বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সুন্দরবন করমজলে কাঠের সেতু ঝুঁকিপূর্ণ: ঘটছে দুর্ঘটনা

খুলনা অফিস: সুন্দরবন করমজল পর্যটন কেন্দ্রে বনের ভেতর রয়েছে কাঠের সেতু। যা দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তারপরও থেমে নেই দর্শনার্থী আগমন। দলবদ্ধভাবে সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলের সময় নিয়মিতই ঘটছে দুর্ঘটনা। তবে কংক্রিটের সেতু তৈরির কথা বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, বাগেরহাট জেলার চাঁদপাই রেঞ্জে অবস্থিত সুন্দরবন করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রটি। এখান থেকে সুন্দরবনের মনোরম দৃশ্য দেখার জন্য বনের ভেতর দিয়ে রয়েছে কাঠের সেতু। তবে সময়ের ব্যবধানে তা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। কোথাও মেরামত করেছে আর কোথাও নতুন করে ভেঙে পড়েছে। কোথাও এমনভাবে রয়েছে যেন বন্ধুর পথ।
তারপরেও থেমে থাকে না বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা দর্শনার্থীরা। তারা ঝুঁকি নিয়ে দলবদ্ধভাবে চলাচল করে এই সেতু দিয়ে। ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে নানা ধরনের দুর্ঘটনা। শিশুরা পড়ে করছে কান্নাকাটি আর প্রাপ্তবয়স্করা পড়ে লজ্জায় তাড়াতাড়ি স্থান ছাড়ছে। আর কেউ কাঠের ফাঁকে পা বেধে যাওয়ার ব্যথার যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে।
তবে কর্তৃপক্ষ কোথাও কোথাও মেরামত করেছে। আর সম্পূর্ণ সেতুটি কংক্রিটের তৈরি করার চিন্তাও করছেন সংশ্লিষ্টরা।
করমজলে বনের ভেতর সেতুতে দেখা মেলে মানুষের যানজট। কেননা ঝুঁকিপূর্ণ স্থান দিয়ে পার হতে দেরি হচ্ছে।
আর অনেকেই পড়ে যাওয়ার ভয়ে পেছনের পথে ফিরে যাচ্ছে। আর অনেক দর্শনার্থী পড়েও যাচ্ছেন। আর শিশুরা পড়ে কান্নাকাটি করে তাদের অভিভাবকদের সাথে সামনের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
খুলনা থেকে পিতামাতার সাথে সুন্দরবন দেখতে আসা সোনামণি (৮) বলেন, এমন ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা দিয়ে চলতে ভয় করছে। আর সে তিন তিনবার রাস্তার ওপর পড়েছে। আবার অনেক সময় বয়সে বড়রা সেতুতে নাচানাচি করছে। তখন মনে হয় এখনি ভেঙে নিচে পড়বে।
বনের ভেতর সেতুর ওপরে পড়ে যাওয়া খাদিজা খাতুন বলেন, বনের দায়িত্বে থাকা লোকজন টাকা নেয়। কিন্তু রাস্তাটা একটু ঠিক করে না। এ তো ওপরে পড়ছি নিচে পড়লে বড় ধরনের ক্ষতি হতো।
সুন্দরবন করমজলের অফিসার ইনচার্জ আজাদ কবীর বলেন, বনের ভেতরের রাস্তাগুলো দীর্ঘদিন হওয়ার ভেঙেচুরে যাচ্ছে। দুর্ঘটনাও ঘটে। এজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখছি। তাছাড়া তাদের আর কিছু করার নেই।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক শাহীন কবীর বলেন, করমজলে বনের ভেতর কাঠের রাস্তার কিছু অংশ মেরামত করা হয়েছে। তবে সম্পূর্ণ রাস্তাটি কংক্রিটের করার চেষ্টা করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ