বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

দলীয় পদে নওয়াজকে নিষিদ্ধের রায়ে উচ্ছ্বসিত বিরোধীরা

২২ ফেব্রুয়ারি, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন : পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে দলীয় নেতা হিসেবে নিষিদ্ধ করে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায়কে স্বাগত জানিয়েছে বিরোধী দলগুলো। ক্ষমতাসীন দল পিএমএল-এন কে রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। পিএমএল-এন কে দ্রুত দলীয় প্রধান নির্বাচিত করার তাগিদও দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর পর নওয়াজ শরিফকে দলীয় প্রধানের পদ থেকেও সরিয়ে দিতে বিরোধী দলগুলোর আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার একটি রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এদিন সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ থেকে প্রধান বিচারপতি সাকিব নাসির বলেন, সব সরকারি কাগজপত্র থেকে পিএমএল-এন এর প্রেসিডেন্ট হিসাবে নওয়াজ শরিফের নাম মুছে ফেলতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নওয়াজ শরিফ যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন বা যেসব আদেশে অনুমোদন দিয়েছেন সেগুলো আর প্রযোজ্য নয় বলে ধরে নেওয়া হবে।

রায়ের ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ (পিটিআই)। সর্বোচ্চ আদালতের ঐতিহাসিক এ আদেশ উদযাপন করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনও দুর্নীতিবাজের দলীয় নেতৃত্ব প্রদানের সুযোগ নেই উল্লেখ করে পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান খান বলেন, বিচারবিভাগ জনগণের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করছে। নওয়াজকে ‘চোর’ হিসেবে উল্লেখ করে পিটিআই নেতা আরও বলেন, ‘ যে ব্যক্তি জাতীয় সম্পদ লুটপাট করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তিনি নায়ক হতে পারেন না।’

পাকিস্তান পিপল’স পার্টির কো-চেয়ারম্যান আসিফ আলি জারদারি বলেন, আদালত রায় দিয়েছে আর এখন সে রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা সবার দায়িত্ব। এক বিবৃতিতে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ানোর ফল ভালো হয় না এবং তা গণতন্ত্রকে ক্ষুণœ করে। এ ধরনের প্রবণতা পরিহার করা উচিত। ‘এটি দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার যে নওয়াজ শরিফ সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছিলেন।’ বলেন জারদারি।

আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রেসিডেন্ট শেখ রশিদ আহমেদ বলেন, যারা সর্বোচ্চ আদালতকে আবর্জনার বাক্স দেখাতে চেয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের রায় তাদের সবাইকে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলেছে।

মুত্তাহিদা কওমী মুভমেন্টের নেতা ফারুক সাত্তার বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কারণে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর প্রভাব পড়বে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৩ এপ্রিল দুনিয়ার প্রভাবশালী রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং রাঘববোয়ালদের আর্থিক কেলেঙ্কারির তথ্য ফাঁস করে সাড়া ফেলে দেয় আলোচিত ‘পানামা পেপারস’। ফাঁস হওয়া ওই গোপন নথিতে অর্থ পাচারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছেলের নাম উঠে আসায় নিজ দেশে চাপের মুখে পড়েন তিনি। বিরোধী দলগুলো থেকে তার পদত্যাগ দাবি করা হয়। ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর নওয়াজ শরিফ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশে অবৈধ বিনিয়োগের অভিযোগ তদন্তে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। পানামা পেপারস প্রকাশের পর বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই),জামায়াতে ইসলামিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত দেয় আদালত। ২০১৭ সালের ২৮ জুলাই পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর পদত্যাগ করেন নওয়াজ শরিফ। আর ওই বছরের সেপ্টেম্বরে নওয়াজ শরিফ ও তার পরিবারের সদস্যদের সমস্ত সম্পত্তি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার সুপারিশ করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ