শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সাদুল্যাপুরে ইরি-বোরোর ব্যাপক চাষ

তোফায়েল হোসেন জাকির, সাদুল্যাপুর (গাইবান্ধা): শস্য শ্যামলা, সবুজ বাংলার কৃষি প্রধান দেশের গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার দিগন্ত জুড়ে নজর কাড়ছে ইরি-বোরো ধানের ক্ষেত। কৃষকের কাঙ্খিত স্বপ্নের এ ক্ষেতে আশানারুপ ফলন পেতে সার-কীটনাশক প্রয়োগসহ আগাছা পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষক ও নারী কৃষাণী। অদম্য কৃষকমহল মৌসুমের শুরু থেকেই ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার এবারে সাথে ইরি-বোরো চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছে।
শুক্রবার বিভিন্ন অঞ্চলে সরেজমিনে ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে। তবে নারী কৃষাণীরা শ্রম মূল্যেও বৈষম্ম শিকার হচ্ছে। কৃষানী কমেলা বেগম ও আনোয়রা বেওয়া  অভিযোগ করে বলেন, একজন পুরুষের মজুরী ৩৫০ টাকা, আর মহিলাদের মজুরী দেওয়া হচ্ছে ১৫০টাকা।
এ বৈষম্ম থেকে পরিত্রাণ চায় নারী শ্রমিকরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে ১৪ হাজার ৭শ ৮০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে হাইব্রিড, উফশী ও স্থানীয় জাতের ধান রয়েছে।
কৃষক জলিল , সোলায়মান ও তছলিম উদ্দিন বলেন, চলমান আবহাওয়ার বিরুপ প্রক্রিয়া না ঘটলে গত বছরের তুলনায় এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্গা চাষী জহির উদ্দিন ও আনোয়ার হোসেন সহ আরও অনেক কৃষক জানান, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সার, ডিজেল ও কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বোরো আবাদে কিছুটা ব্যহত হয়েছে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্ত আবু তাহের মিয়া বলেন, উপজেলার নিচু এলাকার কৃষকরা সেচ পাম্পের সাহায্যে জলাবদ্ধ বিলগুলোর পানি নিষ্কাশন করে বোরো আবাদ করায় গতবারের তুলনায় এ বছর বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে।
এদিকে কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণকে কখনও মাঠ পর্যায়ে দেখা যায় না।
তারা যদি কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দিতেন তাহলে অধিক ফলন উৎপাদন করা সম্ভব।
উপজেলা কৃষি অফিসার আবু সাঈদ মোঃ ফজলে এলাহী জানান, কৃষকদেরকের ক্ষেতে কঞ্চি পুতে দেয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাতে ওই সমস্ত কঞ্চিতে পাখি বসে জমির ক্ষতিকর পোকা নিধন করতে পারে। সেই সাথে পরিচর্যা করে কম মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ করে অধিক ফলনের কলা-কৌশলও কৃষকদের শেখানো হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ