বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ড্যান্ডরাইট নেশায় আসক্তি বাড়ছে সৈয়দপুরে  শিশু-কিশোরদের

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা: নীলফামারীর সৈয়দপুরের শিশু-কিশোররা ড্যান্ডরাইট নামক আঠালো পণ্য দিয়ে নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। বখে যাওয়া শিশু-কিশোর নেশাখোরদের কারণে সচেতন অভিভাবক মহল তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। ড্যান্ডরাইট নেশা থেকে মুক্ত করতে জনপ্রতিনিধি ছাড়াও পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

কয়েকদিন আগে শহরের অফিসার্স কলোনি এলাকার একটি মাঠে তিন/চারজন মিলে মারামারি করার ঘটনা ঘটেছে। এদের প্রত্যেকের বয়স ১০ থেকে ১২ বছর। তাদের হাতাহাতি দেখে অনেকে মনে করেছিল কোনো খেলা বা অন্য কিছু বিষয় নিয়ে ঝগড়া চলছে। কাছে যেতেই হাতাহাতি বন্ধ হয়ে গেল তাদের। কি কারণে মারামারি করছে জানতে চাইলে ওই শিশুরা কিছুক্ষণ চুপ থাকে। পরে রাব্বি (১০) নামে এক শিশু জানায়, কে কাকে ড্যান্ডরাইট খাওয়া শিখিয়েছে তা নিয়ে ঝগড়া হয়। এ সময় ওই স্থানে থাকা অপর শিশুরা একে অপরের দোষ দিতে থাকে। কৌতূহল প্রকাশ করে ওই শিশুদের কাছে জানতে চাওয়া হয় ড্যান্ডি (ড্যান্ডরাইট) নেশাটি কি? এ সময় তারা জানায় ড্যান্ডি হলো এক ধরনের আঠা। যা জুতা-স্যান্ডেলে লাগানো হয়। এ ছাড়া অন্যান্য কাজেও ওই আঠা ব্যবহার করা হয়।

শিশু মাদকাসক্তরা জানায়, ওই আঠা পলিথিনের ভিতরে ঢেলে দেয়া হয়। পরে পলিথিনের ভিতর মুখ ঢুকিয়ে নাক দিয়ে জোরে নিঃশ্বাস নেওয়া হয়। এভাবে দু-তিনবার নিলে তাদের নেশা পূরণ হয়। তারা বলেছে ৩০/৪০ টাকা হলেই এ নেশা পূরণ করা সম্ভব। 

শহরের হাতিখানা এলাকার বাসিন্দা মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, শিশু-কিশোররা ড্যান্ডরাইট নেশায় আসক্ত হওয়ার কারণে তিনিসহ সচেতন অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত। 

সচেতন মহল মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ড্যান্ডি নেশা বন্ধসহ এ নেশায় আসক্তদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহজাহান বলেন, মাদক ব্যবসা বন্ধসহ কোনো নেশাখোরকে ছাড় দেয়া হবে না। ড্যান্ডরাইট নেশায় আসক্তদের ধরতে অভিযান চালানো হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ