শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

খুলনায় দু’টি প্রকল্পে ১১৩০ মেগাওয়াটের তিন বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ চলতি বছরেই শুরু

খুলনা অফিস: খুলনা মহানগরীর খালিশপুরে চলতি বছরে দু’টি প্রকল্পে ১১৩০ মেগাওয়াটের তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এর মধ্যে খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় ‘খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট (ডুয়েল-ফুয়েল) কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প’ এবং খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলের অভ্যন্তরে ‘রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প’। ৮শ’ মেগাওয়াটের এই প্রকল্পের মধ্যে চারশ’ করে দু’টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। আঞ্চলিক চাহিদা পূরণসহ জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষেই খুলনা মহানগরীর খালিশপুরের ভৈরব নদীর তীরে দুই প্রকল্পে এই তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। 
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্রের পুরাতন ৬০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। আর ওভারহেলিং না করার ফলে ধুকে ধুকে চলা ১১০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটিও দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। তবে  গোয়ালপাড়া পাওয়ার হাউজ অভ্যন্তরে খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট (ডুয়েল-ফুয়েল) কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২০১৬ সালের ১৭ নবেম্বরে চীনের হারবিন এবং ইটার্নি চায়না জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানির সাথে পিডিবি’র চুক্তি হয়। প্রকল্পটিতে ব্যয় হবে তিন হাজার ২৫৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।
খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) রেজাউল করিম বলেন, চীনের প্রকৌশলীরা এ প্রকল্প নির্মাণে কারিগরি সহযোগিতা দেবে। ইতোমধ্যে তারা কয়েক দফা গোয়ালপাড়া এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এই প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত কোনো জমির প্রয়োজন হবে না। খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরে ৫০ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে ১৮-২০ একর জমিতে এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে। আগামী মার্চ-এপ্রিল মাসে প্রকল্প এলাকার স্থাপনা ভাঙার কাজ শুরু হবে। টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু চায়না এক্সিম ব্যাংকের লোন এগ্রিমেন্ট হলেই নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এ বছরই এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নতুন এ প্যান্ট থেকে তরল জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে ৩৩৫ দশমিক ৫ মেগাওয়াট এবং গ্যাস ব্যবহার করে ৩৫৭ দশমিক ৪৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।   
সূত্রটি জানায়, খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলের অব্যবহৃত ৫০ একর জমিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (নওপাজেকো) বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে। তাদের সাথে এই জমি বিক্রির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে এই ৫০ একর জমি, এখানকার স্থাপনা ও গাছের মূল্য মূল্য নির্ধারণ করে বিক্রি করা যাবে বলে অনুমোদন দিয়েছে শিল্পমন্ত্রণালয়। মিলের ৫০ একর জমি, স্থাপনা ও গাছের মূল্য বাবদ ৮৬৪ কোটি ২৪ লাখ ১৩ হাজার ৬২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর জ্বালানী হিসেবে ভারত থেকে আমদানি করা এলএনজি গ্যাস (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে সাত হাজার ২৫৬ কোটি টাকা। চলতি বছরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মিলের উপ-ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. নুরুল্লাহ বাহার বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য মিল অভ্যন্তরের ৫০ একর জমি, স্থাপনা ও গাছ বিক্রির জন্য অনুমোদন দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। বাকী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর র্উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা মোতাবেক জমি হস্তান্তর করা হবে।
নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির প্রকল্প পরিচালক শহিদুল মোরছালিন জোয়াদ্দার জানান, প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে ‘রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প’। এই প্রকল্পে দু’টি কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্র চারশ’ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন। এ দু’টিই হবে ডুয়েল-ফুয়েল কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র। এটি থেকে গ্যাসের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এ জন্য আড়ংঘাটা গ্যাস স্টেশন থেকে এখানে গ্যাস সংগ্রহ করা হবে। তিনি বলেন, জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জমি হস্তান্তরের পর কাজ শুরু করা হবে। চলতি বছরের জুনের মধ্যে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ