রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে সত্যের কোনো সম্পর্ক নেই

স্টাফ রিপোর্টার: একাদশ নির্বাচনে খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে সরকার ‘ফাকা মাঠে গোল’ দিতে চাইলে জনগণ  তা গ্রহণ করবে না বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল সোমবার বিকালে গণভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবার পর রাতে গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে বিএনপি মহাসচিব এক তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে মিথ্যাচার করেছেন। এমন কতগুলো কথা বলেছেন যার সাথে সত্যের কোনো সম্পর্ক নেই। নির্বাচন নিয়ে উনি(প্রধানমন্ত্রী) কথা বলছেন, নির্বাচন ঠেকে থাকবে না বলেছেন। এর সাথে তার অভ্যাস আছে, অভিজ্ঞতা আছে। ২০১৪ সালে যে নির্বাচন তারা করেছেন সেখানে শতকরা ৫% মানুষও ভোট দিতে যায়নি।
 আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন না করলে এদেশে নির্বাচন কারো কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। এটা বাস্তবতা। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে যারা নির্বাচন করতে চায়, তারা আসলে প্রতিপক্ষকে বিরোধী দলকে এবোর্ট করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চায়, একতরফা করতে চায়। সেটা এদেশের মানুষ গ্রহণ করবে না।”
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করবার জন্যে, একদলীয় শাসন ব্যবস্থাকে পাকাপুক্ত করবার জন্য আবার একটা ওই একতরফা-একদলীয় নির্বাচন করবার পায়তারা তারা করছেন এবং সেভাবে একটা নীল নকসা করেছেন।
সেই নীল নকসার অনুযায়ী দেশনেত্রীকে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে একটা সম্পূর্ণ ভুয়া নতি তৈরি করে তারা আদালতকে ব্যবহার করে, আদালতের ঘাড়ে বন্দুক চাপিয়ে দন্ড দিয়েছেন। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, এভাবে ছলচাতুরি করে দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আর যাই করা যায়, দেশের মানুষের ভালোবাসা নেয়া যাবে না, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যাবে না এবং জনগণের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করা যায় না।’’
বিএনপির গঠনতন্ত্রের ‘৭ ধারা’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘ বিএনপির ৭ ধারায় ছিলো পিও প্রেসিডেন্ট অর্ডার-৮, যেটা ১৯৭২ সালে করা হয়েছিলো। সেই ধারা এখন নেই, এটা এখন বাতিল হয়ে গেছে। সেই দন্ডিত ব্যক্তি দলের কোনো পদের জন্য নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারবে না, দলের প্রধান হতে পারবে না। আজকে একটা কথা মানতে হবে যে, এই দন্ডটা কারা দিয়েছে? একটি আদালত এই দন্ড দিয়েছে, সেই আদালত কার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই আদালত সরকারের নিয়ন্ত্রণে।
৭ ধারায় পরিবর্তনটা কী হয়েছে? সমাজের স্বীকৃত কোনো ব্যক্তি যদি হয়ে থাকেন- সেটা এখনো আছে। সুতরাং মেজর কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমি একটা বিষয় বুঝতে পারি না যে, বিএনপির গঠনতন্ত্র নিয়ে কে প্রধান হলো, না হলো। উনাদের এতো মাথা ব্যথা কেনো, উনাদের এতো আশঙ্কা কেনো? আজকে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে তাদের(সরকার) এতো আশঙ্কা কেনো, ভয় কেনো? উনি নির্বাচন করতে পারবেন কি পারবেন না। নির্বাচন না করতে পারলে আপনার সুবিধা হয়, আমরা ভালো করেই বুঝি।”
এক প্রশ্রের জবাবে তিনি বলেন,  দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান অটোমেটিক্যালি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করবেন। এটা তাদের(সরকার) বিষয় না। বিষয়টা আমাদের। এটা আমাদের কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
খালেদা জিয়ার রায়ের কপি পাওয়ার পর পরবর্তি পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘ আমি আইনগত দিক বলতে পারবো না। এটা আইনজীবীরা জানেন। তবে অবশ্যই আপীল করা হবে। আশা করি এই সাপ্তাহে আপীল ফাইল করা হবে।
প্রতিক্রিয়ার সময়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুল কাইয়ুম উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ