বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সকল শক্তি দিয়ে বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে হবে

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : কারাবন্দিত্বের পরে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ‘আইনের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না’ বলে অভিযোগ করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকার বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ দলীয়করণের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রীকে অন্যায়ভাবে সাজা দেবার পরে সরকার এখন আইনের ন্যূনতম যে সুযোগ-সুবিধা আছে, যে বিধান আছে সেগুলো পর্যন্ত পালন করছে না। গতকাল সোমবার সকালে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, কর্মদিবস পাঁচদিনের মধ্যে বিচারের রায়ের কপি দেবার কথা সেটা এখন পর্যন্ত তারা দেয়নি। আজকে  (সোমবার) তাকে (খালেদা জিয়া) একটি নির্জন কারাগারে অন্ধ প্রকোষ্টে রাখা হয়েছে- যেটা কোনো মতেই এই স্বাধীন দেশের আইনের মধ্যে পড়ে না। উল্লেখ্য, গতকাল রায়ের সার্টিফাইড কপি পাওয়া গেছে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে কারাগারে বন্দী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া মুক্তির দাবিতে এই মানববন্ধন করা হয়। মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের পরিচালনায় মানববন্ধনে মহিলা দলের রাশেদা বেগম হীরা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, শাম্মী আখতার, হালিমা নেওয়াজ আরলী, ইয়াসমীন আরা হক, আমেনা খাতুন, শামসুন্নাহার ভুঁইয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হবার আহ্বান রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যার বয়স ৭৩ বছর। যিনি তার সমস্ত রাজনৈতিক জীবনটাই এদেশের জনগণের অধিকারের জন্য, ভোটের অধিকারের জন্য, তাদের বাঁচার অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছেন, লড়াই করেছেন। জীবনের শেষ সায়াহ্নে এসে যিনি কোনোদিন অন্যায়ের সঙ্গে, স্বৈরাচারের সঙ্গে, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপোষ করেননি। সেই নেত্রীকে আজকে তারা আটকে রেখেছে।  দেশ, গণতন্ত্র এবং খালেদা জিয়া-এইগুলো আজ একাকার হয়ে গেছে। তাই দেশনেত্রীকে আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে, জনগণের শক্তি দিয়ে মুক্ত করে আনতে হবে। আসুন তার মুক্তির দাবিতে আমরা সোচ্চার হই। তাকে আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমরা মুক্ত করে নিয়ে আসবো ইনশাআল্লাহ।
খালেদা জিয়াকে ‘ভয় পায়’ বলেই সরকার আগামী নির্বাচনে ‘নীল নকসা’ বাস্তবায়ন করত তাকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাবন্দী করেছে বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ব্যর্থতা, আর্থিকখাতে দুর্নীতিসহ সর্বক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। এ থেকে উত্তরণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার কথা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, প্রতিটি দেশপ্রেমিক, গণতান্ত্রিক মানুষের দায়িত্ব সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই যে ফ্যাসিস্ট সরকার যারা দেশের মানুষের বুকে পাথরের মতো চেপে বসেছে, তাদের অপসারণ করতে হবে। দেশে গণতন্ত্রের মুক্ত বাতাস বইতে হবে। একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করে দেশে গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী কারাগারে যাবার সময়ে যে কথা বলে গেছেন যে, আপনারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করবেন, অবিচল থাকবে, মাথা নত করবেন না এবং শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক উপায়ে এর প্রতিবাদ জানাবে, আন্দোলন করতে থাকবে। পৃথিবীর ইতিহাস বলে এভাবে অন্যায় করে নিপীড়ন-নির্যাতন করে কোনো দিনই টিকে থাকা যায় না। সর্বত্র তারা স্টিমরোলার জানাচ্ছে। দেশে হত্যা, খুন, ডাকাতি, বাড়ি দখল চলছেই। প্রতিটি দিন প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। এগুলোর কোনও বিচার হয় না।
তিনি বলেন, এদেশে সরকার নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। আজ ব্যাংকিং ব্যবস্থা ধবংস হয়ে পড়ছে। শেয়ার মার্কেট ধবংস হয়ে গেছে। কোথাও কোনো বিচার নেই, সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা হয় না। আজকে দেশে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে তাদের কোনো বিচার হয় না। কারণ এর সাথে সরকার জড়িত রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার দেশনেত্রী ভয় পায়। তারা জানে, আসন্ন নির্বাচনে খালেদা জিয়া বাইরে থেকে নির্বাচনে নেতৃত্ব দিতে পারলে, কোনো দিনই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সেজন্য এই নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে সবাইকে সোচ্ছার হতে হবে। আন্দোলনের মধ্য দিয়েই তাকে মুক্ত করে আনতে হবে। আজ মা-বোনেরা জেগেছেন, তাদের অনুরোধ জানাব- আপনারা সবাইকে নিয়ে রাস্তায় নামুন। দেশকে উদ্ধার করতে হবে, দেশনেত্রীকে উদ্ধার করতে হবে। জনগণের সমস্ত শক্তি দিয়ে তাকে মুক্ত করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ