বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

আত্রাইয়ে দিগন্ত জুড়ে সবুজের সমারোহ রেকর্ড পরিমাণ জমিতে ভুট্টা চাষ

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগা): শষ্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষক এবং কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর। উপজেলার বিস্তৃর্ণ এলাকাজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। এ দিকে বাম্পার ফলনের আশায় কাক ডাকা ভোর থেকে কৃষক মাঠে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
আত্রাই উপজেলায় এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। ভুট্টার বাম্পার ফলনের আশাবাদী কৃষকরা। বিভিন্ন বিল থেকে বন্যার পানি আগাম নেমে যাওয়া, অনুকুল আবহাওয়া ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ায় স্বল্প খরচে যথাসময়ে কৃষকরা এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন পাবে বলে অভিজ্ঞ মহল ধারণা করছেন।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবারে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে লক্ষামাত্রা ছাড়িয়ে ৪ হাজার ৮০০হেক্টর জমিতে ভুট্টার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার ভুট্টা চাষে এলাকার কৃষকরা বেশি ঝুঁকে পড়ছে। ভুট্টা চাষে খরচ কম অথচ ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ভুট্টা চাষের আগ্রহ বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। অধিক লাভজনক হওয়ায় এলাকার কৃষকরা দিন দিন ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মো:ওয়াজেদ আলী লিটন বলেন, এলাকার যেসব জমিতে পূর্বে বোরোচাষ করা হত সেসব জমির অনেক গুলোতেই আমারা এবার ভুট্টা করছি। বোরোচাষে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি অথচ যখন ধান কাটা মাড়াই শুরু হয় তখন ধানের বাজারে ধস নামে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচই উঠেনা। কিন্তু ভুট্টার উৎপাদন খরচ যেমন কম দামও তেমন বেশি থাকে। এ জন্য আমরা ভুট্টা চাষে এবার ঝুঁকে পড়েছি।
উপজেলার চৌড়বাড়ি গ্রামের আব্দুল জব্বার বলেন, আমাদের এলাকা আলু চাষের জন্য দীর্ঘদিন থেকে বিখ্যাত। উপজেলার সিংহভাগ আলু আমাদের এলাকায় উৎপন্ন হয়ে থাকে। গতবার আলুচাষে লোকসানের শিকার হয়েছি। মৌসুমের শেষদিকে আলুর দাম বাড়লেও এর মুনাফা কৃষকরা পায়নি। মুনাফা পেয়েছে মজুদদাররা। তাই এবার ভুট্টা চাষ করছি। আশা করি ফলনও বাম্পার হবে। তবে ন্যায্য দাম পেলে কষ্ট সার্থক হবে।
উপজেলার ভবানীপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শফি উদ্দিন আহম্মেদ জনান, এবার গত বছরের তুলনায় আমাদের এলাকায় ভুট্টার আবাদ অনেক বেশি হয়েছে। আশা করছি ভুট্টার বাম্পার ফলন হবে।এবং নিয়োমিত কৃষকদের পর্যবেক্ষণ পরামর্শ দিয়ে আসছি।
এ ব্যাপারে আত্রাই উপজেলা কৃষি অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কেরামত আলী বলেন, এলাকার কৃষকরা যাতে ভুট্টা যথাযথভাবে উৎপাদন করতে পারে এবং স্বল্প খরচে উচ্চ ফলনশীল ভুট্টা উৎপাদন করতে পারে এ জন্য আমরা প্রতিনিয়ত কৃষকদের নিকট গিয়ে পরামর্শ প্রদান করছি। বিভিন্ন রোগবালাই থেকে ভুট্টাকে মুক্ত রাখতেও পরিমিত পরিমাণ ওষুধ প্রয়োগের পরামর্শ দিয়ে থাকি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কেএম কাউছার এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, সকল প্রকার ফসল উৎপাদনে আমরা কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছি। যাতে করে কৃষকরা সহজভাবে কৃষি উপকরণ পায়। বিশেষ করে বীজ, সার ও তেল এর জন্য সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি। এবার ভুট্টার ফলন ভালো হয়েছে এবং বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ