সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ফ্লোরিডা হামলার পর রাইফেল ধ্বংস করলেন এক 'অস্ত্রভক্ত'

২২ ফেব্রুয়ারি, নিউইয়র্ক টাইমস : যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক স্কট পাপ্পালারডো। একসময় নিজেকে বন্দুকের বৈধ মালিক বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করতেন। নাগরিকদের ব্যক্তিগতভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার বৈধতা দিয়ে মার্কিন সংবিধানে দ্বিতীয় যে সংশোধনী আনা হয়েছে তারও দৃঢ় সমর্থক ছিলেন তিনি। কেবল তাই নয়, আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অধিকারের পক্ষের স্লোগানসম্বলিত একটি ট্যাটুও ছিল এ মার্কিনির। তবে সম্প্রতি পাল্টে গেছে পরিস্থিতি। ফ্লোরিডার স্কুলে বন্দুক হামলায় ১৭ জন নিহত হওয়ার পর আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অধিকার নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে ফেলেছেন তিনি। ধ্বংস করেছেন নিজের রাইফেলটি। তার মতে, মানুষের জীবনের চেয়ে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অধিকারের প্রশ্নটি বেশি জরুরি হয়ে যায়নি। 

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বুধবার ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেলের মারজোরি স্টোনম্যান ডগলাস হাই স্কুলে ঢুকে ওই বন্দুক হামলা চালানো হয়। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে গোলাগুলীর পর হামলাকারী হিসেবে আটক করা হয় স্কুলটির সাবেক ছাত্র নিকোলাস ক্রুজকে। এ ঘটনায় নতুন করে সামনে আসছে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পুরনো বিতর্ক। এক পক্ষ চাইছে আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ। অন্যপক্ষ চাইছে নাগরিকদের আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অধিকারে যেন কোনও ধরনের ব্যত্যয় না ঘটে।

মার্কিন সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীতে দেশটির নাগরিকদের ব্যক্তিগতভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার বৈধতা দেওয়া হয়। তবে এখন অনেক মার্কিন নাগরিকই আগ্নেয়াস্ত্র রাখার বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। তেমনই একজন পাপ্পালারডো। ফেসবুকে পোস্ট করা এক ভিডিওতে পাপ্পালারডো বলেন, ‘আমি আজ সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে এ অস্ত্র দিয়ে যেন কখনও কারও জীবন না নেওয়া যায় তা নিশ্চিত করব। এ বন্দুকের নল কখনও কারও দিকে তাক করা হবে না। আমি মনে করি এ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা প্রয়োজন। কারও জীবনের চেয়ে অস্ত্র রাখার অধিকার কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেলো? যে অস্ত্র এতো বেশি মৃত্যু ও ধ্বংসের কারণ হয়ে ওঠে তা রাখা কি বেশি জরুরি?’ 

পাপ্পালারডো জানান, ২০১২ সালে স্যান্ডি হুক স্কুলে হামলার পর থেকেই তার মনে আগ্নেয়াস্ত্রসংক্রান্ত ভাবনাটির সূচনা হয়। ভিডিওতে তিনি বলেন: “আমার মনে আছে, স্যান্ডি হুক স্কুলে হামলার পর আমি আমার স্ত্রীকে বলেছিলাম, ‘যদি এ অস্ত্র কেবল একজন শিশুরও জীবন বাঁচাতে পারতো, তবে আমি খুশি মনে এর মালিকানা সমর্পণ করতাম’। সে ঘটনার পাঁচ বছর পার হয়ে গেছে। এবং তখন থেকে ২ শতাধিক স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনায় ৪ শতাধিক মানুষ গুলীবিদ্ধ হয়েছে।”

পরিসংখ্যানও বলছে, পাপ্পালারডোর বক্তব্য ঠিক আছে। বন্দুক হামলা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের’ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্যান্ডি হুকের ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ২৩৯টি স্কুলে বন্দুক হামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৪৩৮ জন গুলীবিদ্ধ হয়েছে এবং নিহত হয়েছে ১৩৮ জন।

পাপ্পালারডোর ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে নিউ ইয়র্কের হাডসন ভ্যালি অঞ্চলের মিডলটাউন শহরে। এরপর দেখা যায় পাপ্পালারডো তার বৈধ নিবন্ধনকৃত এআর-১৫ রাইফেলটি দুই খ- করে ফেলেছেন। পরে একটি বন্দুক তিন খ- করে ছবি পোস্ট করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ