বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

উলিপুরে কর্মসৃজন কর্মসূচিতে অনিয়ম

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা: কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় তবকপুর ইউনিয়নে  অতি-দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি ৪০ দিনের কাজের শুরুতেই অনিয়ম ও দূনীতির অভিযোগ হলেও তা প্রতিরোধে কোন উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এ কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ হলে ১৫ দিনের মধ্যে নিস্পত্তির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের।  কিন্তু অভিযোগ করার ৩০ দিন অতিবাহিত হলেও কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানাগেছে, লিখিত অভিযোগটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ কর্মসূচির সুপারভাইজার/উপসহকারী প্রকৌশলী মাঈদুল ইসলাম কর্তৃক অভিযোগ পত্রটি গায়েব করার সন্দেহ করা হচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, এ কর্মসূচির কাজে পূর্ববর্তি বছর বা ফেজের সুবিধাভোগী পরবর্তি বছর বা ফেজে পরিবর্তন করার নিয়ম নেই। কিন্তু বিধি-বিধান অমান্য করে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান অর্থের বিনিময়ে প্রায় ৬০ ভাগ সুবিধাভোগী পরিবর্তন করে স্বচ্ছল পরিবারের নতুন সুবিধাভোগী তালিকাভূক্ত করেছেন। এমনকি অবসরপ্রপ্ত চাকুরীজীবী যার ব্যাংক হিসাবে লক্ষাধীক টাকা জমা আছে, এমন ব্যক্তিকেও শ্রমিক সর্দার হিসাবে তালিকাভূক্ত করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের নির্বাচন সহযোগী স্বচ্ছল লোক তালিকাভূক্ত করায় পূর্ববর্তি বছরের সুবিধাভোগী হত-দরিদ্র পরিবারের অসহায়দের বাদ দেয়া হয়েছে। চেয়ারম্যানের চাহিদা মোতাবেক টাকা দিতে না পারায় ৯ নং ওয়ার্ডের বাদ পরা- আমিনা বেগম স্বামী রেজাউল জব কার্ড নং ৩৮১, রাহেনা বেগম স্বমী তমর জব কার্ড নং ৩৯৭, রোজিবা বেগম স্বমী আঃ বারী জব কার্ড নং ৩৮২, জাহানারা বেগম স্বমী তহিজল জব কার্ড নং ৪০৫, ৮ নং ওয়ার্ডের মমিনুল পিং মৃত ছমেদ আলী, শাহাজাহান পিং মৃত নছর উদ্দিন, ৭নং ওয়ার্ডের আহিদুল পিং নূরুজ্জামান, ৬নং ওয়ার্ডের জিয়াউর পিং নূর ইসলাম এরা সকলে জানান, চেয়ারম্যানের চাহিদা মোতাবেক টাকা দিতে না পারায় তাদেরকে বাদ দিয়ে স্বচ্ছল পরিবারের লোকদের নতুন ভাবে তালিকাভূক্ত করা হয়েছে। এত প্রায় ৬০ ভাগ হতদরিদ্র অসহায় পরিবারের সুবিধাভোগীকে বাদদিয়ে অর্থের বিনিময়ে অনিয়ম করে নতুন সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হয়েছে।
অনিয়ম তদন্তে সুবিচার চেয়ে গক ৭ জানুয়ারী/২০১৮ইং লিখিত ভাবে অভিযোগ করা হয়েছে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে। এই অভিযোগের অনুলিপি কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকসহ সচিবস্টিয়ারিং কমিটি ও প্রকল্প পরিচালক বরাবরে দেয়া হয়েছে। অভিযোগ দাখিলের মাসাধিক কাল অতিবাহিত হলেও কোন উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে তিনি জানান, অভিযোগের ফাইল খুজে পাওয়া জায়নি। তবে এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে চেয়ারম্যানের সখ্যতা থাকায় এ ধরনের টাল-বাহানা চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ