শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

চুয়াডাঙ্গায় বাড়ছে পানের দাম

চুয়াডাঙ্গায় বিক্রির জন্য পানের ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতি নিচ্ছে

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : চুয়াডাঙ্গায় লাগামহীন ভাবে বেড়েই চলেছে পানের বাজার। হঠাৎ এভাবে পানের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলার অল্প আয়ের পান পিয়াসীরা। দেখা মিলছে না পান পিয়াসীদের মুখ ভরে পান চিবিয়ে চিবিয়ে গল্পরস।
অধিকাংশ পান পিয়াসীরা  পান পিপাসায় ভোগছেন, বড় পাতার পান হাতের নাগালের বাইরে আর ছোট ছোট ঝরা পানও কিনতে হচ্ছে চার-পাঁচ গুণ দামে। এভাবে পানের বাজার বাড়ায় অস্বাভাবিকভাবে লাভবান হচ্ছেন গয়েসু জাতের পান চাষীরা। তবে লালডিঙ্গি জাতের পান চাষীদের হতাশাই বেশি। কারণ এবার চুয়াডাঙ্গায় শীত কালীন অতিরীক্ত কুয়াশায় ঝরে পড়েছে পান।
বৃষ্টি  না থাকায় আর নতুন করে ধরছে না পানপাতা। পানের দাম বাড়ায় অনেকেই বলছেন, ১কেজি গরুর মাংসের দামে কিনতে হচ্ছে ২ পন পান। সর্বনিন্ম ১পন পানের দাম ৬০ টাকা থেকে ৭০টাকা। ভালোমানের ১ পন পানের দাম প্রায় ২৩০টাকা থেকে ২৫০টাকা পর্যন্ত। এতে করে পান পিয়াসীরা বাজারে পান কিনতে এসে বিপাকে পড়ছেন। এক মাস আগেও এক পন মাঝারী পান ছিলো ৫০ টাকা থেকে ৬৫ টাকায়। জেলার কার্পাসডাঙ্গা বাজারের পান ব্যবসায়ী বাসু জানান, বাজার বাড়ায় বড় পান বড় ব্যবসায়ীরা নিয়ে চলে যাচ্ছে। মধ্যম পানের পন প্রতি ১২০ টাকা থেকে ১৩০ টাকায় ক্রয় করতে হচ্ছে। যে পান গুলো বরজ ওলারা সাধারনতঃ ফেলে দিতেন এগুলোই এখন কিনতে হচ্ছে ৪০ টাকা থেকে ৫০ শত টাকা প্রতি পন।
জানাযায়, জেলার দামুড়হুদা উপজেলার সবচেয়ে বেশি পান পাওয়া যাচ্ছে রুদ্রনগর,গোবিন্দপুর,কুশাঘাটাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায়। এ এলাকায় পান চাষের বরজ বেশি। পান চাষী প্রতাপপুর গ্রামের বকতিয়ার মিয়া জানালেন, গয়েসু ও লালডিঙ্গি জাতের পানের চাষ এ এলাকায় বেশি চাষ করা হয়। আর চুয়াডাঙ্গা জেলাতো পান চাষের জন্য বিখ্যাত। কুয়াশায় লালডিঙ্গি পান ঝরে পড়ায় গয়েসু জাতের পানের বাজার এখন আকাশ ছোঁয়া।
গয়েসু বড় পান পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ২ শত টাকা পণ, লালডিঙ্গি ১৯০ টাকা পন। একাধিক পান চাষীদের সাথে কথা বলে জানাযায়, শীতের সময়ে গয়েসু পান তুলনামূলক অনেক কম ঝরে। এজন্য গয়েসু চাষীরা লাভবান হচ্ছেন।
দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার সুফি রফিকুজ্জামান জানান, পানের দাম বাড়তি থাকায় পান চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। বর্তমানে দামুড়হুদায় ৭৫ হেক্টরেরও বেশি জমিতে পান চাষ হচ্ছে। এ উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ২শত টিরও বেশি পানের বরজ রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ