শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ব্যাংকিং খাতের পাশাপাশি নৈরাজ্য চলছে শিক্ষাতেও

সংসদ রিপোর্টার : ব্যাংকিং খাতের পাশাপাশি শিক্ষা খাতে নৈরাজ্য চলছে জানিয়ে এসব কারণে জনমনে সরকার সম্পর্কে বিরূপ ধারণার জন্ম হচ্ছে বলে বলে মন্তব্য করেছেন সরকারের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। একইসঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, গ্যাস ও পানি সংকট, খুন, ধর্ষণ, গুমের ঘটনা তুলে ধরে এখনই এসব বন্ধ করা না গেলে প্রধানমন্ত্রীর যোগ্যতার প্রতি জনগণের বিপুল আস্থা-বিশ্বাসের পরও সংশয়-সংকট তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে রাশেদ খান মেনন এসব মন্তব্য করেন। এসময় তিনি শিক্ষা খাত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে সুবাতাস টেকেনি। এবারের প্রশ্নপত্র ফাঁসের মহামারী কেবল পরীক্ষার্থী নয়, তাদের অভিভাবকদেরও সরকার সম্পর্কে বিরূপ ধারণার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর দায়িত্ব নিতে রাজী নয়। শতভাগ পাস আর জিপিও-৫-এর ওই ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা অতিক্রম করতে পারে না।
মাদরাসা শিক্ষার সমালোচনা করে মেনন বলেন, মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এমনকি কওমী মাদরাসার স্বীকৃতির পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। কিন্তু সেসব প্রতিষ্ঠানে কি শিক্ষা দেয়া হচ্ছে তা কারও বিশেষ অজানা নয়। আমার সাবেক ড্রাইভারের ভাইকে আমার কাছে পাঠিয়েছে কর্মসংস্থানের জন্য। সে মাদরাসায় পড়েছে। নামাযের নিয়মকানুন দূরে থাক, সুরা ফাতেহাও সে জানে না। এমনিতেই এই বহুমুখী শিক্ষা আমাদের সমাজ সংস্কৃতিকে বিভক্ত করছে, তার উপর যা তৈরি করা হচ্ছে তাতে তারা হয় মাদকাসক্ত অথবা জঙ্গিবাদীতে পরিণত হবে।
ব্যাংকিং খাতে দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের নৈরাজ্য চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। খেলাপী ঋণ বেড়েই চলেছে। সরকারকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মূলধন জোগাতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির টাকা ফিরে পাওয়ার কোন সম্ভাবনা আছে কিনা আমি জানি না। প্রতিনিয়ত বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে। এই পাচারকৃত অর্থে বাংলাদেশের কয়েকটি বাজেট হতে পারে।
দুর্নীতির জন্য খালেদা জিয়ার কারাদন্ড হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট শাসনের সঙ্গে তারেকের দুর্নীতির ক্ষুদ্রাংশ এটি। অনেকে এর পিছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি খুঁজছে। কিন্তু ১৪ দলের ২৩ দফায় দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তাই পূরণের সূচনা হল মাত্র। দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নকে বিচারের আওতায় আনা ও তাকে পরিণতিতে নিয়ে যাওয়া জরুরি। খালেদা জিয়ার এই মামলা শেষ করতে ১০ বছর লেগেছে। এই দীর্ঘ সূত্রতা জনমনের আস্থাকে কমিয়ে দেয়। জনগণ আশা করে এই ধারা অব্যাহত থাকবে। কেবল দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলেই জাতীয় প্রবৃদ্ধি আরও ২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। জনগণ আশা করে দুদক ব্যাংক লুট, জালিয়াতী, অর্থ পাচার- এসব ক্ষেত্রে দুর্নীতির তদন্ত করবে, আইনের আওতায় আনবে। পাকিস্তান যদি পানামা পেপারস-প্যারাডাইস পেপারস নিয়ে তদন্ত করতে পারে, আমরা পারছি না কেন।
সরকারি দলের নেতাদের দলবাজি, দখলবাজির সমালোচনা করে রাশেদ খান মেনন বলেন, এটি নির্বাচনের বছর। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, গ্যাস সংকট, পানি সংকট এসব দৈনন্দিন বিষয় মানুষকে আলোড়িত করে। আতঙ্কিত করে খুন, ধর্ষণ, গুমের ঘটনাবলী। মানুষ বিরক্ত হয় দলবাজি, দখলবাজি, অন্তর্দলীয় কোন্দলে। এক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা না নেয়া গেলে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেবে। এসবের প্রতিবিধানে এখনই পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী-জঙ্গিবাদী শক্তি এবং দুর্নীতি-দুবৃত্তায়নের ধারকদের রুখে দিতে পেরেছে দাবি করে মেনন বলেন, এই সরকার তাদের কলিজায় হাত দিয়েছে। যে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের তারা বিদেশী দূতাবাসে পুনর্বাসিত করেছিল, ইনডেমনিটি আইনে তাদের বিচার বন্ধ করে রেখেছিল তাদের বিচার করে ফাঁসি দিয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে তারা জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছিল। সেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে। বিডিআর বিদ্রোহের বিচার হয়েছে। এখন খালেদা-তারেকের দুর্নীতি, হত্যা-হামলার বিচার হয়েছে-হচ্ছে। সুতরাং এরা মরীয়া। প্রত্যাক্রমণ করবেই। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তারা চেষ্টা করেছিল। সরকারের দৃঢ়তা, জনগণের প্রতিরোধে তা প্রতিরুদ্ধ হয়েছে। এবার সেই প্রতিআক্রমণের মোকাবিলায় অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক শক্তির, উন্নয়নের শক্তির দৃঢ় ঐক্য ছাড়া বিকল্প নেই। নির্বাচনে-রাজপথের লড়াইয়ে ১৪ দলের সেই ঐক্যকে আরও কার্যকর রূপ দিতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ