন সংখ্যা গরিষ্ঠতা পায়, তেমনি তিনি নিজে ৫টি আসনে জয়লাভ করেন। ৫টি আসনে জয়লাভ করে তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি সত্যিকার অর্থেই দেশনেত্রী। ঢাকার বাইরে ৪টি এবং ঢাকায় ১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সব কয়টি আসনে তিনি জয়লাভ করেছেন। পক্ষান্তরে রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নিয়ে শেখ মুজিবের কন্যা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় দুই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুই অখ্যাত লোকের কাছে হেরে যান। তারপর শেখ হাসিনা আর কোনোদিন ঢাকায় নির্বাচন করেননি। আওয়ামী লীগের মতো একটা পুরানো বড় দলের সভানেত্রী হয়ে রাজধানীতে তার একটা নির্বাচনী আসন নেই এটা ভাল কথা নয়। খালেদা জিয়া বাংলাদেশের যেখানেই দাঁড়ান সেখানেই তিনি পাস করেন। অতএব, তার জনপ্রিয়া হ্রাস করতে হবে। আর সেজন্যই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা। যেন দুর্নীতিবাজ খালেদা জিয়াকে মানুষ ভোট না দেয়। ইতোমধ্যে ‘খালেদা জিয়াকে ভোট দিবেন না’ শিরোনামে পোস্টার দিয়ে ঢাকা শহর ছেয়ে ফেলা হয়েছে।

দুর্নীতির মামলার রায়ের পর : রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত মামলাটির রায় কী হবে মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতারা আগে জানতেন। রায় কি হবে তা মহাজোটের মন্ত্রীদের কথাই পরিষ্কার বোঝা গিয়েছিল। এ কারণেই হোসেইন মুহম্মদ এরশাদ আগেই বলেছিলেন, ১৫ দিনের মধ্যে জেলে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া। হ্যাঁ খালেদা জিয়া ১৫ দিনের মধ্যেই জেলে গিয়েছেন। রায়ের দিনের পূর্ব থেকে সরকার যে নজিরবিহীন ‘সতর্কতা’ নামক দমন-পীড়ন করেছেন তাতেই বোঝা গিয়েছিল রায় কী হতে যাচ্ছে।

’৬৮ সালে শেখ মুজিবের গ্রেফতার প্রসঙ্গ :১৯৬৮ সালের ১৭ জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রাহমানকে অন্যান্য মামলায় জামিন দেখিয়ে জেলগেট থেকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ১ নং আসামি হিসেবে গ্রেফতার করে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে আটক রাখে। শেখ মুজিবের গ্রেফতারের পর আওয়ামী লীগ মহলে আতঙ্ক বিরাজ করে। অন্যান্য রাজনৈতিক দল নির্বাক হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক নেতারা কথাবার্তা, বক্তৃতা, বিবৃতিতে হুঁশিয়ার হয়ে যান। মুসলিম লীগ সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কখন কাকে জড়িয়ে দিয়ে হয়রানি করে এই ভয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ করে ছাত্রসমাজের মধ্যে একটা সন্ত্রস্তভাব বিরাজ করে।

’৬৮ সালের নবেম্বর মাস পর্যন্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে এক প্রকার গুমোট ভাব বিরাজ করছিল। নবেম্বর মাস থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাকে ‘মিথ্যা মামলা বলে আখ্যায়িত করে মামলার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে।’ ৬৯ এর শুরু থেকে আন্দোলন দানা বেঁধে উঠে। ছাত্রসমাজের আন্দোলনের পূর্বে নেতারা শেখ মুজিবকে নিয়ে কোনো প্রকার আলোচনা করতেও ভয় পেত। ৬৯-এর জানুয়ারির পূর্বে শেখ মুজিবকে নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো আন্দোলন হয়নি। এ ব্যাপারে সরকারি পর্যায়েও তেমন কোনো দমন পরিকল্পনাও ছিল না।

জিয়া অরফানেজ মামলায় খালেদা জিয়ার শেষ হাজিরা : ৮ ফেব্রুয়ারি মামলার রায় ঘোষণার তিন-চারদিন আগে থেকে সরকার যে দমন-পীড়ন শুরু করে তাতেই বোঝা যাচ্ছিল যে মামলার রায় খালেদা জিয়ার বিপক্ষে যাবে। ৮ ফেব্রুয়ারির পূর্ব থেকেই সরকার নজিরবিহীন দমন-পীড়নের আশ্রয় নেয়। ৮ ফেব্রুয়ারি ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া লাঠিসোটা, দা, বোঁটিসহ সকল প্রকার অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ঢাকা মহানগরে ১৪৪ ধারা জারি করে। শুধু তাই নয় ঢাকা থেকে জেলা পর্যায়ে সকল প্রকার যানবাহন বন্ধ করে দেয়। যানবাহনহীন অতর্কিত ঢাকা শহরে ছিল সর্বাত্মক হরতালের পরিবেশ।

এই অবস্থায়ও বেগম খালেদা জিয়া লক্ষ লোক পরিবেষ্টিত হয়ে কোর্টে উপস্থিত হন। মামলার রায় ঘোষণার পর শুধু আদালত চত্বরে নয় সারাদেশের মানুষ স্তম্ভিত হয়ে যায়। ঢাকা মহানগরে যেন এক নিস্তব্ধ নীরবতা বিরাজ করছিল। অনেককে ডুকরে ডুকরে কাঁদতে দেখা গেছে। খালেদা জিয়ার সাজার খবর সেদিন শুধু ‘টক অব দি কান্ট্রি’ নয় টক অফ দি ওয়ার্ল্ড’ ছিল। বিবিসি, ভয়েস অফ আমেরিকা আল জাজিরাসহ বিশ্বের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার একটি মাত্র শীর্ষ সংবাদ ছিল, তা ছিল খালেদা জিয়ার সাজা। যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ সকলেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা হাহুতাশ ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। দলের সকল পর্যায়ে দ্বন্দ্ব কোন্দল ভুলে এক রকম ইস্পাতকঠিন ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে। যেখানেই যে কর্মসূচি দেয়া হয় জনতার ঢল নামে। সর্বত্র যেন এক বাঁধভাঙা জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ’৭১ সালে ২৫ মার্চ পাক সেনাবাহিনীর ক্রাকডাউনের পর নেতৃত্বহীন স্তম্ভিত মানুষের মধ্যে একটা ঐক্য সৃষ্টি হয়েছিল তেমনি ৮ ফেব্রুয়ারির পর সারা বাংলার মানুষের মধ্যে একটা অঘোষিত ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে। মুখে মুখে স্লোগান উঠেছে ‘আমার নেত্রী আমার  মা বন্দি থাকতে দেব না।’ ইতোমধ্যে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গণস্বাক্ষর অভিযান শুরু হয়েছে। কোটি কোটি মানুষ গণস্বাক্ষর অভিযানে অংশ নিচ্ছে।

জনতার বাঁধ ভাঙা জোয়ারের মধ্যে আওয়ামী লীগের কণ্ঠ হারিয়ে যাচ্ছে। হতাশার অন্ধকারে আওয়ামী লীগ নিমজ্জিত হয়ে যাচ্ছে। সরকার ভেবেছিল রায় ঘোষণার সাথে সাথে বিএনপি কর্মীরা ভাঙচুর শুরু করবে আর সেই সুযোগে সরকার আবার নাশকতার অজুহাতে হাজার হাজার কর্মী খুন ও গ্রেফতার করে দেশে একটা তা-বলীলা ঘটাবে। খালেদা জিয়ার অবর্তমানে গড়ে ওঠা যৌথ নেতৃত্ব দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে এবং অহিংস নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। প্রবীণ নেতাদের নিয়ে যৌথ নেতৃত্ব সরকারের ফাঁদে পা দেয়নি। ফলে বিএনপির উপর ক্র্যাকডাউন ঘোষণা করার সরকারি চক্রান্ত ভেস্তে গেছে। কোথায় এখন খালেদা জিয়া এমন উষ্মা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কারাবাস নিয়ে কোন কথা বলতে নেতাদের বারণ করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাধ্য হয়েছেন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের কারণে পুলিশ বাধা দিচ্ছে না। ১৯৬৮ সালে শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করে স্বৈরাচারী আয়ুব খান বেকায়দায় পড়েছিল, শেখ মুজিবের গ্রেফতার সরকারের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছিল। খালেদা জিয়ার কারাবাসও শেখ হাসিনার জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়াবে। গ্রেফতারের পূর্বে শেখ মুজিব ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি, পাকিস্তানের একজন প্রথম কাতারের নেতা। আগতলা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেফতারের পর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের চাপে সরকার কর্তৃক প্রচারিত ‘সত্য’ মামলাটি মিথ্যায় পরিণত হলো না শুধু, মিথ্যা মামলাটি সরকার প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবকে নিঃশর্ত মুক্তি প্রদানে বাধ্য হয়। কারামুক্ত শেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রথম কাতারের নেতা থেকে পাকিস্তানের একচ্ছত্র নেতায় পরিণত হলেন। মুক্তির পর ছাত্র সমাজ তাকে বঙ্গবন্ধু খেতাবে ভূষিত করে। কে জানতো আগরতলা ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার শেখ মুজিবের জন্য ‘বিরাট আর্শীবাদ’ হয়ে তার কপালে ফুলচন্দন হয়ে আবির্ভূত হবে। তরুণ সমাজের মুজিব ভাই হয়ে গেলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি।

খালেদা জিয়া ৮ ফেব্রুয়ারি মামলার রায়ের পূর্বে ছিলেন দেশের একচ্ছত্র নেত্রী। বাচাল নয়, স্বল্পভাষী যোগ্য নেত্রী বলে বিশ্বব্যাপী তার সুনাম বিরাজমান। ৮ ফেব্রুয়ারির পর তিনি হয়ে গেলেন দেশবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত ‘মা’। বিশ্ববাসী জানে, গণতন্ত্রহীন এই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি লড়াই করছেন। তিনি লড়াই করছেন ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে, তিনি সরকারের সর্বগ্রাসী দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠ। মানবাধিকারের প্রবক্তা।

সরকারের পরিকল্পনা ছিল খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে আরেকটি একদলীয় ভোটারবিহীন নির্বাচন করে আবার ক্ষমতায় যাওয়ার পথ পরিষ্কার করা, বাংলার ঘরে ঘরে একটা কথা আছে, প্রতি ডুবে শালুক পাওয়া যায় না। প্রসঙ্গক্রমে তুরস্কের রাজনীতির প্রসঙ্গ তুরস্কের রাজনীতি স্বৈরশাসকদের জন্য একটা বিরাট শিক্ষা। তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েব এরদোগানের জন্য এক সময় নির্বাচনে অংশ গ্রহণ নিষিদ্ধ ছিল। এরদোগানের একে পার্টি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার পর দলীয় একজন নেতা   আব্দুল্লা গুল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশনে এরদোগানের উপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত আইনের ধারা সংশোধন করা হয়। সংশোধনের পর এরদোগান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন, বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লা গুল প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। কথায় বলে রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই, তুরস্কের রাজনীতিতে তা অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণ মিলেছে। প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ গুল এখন কোথায় তা জানা না গেলেও এরদোগান এখন তুরস্কের প্রতাপশালী প্রেসিডেন্ট। বিশ্ব রাজনীতিরও একজন তুখোর খেলোয়াড়।

খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছেন। ইতিহাসে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রাণপুরুষ আব্রাহাম লিংকন মার্টিন লুথার কিং, নেলসন ম্যান্ডেলা প্রমুখ। বাংলা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করছেন বাংলাদেশী কোটি কোটি জনতার মা বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে বিশ্ববাসী এখন আরও সোচ্চার। গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াইয়ের জন্য নোবেল পুরস্কারও পেতে পারেন তিনি। চতুর্থবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদও তার ললাটে জুটতে পারে। নদীর ¯্রােত যেমন প্রবাহমান, নদীর ¯্রােত কোনো বাধা মানে না, ইতিহাসের গতিও তেমনি প্রবাহমান। ইতিহাসের গতিও কোনো বাধা মানে না, ইতিহাসই তার সাক্ষী। খালেদা জিয়া ইতিহাসের ¯েœহকন্যা। ইতিহাসই নির্ধারণ করবে তার ভবিষ্যৎ। তবে ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না এটা ইতিহাসেরই শিক্ষা। ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। এটাও ইতিহাসের শিক্ষা। ইতিহাসের গতিরোধকারী স্বৈরশাসকরা ইতিহাসের গতিতে খড় কূটার মতো ভেসে যায়। এটাও ইতিহাসের অমোঘ নিয়ম।

ইনসাফ : বেগম খালেদা জিয়া আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনকালে যে দীর্ঘ ঐতিহাসিক বক্তব্য প্রদান করেন সেই বক্তব্যের শেষে পাবিত্র কুরআনের সূরা নিসার ১৩৫নং আয়াতের অবতারণা করে আদালতের কাছে ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের আবেদন করেছিলেন।

সূরা নিসার ১৩৫নং আয়াতের বঙ্গাবনুবাদ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। আল্লাহ বলেন, হে ঈমানদাররা, তোমরা ইনসাফের ওপর (দৃঢ়ভাবে) কায়েম থেকো এবং আল্লাহ তায়ালার জন্য সত্যের সাক্ষী হয়ে যাও, যদি এ (কাজ)টি তোমার নিজের, নিজের পিতামাতার কিংবা নিজের আত্মীয়-স্বজনের ওপরেও আসে (তবুও তোমরা তা পালন করবে), সে ব্যক্তি ধনী হোক কিংবা গরিব হোক! (মনে রাখবে) তাদের উভয়ের চাইতে আল্লাহ তায়ালার অধিকার অনেক বেশি, অতএব, তুমি কখনো ন্যায় বিচার করতে গিয়ে নিজের খেয়াল খুশির অনুসরণ করো না, যদি তোমরা পেঁচানো কথা বলো কিংবা (ইনসাফ থেকে) বিরত থাকো, তাহলে  জেনে রেখো) তোমরা যা কিছুই করো না কেন, আল্লাহ তায়ালা তার খবর রাখেন।

টিপ্পনি : ছাত্র ইউনিয়ন নেতা রাশেদ খান মেনন ও মতিয়া চৌধুরী শেখ মুজিবের চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজাতে চেয়েছিলেন। মুজিবকন্যা শেখ হাসিনার মন্ত্রী হয়ে শেখ মুজিবের প্রতি অতি ভক্তি দেখাচ্ছেন। খালেদা জিয়াকে শেখ মুজিবের “ জেলে জীবনের রোজনামচা বই পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। যতদূর জানা যায় জেলখানায় খালেদা জিয়া কুরআন তিলাওয়াত ও এবাদত বন্দেগী করে সময় কাটান।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ