শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

শাহরাস্তিতে পল্লী চিকিৎসক হত্যা মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড ২ জনের যাবজ্জীবন

ফয়েজ আহমেদ, শাহরাস্তি (চাঁদপুর) সংবাদদাতা : চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার দেবকরা গ্রামের পল্লী চিকিৎসক আবুল বাসার (বাসু ডাক্তার) কে হত্যার অপরাধে মো. মনির হোসেন (২৫) কে মৃত্যুদ-, মো. আব্দুল আজিজ (২৩) ও মো. আমির হোসেন (২৭) কে যাবজ্জীবন কারাদ- এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদ- দিয়েছে আদালত। সোমবার গতকাল চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জজ সালেহ উদ্দিন আহমদ এই রায় দেন।

মৃত্যুদ- প্রাপ্ত মনির হোসেন উপজেলার পদুয়া গ্রামের মো. আব্দুস সাত্তারের ছেলে এবং যাবজ্জীবন কারাদ- প্রাপ্ত মোঃ আব্দুল আজিজ উপজেলার দেবকরা গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমানের এবং মোঃ আমির হোসেন একই গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে। হত্যার শিকার পল্লী চিকিৎসক আবুল বাসার (বাসু ডাক্তার) দেব করা গ্রামের মৃত হাফেজ আলী আশরাফের ছেলে। তিনি একজন পল্লী চিকিৎসক ছিলেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানাযায়, ২০১১ সালের ৯ জানুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে দেবকরা নিজ বসত বাড়ির খুবই নিকটে ঘর নির্মাণের জন্য রড ক্রয় করার টাকা নিয়ে বাড়িতে ফেরার পথে পূর্ব থেকে উৎ পেতে থাকা উল্লেখিত আসামীরা মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রদিয়ে আঘাত করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ১লাখ ৩০ হাজার টাকা তারা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। তার চিৎকারে পরিবারের লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধার করে প্রথমে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরবর্তীতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল বাসার ১১ জানুয়ারি রাত ১২টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন। হাসপাতালে নেয়ার পথে আবুল বাসার আসামী মনির হোসেনসহ আরো ২/৩ জনের নাম বলেন।

এই ঘটনায় ১০ জানুয়ারি শাহরাস্তি থানায় নিহতের ছেলে মোঃ জহিরুল ইসলাম উল্লেখিত আসামীদের বিরুদ্ধে ৩৯৪/৩০২/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০২।

সরকার পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আমান উল্যাহ জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহরাস্তি থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জহিরুল হক ২০১১ সালের ৮ মার্চ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত দীর্ঘ সাত বছর মামলা চলমান অবস্থায় ২৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন এবং আসামীদের মধ্যে মনির হোসেন ও আব্দুল আজিজ তাদের অপরাধ স্বীকার করায় তাদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন। অপর আসামী আমির হোসেন পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করার আদেশ দেন।

সরকার পক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ছিলেন মোক্তার আহম্মেদ এবং আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. ইকবাল-বিন-বাশার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ