বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সেই ধানসিঁড়ি যৌবন হারিয়ে মৃত প্রায়

মোঃ আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি: বাংলাদেশের অন্য সব নদীর চেয়ে খুব স্বতন্ত্র কিছু নয় ধানসিঁড়ি। অথচ জীবনানন্দ দাশের কবিতায় সবচেয়ে বেশি যে নদীটির নাম এসেছে, তা এই ধানসিঁড়ি। জন্মান্তরে কবি এ নদীতীরে ফিরে আসার আকাক্সক্ষাও ব্যক্ত করেছিলেন, “আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়ির তীরে এই বাংলায়/ হয়তো মানুষ নয়তোবা শঙ্খচিল শালিকের বেশে;/ হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে/ কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঁঠালছায়ায়।” ধারণা করা হয়, এ নদীর ধানসিঁড়ি নামটিও জীবনানন্দের দেওয়া। বরিশালের কবি হেনরি স্বপন বলেন, নদীটির আগেকার নাম ছিল ‘ধানসিদ্ধ’। এখনও বয়োবৃদ্ধরা নদীটি ধানসিদ্ধ নামেই জানেন। একদা এই নদীতীর ধান-চালের ব্যবসার জন্য বিখ্যাত ছিল। তখন এর উভয় তীরে চাল ব্যবসায়ীরা বড় বড় চুলা তৈরি করে দিন-রাত ধান সিদ্ধ করতেন এবং সে সময় কলকাতাসহ দূর-দূরন্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এসে এখান থেকে চাল সংগ্রহ করে নিয়ে যেতেন। নদীর দুই তীরে ধানসিদ্ধ হতো বলেই এই নদীর নাম হয়েছিল ধানসিদ্ধ। কবে, কখন যে, এর নাম বদলে ধানসিঁড়ি হয়েছে, সে তথ্য কারও জানা নেই। হেনরী স্বপনের ধারণা, নামটা নদ-নদী ও জনপদের নামকরণ ও নাম পরিবর্তনের স্বাভাবিক নিয়মে পরিবর্তিত হয়নি। কবি জীবনানন্দের কাব্য খ্যাতি এবং তার বহু কবিতায় এ নদীটিকে ধানসিঁড়ি হিসেবে উল্লেখ করায় নামটি কালে কালে বদলে গেছে। জীবনানন্দ ভক্তদের অনেকেই জানেন না, ধানসিঁড়ি নদীটির অবস্থান কোথায়? কবি আলফ্রেড খোকন বলেন, বেশির ভাগ লোকজন মনে করেন, নদীটির অবস্থান বরিশালে। তিনি বরিশালের ছেলে হওয়ার কারণে বহুজন বহুবার তার কাছে ধানসিঁড়ির কথা জানতে চেয়েছেন। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে কর্মরত এই কবি সর্বশেষ ২০১২ সালের শেষদিকে ধানসিড়ির তীরে গিয়েছিলেন বরিশাল নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের প্রয়োজনে। তিনি বলেন, প্রামাণ্যচিত্রে এটিই যে ধানসিড়ি নদী, এটা বোঝানোর মতো কোনো দৃশ্য পাচ্ছিলেন না। অবশেষে তিনি একটি জামে মসজিদ খুঁজে পেলেন, যেটিতে লেখা আছে ধানসিঁড়ি জামে মসজিদ। তার মতে, নদীতীরে কোথাও জীবনানন্দের কবিতা উদৃত করে একটি ফলক তৈরি করা যেত; করা যেত জীবনানন্দের একটি ভাস্কর্যও। বরিশালের নাট্যদল শব্দাবলীর প্রধান এবং বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ দুলাল বলেন, প্রধান সড়কে ধানসিঁড়ির দিকে যাওয়ার একটি নির্দেশনা ফলক এবং যেখানে ধানসিঁড়ি নদীর শুরু, সেখানটায় জীবনানন্দের একটি ভাস্কর্য তৈরি করার ব্যাপারে তারা উদ্যোগ নেবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ