সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় গবাদি প্রাণীর খামার উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস : প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় গবাদি প্রাণীর উন্নয়নে ব্যাপক র্কাযক্রম পরিচালনা করছে। এর ফলে চলতি অর্থ বছরের গত ৭ মাসে এসব জেলায় ছোট-বড় বিভিন্ন খামারে ৩ লাখ ২৩ হাজার মেট্রিকটন দুধ, ৩ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিকটন গোশত এবং ৮৫ কোটির বেশী ডিম উৎপাদন হয়েছে।
কর্মসূচির আওতায় চলতি অর্থবছরে অনুকূল আবহাওয়ার পাদভূমি প্রাণিসম্পদের ব্যাপক সম্ভাবনাময় উন্নয়নের ক্ষেত্র এই অঞ্চলের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড় জেলায় গবাদি প্রাণীর উন্নয়নে বেসরকারি গাভীর খামার স্থাপনের মাধ্যমে এ অঞ্চলে পরিকল্পিত নিবন্ধিত গাভীর খামারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭শ ৩১টি। এছাড়া অনিবন্ধিত গাভীর খামারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭শ ৩টি। (ন্যূনতম ৪টি গাভী থাকলে খামার হিসেবে ধরা হয়)। এসব পরিকল্পিত খামার থেকে চলতি অর্থবছরের গত ৭ মাসে ৪ লাখ ২২ হাজার মেট্রিকটনের বেশী দুধ উৎপাদন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এসব খামার থেকে চলতি অর্থবছরে ৪ লাখ ৭৬ হাজার মেট্রিকটন দুধ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাহবুবুর রহমান এই প্রতিনিধিকে জানান, দুধ উৎপাদনে সবচেয়ে বেশী সাফল্য অর্জন হয়েছে দিনাজপুর জেলায়। এই জেলায় দুধ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিকটন। এই জেলায় ৭ মাসে প্রয় ৭৪ হাজার ৭শ ৭২ মেট্রিকটনের বেশী দুধ উৎপাদন হয়েছে। রংপুর জেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৭ মাসে প্রায় ৯৪ হাজার মেট্রিক টনের বেশী দুধ উৎপাদন হয়েছে। এই জেলায় চলতি অর্থ বছরে দুধ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮২ হাজার মেট্রিক টন। এছাড়া গাইবান্ধা জেলায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন দুধ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরে ৭ মাসে অর্জন হয়েছে ‘৩৭ হাজার ৬৪ মেট্রিক টন। ঠাকুরগাঁয় ৪৮ হাজার মেট্রিকটন দুধ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরে ৭ মাসে অর্জন হয়েছে ৩১ হাজার ৮শ মেট্রিক টন, লালমনিরহাটে ৩৬ হাজার মেট্রিক টন দুধ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরে অর্জন হয়েছে ৩২ হাজার ৮শ ১৭ মেট্রিক টন। নীলফামারীতে ৪৩ হাজার মেট্রিক টন দুধ উৎপদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরে ৭ মাসে অর্জন হয়েছে ২৮ হাজার ২শ ৭ মেট্রিক টন। এছাড়া কুড়িগ্রামে ৬০ হাজার মেট্রিক টন দুধ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরে ৭ মাসে অর্জন হয়েছে ৪৬ হাজার ১শ ৪৯ মেট্রিক টন এবং পঞ্চগড় জেলায় প্রায় ৪৫ হাজার মেট্রিক টন দুধ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরে ৭ মাসে অর্জন হয়েছে ২৬ হাজার ৭শ ৪২ মেট্রিক টন।
একই সময়ে এসব জেলায় গোশত উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৭৬ হাজার মেট্রিক টন। সেখানে প্রত্যাশা ছাড়িয়ে ৭ মাসে গোশত উৎপাদন হয়েছে ৩ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টনের বেশী। এর মধ্যে রংপুরে ৮৫ হাজার মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রা ধরে ৭ মাসে গোশত উৎপাদন হয়েছে ৬৯ হাজার মেট্রিক টন। গাইবান্ধায় ৫৭ হাজার মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রা ধরে ৭ মাসে গোশত উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৪৩ হাজার মেট্রিক টন। কুড়িগ্রামে ৭৩ হাজার মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রা ধরে ৭ মাসে গোশত উৎপাদন হয়েছে ৫২ হাজার ৫শ মেট্রিক টন। নীলফামারীতে ৫০ হাজার মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রা ধরে ৭ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গোশত উৎপাদন হয়েছে ২৯ হাজার ২শ ৬০ মেট্রিক টন। লালমনিরহাটে ৪১ হাজার মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রা ধরে ৭ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গোশত উৎপাদন হয়েছে ৪৯ হাজার ৭৯ মেট্রিক টন। দিনাজপুরে ১ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রা ধরে ৭ মাসে গোশত উৎপাদন হয়েছে ৭৭ হাজার ৫শ ৫৩ মেট্রিক টন। ঠাকুরগাঁয় ৫৫ হাজার মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রা ধরে ৭ মাসে গোশত উৎপাদন হয়েছে ৩০ হাজার ৩শ মেট্রিক টন এবং পঞ্চগড় জেলায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রা ধরে ৭ মাসে গোশত উৎপাদন হয়েছে ২৯ হাজার ৭শ মেট্রিক টন
এদিকে রংপুর অঞ্চলের ৮ জেলায় চলতি অর্থ বছরের ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ শো কোটি পিস। এই সময়ে গত ৭ মাসে এসব জেলায় ডিম উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৮৫ কোটির বেশী।
এসময়ে রংপুর জেলায় ২২ কোটি ৮ লাখ পিস ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরে গত ৭ মাসে ডিম উৎপাদন হয়েছে ২৪ কোটি ৮২ লাখ। গাইবান্ধা জেলায় ১২ কোটি পিস ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরে ৭ মাসে ডিম উৎপাদন হয়েছে ১১ কোটি ৫৭ লাখের বেশী। কুড়িগ্রাম জেলায় ১১ কোটি পিস ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরে গত ৭ মাসে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে ডিম উৎপাদন হয়েছে ১৪ কোটি ১৮ লাখের বেশী। লালমনিরহাটে ১২ কোটি ৪৮ লাখ পিস ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরে ৭ মাসে ডিম উৎপাদন হয়েছে ৫ কোটি ৭৫ লাখের বেশী। নীলফামারী জেলায় ১২ কোটি পিস ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরে গত ৭ মাসে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে ডিম উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১১ কোটি পিস। দিনাজপুর জলায় ৩৫ কোটি ৮০ লাখ পিস ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরে গত ৭ মাসে ডিম উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২১ কোটি ২৮ লাখ পিস। ঠাকুরগাঁও জেলায় ১৪ কোটি ২০ লাখ পিস ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরে গত ৭ মাসে ডিম উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১১ কোটি ৭৪ লাখ পিস এবং পঞ্চগড় জেলায় ১৩ কোটি ৯২ লাখ পিস ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরে গত ৭ মাসে ডিম উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৮ কোটি ২৬ লাখ পিস।
লেয়ার মুরগির হ্যাচারির মালিক ফুল মিয়া জানান, রংপুর অঞ্চলের ডিম, দুধ, গোশত উৎপাদনের সম্ভাবনাকে আরও উৎসাহিত করতে গবাদি প্রাণী ও হাঁস-মুরগির সুষম খাদ্য এবং জীবন রক্ষাকারী ঔষধ এবং রোগ প্রতিরোধক ভ্যাকসিনসমূহ সরকারি উদ্যোগে উৎপাদন করে এসব স্বল্প মূল্যে খামার মালিকদের সরবরাহের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সরকারিভাবে সহায়তার হাত ব্যাপকভাবে প্রসারিত করা প্রয়োজন। তিনি দুঃখ করে বলেন, বাজারে বিভিন্ন মানের যে সব প্রাণী খাদ্য, ভ্যাকসিন এবং ওষুধ পাওযা যায় সে সবের মান সব সময় ঠিক থাকে না। আবার দামও অনেক সময় বেশী হয়ে থাকে। এর ফলে খামারিদের কখনও কখনও লোকসানের সম্মুখিন হতে হয়। অপর এক  গাভীর ক্ষুদ্র খামার মালিক হামিদুল হক জানালেন- এই অঞ্চলে মিল্কভিটা সহ বড় বড় দুধপ্রক্রিয়াজাতকরণ কোম্পানিগুলো ব্যাপক হারে দুধ ক্রয় না করায় অনেক সময় খুব সস্তায় লোকসান দিয়ে বাজারে দুধ বিক্রি করতে হয়।
খামার মালিকরা দাবি করে বলেন, খামারসমূহের এসব সমস্যা দূর হলে এবং সম্ভাবনার পথ প্রশস্ত করে সুষ্ঠু বাজারজাতের ব্যবস্থা সম্ভব হলে রংপুর অঞ্চলের ৮ জেলায় ডিম, দুধ এবং গোশত ব্যাপক উৎপাদন করে দেশের সিংহ ভাগ চাহিদা পূরণ করা ছাড়াও এসব উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এর ফলে এই অঞ্চলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হবে। সেই সাথে হাজার হাজার বেকার যুবক নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের পথ সুগম হবে বলে  তারা আশা পোষণ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ