সোমবার ৩০ জানুয়ারি ২০২৩
Online Edition

বেসিক ও ফারমার্স ব্যাংক কাণ্ড

ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী : সরকারি খাতে বেসিক ব্যাংক আর বেসরকারি খাতের ফারমার্স ব্যাংক দেশব্যাপী এখন আলোচনার খোরাকে পরিণত হয়েছে। বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন শেখ আবদুল হাই বাচ্চু। আর ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী এবং বর্তমানে সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। এরা দু’জনই এই দুই খাতের দুটি ব্যাংক লুট করে একেবারে ফোকলা করে দিয়েছেন। আবদুল হাই বাচ্চু বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকার সময় ব্যাংকটির সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের ঘটনা এই যে, আবদুল হাই বাচ্চুসহ ওই ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালকরা আছেন নির্বিঘ্নে। ঘুরছেন, ফিরছেন স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। পদ-পদোন্নতি দিয়ে সরকার উল্টো তাদের পুরস্কৃত করেছে। এই ব্যাংকের দুর্নীতি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন যেসব ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছিল, তারা সবাই জামিনে আছেন। আদালত থেকে জামিন নিয়ে তাদের কেউ কেউ দেশেই আছেন। আর কেউ বা জামিন পাওয়ার পরদিনই পালিয়ে চলে গেছেন বিদেশে। আর পরিষদের হুকুম যে ব্যাংকাররা তামিল করেছিলেন, তারা সবাই আছেন জেলে। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের অন্যতম প্রধান বেসিক ব্যাংকের এই আর্থিক কেলেংকারির ঘটনায় যার প্রধান দায় রয়েছে বলে অভিযোগ, সে বাচ্চু এখনও আছেন বহাল তবিয়তে। এ বিষয়ে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দুদকের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই। আদালতের নির্দেশে গত ৪ ও ৬ ডিসেম্বর দুদক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শেখ আবদুল হাই বাচ্চুকে তলব করেছিল। এরপর সর্বশেষ গত ৮ জানুয়ারি দুদক তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। ব্যাস ওই পর্যন্তই। তার নামে আজ পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের করা হয়নি।
শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকার আমলে (২০০৯-২০১৪) নজিরবিহীন অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়। ২০০৯ সালে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ৫ শতাংশ। আর ২০১৪ সালের শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ৬৮ শতাংশ। এই ৫ বছরে ব্যাংকটির এই দুরবস্থার জন্য মূলত দায়ী ব্যাংকটির পরিচালনা পরিষদ। কেলেংকারির পর এখন পর্যন্ত বেসিক ব্যাংককে বাজেট থেকে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে সরকার। তবে তাতেও কোনো লাভ হয়নি। ব্যাংকটি এখনও ধুঁকছে। বেসিক ব্যাংক কেলেংকারি নিয়ে এই পর্যন্ত ৫৯টি মামলা করেছে দুদক। এসব মামলা এখন পর্যন্ত ওই ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের কারো নাম নেই। নাম নেই সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাইয়েরও। মামলাগুলোর আসামী ১২০ জন। তাদের মধ্যে ব্যবসায়ী ৮২, জরিপকারী ১১ জন এবং ব্যাংকার ২৭ জন। আসামীদের মধ্যে ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে দুদক। যাদের মধ্যে ব্যবসায়ী ১০ জন, ব্যাংকার ৫ জন ও জরিপকারী ১ জন।
আবদুল হাই বাচ্চুকে চেয়ারম্যান করে ২০০৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বেসিক ব্যাংকের যে নতুন পরিষদ গঠন করে সরকার, সেই পরিষদই ব্যাংকটির পতনের জন্য দায়ী বলে ধরা হয়। ওই দিন বেসিক ব্যাংকের পরিচালক নিয়োগ পান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ২ মহাপরিচালক। শুভাশীষ বসু ও নিলুফার আহমেদ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রাজিয়া বেগম, বিসিক চেয়ারম্যান মোঃ সিদ্দিকুর রহমান ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বিজয় ভট্টাচার্য। এছাড়া বেসরকারি খাত থেকে পরিচালক নিযুক্ত হন চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিম। সাবেক শুল্ক কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান ও ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান কাজী আখতার হোসেন এবং এআরএস ল্যুভ বাংলাদেশ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের এমডি আনোয়ারুল ইসলাম। বেসিক ব্যাংক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায় শুভাশীষ বসু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক থেকে পদোন্নতি পেয়ে হন রফতানি উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান। কেলেংকারির পুরো সময় তিনি ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও বেসিক ব্যাংকের পরিচালক ছিলেন। বর্তমানে পদোন্নতি পেয়ে তিনি হয়েছেন বাণিজ্য সচিব। ব্যাংকটির পরিচালক হওয়ার বছরেই বিজয় ভট্টাচার্যকে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা দূতাবাসে ইকোনমিক মিনিস্টার পদে সরকার নিয়োগ দেয়। জেনেভা থেকে দেশে ফিরলে পদোন্নতি পেয়ে তিনি অতিরিক্ত সচিব হন এবং বর্তমানে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান। বিজয় ভট্টাচার্য জেনেভা যাওয়ার পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব কামরুন্নাহার আহমেদ পরিচালক নিযুক্ত হন। কেলেংকারির পুরো সময়টাতেই তিনি এ ব্যাংকের পরিচালক থাকেন। এই ফাঁকে পদোন্নতি পেয়ে তিনি একই বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হন, বর্তমানেও ওই পদে বহাল আছেন।
পরিষদ সদস্য হওয়ার পর রাজিয়া বেগম পদোন্নতি পেয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হন। ২০১০ সালের ৩১ জুলাই ব্যাংকের টুঙ্গি পাড়া শাখা উদ্বোধন করতে যাবার সময় এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান রাজিয়া বেগম ও বিসিক চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব ফখরুল ইসলাম নতুন বিসিক চেয়ারম্যান হলে তাকে বেসিক ব্যাংকের পরিচালক নিয়োগ দেয় সরকার। এর পর তাকে পদোন্নতি দিয়ে করা হয় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং ব্যাংকের পরিচালক পদটিও তার থেকে যায়। পরে বিসিক চেয়ারম্যান হন ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ সদস্য শ্যাম সুন্দর সিকদার। পদোন্নতি দিয়ে তাকে করা হয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সচিব। বর্তমানে তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব।
শেখ আবদুল হাই-এর ৫ বছর মেয়াদে এছাড়া পরিচালক ছিলেন আওয়ামী লীগের মুখপত্র মাসিক উত্তরণ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক আনিস আহমেদ। সনদপ্রাপ্ত হিসাববিদ কামরুল ইসলাম এবং সাবেক অতিরিক্ত সচিব এ কে এম রেজাউর রহমান। আনিস আহমেদ এখন উত্তরণ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক। আর আবদুল হাই-এর অনিয়ম, দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে ২০১৩ সালের জুলাইয়ে রেজাউর রহমান চিঠি পাঠালে তিনি এবং কামরুল ইসলাম বেসিক ব্যাংকে আর যেতেই পারেননি। সাবেক পরিচালক ফখরুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি পদোন্নতি পেয়েছেন স্বাভাবিক নিয়মে এবং ব্যাংকের পরিচালক থাকার সময় অনিয়ম হয়নি। বিশদ কথা বলতে তিনি বিব্রত বলে জানান। এআরএস ল্যুভের এমডি আনোয়ারুল ইসলাম বেসিক ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার ৩ বছরের মাথায় বাংলাদেশ যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হন। আগে তিনি যুবলীগের কোনো পদে ছিলেন না। জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি এবং তার মতো সব সদস্যই পরিষদ সভায় অন্ধকারে থাকতেন। তবে বেসিক ব্যাংক থেকে যেসব ব্যবসায়ী টাকা নিয়েছিলেন তাদের টিকিটির নাগালও কেউ পায়নি। গ্রেফতার হয়েছিলেন বটে, কিন্তু সবাই জামিনে আছেন। জামিন পেয়ে হয় দেশে আছেন নইলে বিদেশে চলে গেছেন।
কিন্তু জেল খাটছেন ব্যাংকাররা। ব্যাংকার ২৭ জনের মধ্যে আবদুল হাই-এর সব অনিয়ম দুর্নীতির প্রধান সহযোগী হিসাবে বিবেচিত ব্যাংকটির পলাতক এমডি কাজী ফখরুল ইসলাম। তার আগের এমডি এ কে এম সাজেদুর রহমান ২০১০ সালের শেষ দিকে পদত্যাগ করলে ভারপ্রাপ্ত এমডি হন তৎকালীন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মঞ্জুর মোরশেদ। কাজী ফকরুল ইসলাম এরপরই এমডি হয়ে আসেন। ২০১৪ সালের মে মাসে তাকে বরখাস্ত করা হয়। আসামিদের মধ্যে এই ৩ জনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যাংকার রয়েছেন। যাদের কেউ বরখাস্ত, কেউ চাকরিচ্যুত, কেউ অপসারিত। দুদক ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ব্যাংকারদের মধ্যে ২ ডিমএডি মোঃ ফজলুস সোবহান ও মোঃ সেলিমকে গ্রেফতার করে। একই মাসে গ্রেফতার হন গুলশান শাখার প্রধান শিবার আহমেদ। মার্চে সহকারী ব্যবস্থাপক ইকরামুল বারী এবং এপ্রিল গ্রেফতার হন মহাব্যবস্থাপক জয়নাল আবেদিন। ২ বছর পার হলেও তাদের কেউ জামিন পাননি। দুদকও চায় তারা জেলেই থাকুন। দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বেসিক ব্যাংকের মামলা নিয়ে বলেন আদালত থেকে ব্যবসায়ীদের জামিন পাওয়া এবং ব্যাংকারদের জামিন না পাওয়ার ব্যাপারে তার কিছু বলার নেই। আর পরিষদ সদস্যদের শুনানি নেয়া হচ্ছে। শেষ হওয়ার পর বোঝা যাবে তাদের অপরাধের ধরন কতটুকু। সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এই হলো বেসিক ব্যাংকের হাল। এখানে যারা নাটের গুরু তাদের টিকিটিও স্পর্শ করতে পারছে না দুদক। আর এই নাটের গুরুর হুকুম যারা তামিল করেছেন, তাদের খপাখপ ধরে জেলে পুরে দিয়েছে। ন্যায় বিচার এখানে বহু দূরে।
আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী বর্তমান সংসদ সদস্য এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান নানা কৌশলে চাপ প্রয়োগ করে সরকারি তহবিলের টাকা ওই ব্যাংকে নিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু এখন আর কোন অর্থ ফেরত দিতে পারছেন না। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের ডিপোজিটকৃত ১৮০ কোটি টাকা ফেরত চেয়েও পাছেন না। এছাড়া জলবায়ু ফান্ডে ৫ হাজার ৫শ ৮০ কোটি টাকা ফেরত দিতে পাচ্ছে না ফারমার্স ব্যাংক। অনুসন্ধানে জানা গেছে তিতাস গ্যাস, রাজউক, ডেসা-ডেসকো, ওয়াসা ও ডিপিডিসিসহ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে অনেকটা জোর করে ডিপোজিট নিয়েছেন ফারমার্স ব্যাংক। এ জন্য ব্যাংকটির পদত্যাগী চেয়ারম্যান মহীউদ্দীন খান আলমগীর প্রভাব খাটিয়েছেন। রাজউক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার সময়ে ফারমার্স ব্যাংকে ২০০ কোটি টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। বিনা অজুহাতে ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বসিয়ে রাখা হত। গাল-মন্দ দিতেও ছাড়তেন না কমিটির চেয়ারম্যান। রাজউক-এর হিসাব শাখার এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে রাজউক-এর ফেরত আসার পর সিনিয়র স্যারদের ফ্যাকাসে মুখ দেখতে খারাপ লাগত। একদিন প্রতিষ্ঠানের সাবেক চেয়ারম্যান বললেন ফারমার্স ব্যাংকের ২০০ কোটি টাকা দেয়ার ফাইল প্রসেস কর। এই বয়সে চাকরি খোয়াতে পারব না। ওই সময় অনেকটা বাধ্য হয়েই ফারমার্স ব্যাংকে ১০ কোটি টাকা ডিপোজিট দেয় রাজউক। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, সার্ভিস সেক্টরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ যারা সরকারের কর নিয়মিত আদায় করেন, ওইসব প্রতিষ্ঠান প্রধানকে মাঝে মধ্যেই চিঠি দেয়া হতো। ওই চিঠিতে সশরীরে হাজির হবার নির্দেশ দেয়া হত। এরপর নানা কায়দায় নাজেহাল করা হতো প্রতিষ্ঠান প্রধানকে। অনেক সময় বিভিন্ন উদ্ভট কাগজপত্র চেয়ে পাঠানো হতো। পর পর কয়েকবার নাজেহাল করার পর ফারমার্স ব্যাংকের ডিপোজিট দিতে অনেকটা বাধ্য হতেন কর্মকর্তারা। ডিপোজিট না দিলে সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে হাজিরা থেকে নিষ্কৃতি মিলত না। নানা ছুতো তৈরি করে হাজির হতে বলা হতো।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের ১৮০ কোটি টাকা ফেরত চেয়ে ব্যাংকে বার বার চিঠি দিলেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। বন্দর কর্তৃপক্ষ টাকার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেও একাধিক চিঠি দিয়েছে। তাতেও ফল হয়নি। ফলে এখন ক্লান্ত হয়ে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হচ্ছেন বলে জানা গেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ সর্বশেষ মাত্র ৫ কোটি টাকা ফেরত চেয়েছিলেন। কিন্তু তার বিপরীতে ফার্মাস ব্যাংক পে-অর্ডার দিয়েছিল। অথচ সে পে-অর্ডার নগদায়ন হয় নাই। এর পর মেয়াদপূর্ণ ৩০ কোটি টাকা এবং পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট সব টাকা ফেরত চেয়ে ফারমার্স ব্যাংকে চিঠি দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। তখন ফারমার্স ব্যাংক তাদেরকে আরো ৬ মাসের জন্য ডিপোজিট অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই সময়ের মধ্যে তারল্য সংকট কেটে যাবে আর বন্দর কর্তৃপক্ষ সমূদয় টাকা ফেরত পাবে। কিন্তু সবই অলীক স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ফারমার্স ব্যাংকে চলছে লুটের কা-। কিন্তু আশ্চর্যের ঘটনা এই যে, ব্যাংকের এই লুণ্ঠনবৃত্তির বিরুদ্ধে অর্থ মন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত একটি টুঁ শব্দও করেননি। বাচ্চু কিংবা মহীউদ্দীন খান আলমগীর তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় কিনা জানি না। কিংবা আত্মীয় হলেই হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের দিকে চোখ বন্ধ করে থাকতে হবে কেন? একবার অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, যে সব ব্যাংক চলতে পারবে না সেগুলো আপনি আপনিই বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের টাকা? সে টাকা কে দেবে? এর জবাব নেই অর্থমন্ত্রীর কাছে। এর জবাব নেই বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেও। সুতরাং লোপাট কাণ্ডের জয় হোক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ