শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

জ্বীনের ভণ্ড কবিরাজ সেজে শিশু অপহরণের অভিযোগ

সাপাহার (নওগাঁ): নওগাঁর সাপাহারে এক বালকের জ্বীনের ভণ্ড কবিরাজ সেজে শিশু অপহরণের ১৭ দিন পর  তার মাকে ফেরত দিয়েছে।
জানা গেছে উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হঠাৎপাড়ার দুখু মিয়ার কওমী মাদ্রাসা পড়ুয়া ছেলে দুলাল(১৫) লেখা পড়ার পাশাপাশি নিজকে জ্বীনের কবিরাজ দাবী করে বিভিন্ন স্থানে ঝাঁড় ফু সহ কবিরাজি করে আসছিল। এমনই অবস্থায় উপজেলার খঞ্জনপুর গ্রামের ইউনুস আলী ওই মোড়ে ভাত ও চায়ের দোকানদারের পরিবারের সাথে দুখু মিয়ার পরিবারের এক ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি হয়। ঘনিষ্ঠতার জেরে আজ থেকে প্রায় ২১ দিন পূর্বে আগের দিনের মত এক রাতে চাওয়ালার অবুঝ শিশু কন্যা রিনা ও তার এক ছোট ভাই দুখু মিয়ার বাড়ীতে রাত্রী যাপন করে। ভণ্ড কবিরাজ দুলাল ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে ওই রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় রিনার ভাইকে বিছানায় রেখে রিনা আক্তারকে নিজের মা বাবা কে হাত করে অন্যত্র সরিয়ে ফেলে সকালে রিনার মাকে ডেকে মিথ্যা  ঘঠনা সাজিয়ে বলে যে আজ রাতে রিনাকে জ্বীনে তুলে নিয়ে গেছে তাকে ফেরত পেতে হলে এ কথা কাউকে বলা যাবেনা বললে দু’দিনের মধ্যেই তোমার স্বামী মারা যাবে এবং কোরানে হাত রেখে শপৎ করায়। ভন্ড কবিরাজের কথা শুনে ভয়ে রিনার মা তার স্বামীকে বুঝিয়ে ঘটনাটি বলেন সে সাথে অন্যকাওকে ঘটনাটি না বলার জন্যও অনুরোধ করেন। সহজ সরল চা দোকানদার ও তার স্ত্রী এটি জ্বীনের ঘটনা ভেবে কাওকে কিছু না বলে কবিরাজ দুলালের সাথে সারাক্ষন যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। এরই মধ্যে ভন্ড ও চালাক কবিরাজ দুলাল তার মেয়েকে ফেরাতে হলে অনেক টাকার দরকার তা না হলে জী¡নেরা তাকে কিছুতেই ফেরত দিবেনা বলে দোকানদার ও তার স্ত্রীকে জানালে মেয়েকে ফেরত পেতে তারা বিভিন্ন এনজিও হতে লোন নিয়ে কয়েক দফায় মোট ৯৬হাজার টাকা কবিরাজ দুললের হাতে দেয়।
এর পরেও মেয়েকে ফেরত না দেয়ায় সম্প্রতি হটেল দোকানদার ইউনুস আলী তার স্ত্রীর সাথে বাক বিতন্ডতায় লিপ্ত হলে ঘটনাটি জানা জানি হয়। এর পর স্থানীয় লোকজন কবিরাজ দুলালকে এ বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভয়ভীতি দেখালে গত ১৬ফেব্রুয়ারী শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে দুলাল তার নিজ বাড়ী হতে ১৭দিন পর ভোর রাতে জিম্মিকরে রাখা শিশু কন্যা রিনা আক্তার কে তার মা-বাবার নিকট প্রদান করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ