মঙ্গলবার ১৯ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

কাজিপুরে রোপা আমনের ফলন অর্ধেকেরও কম ॥ কৃষকরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত

আব্দুল হামিদ, কাজীপুর (সিরাজগঞ্জ): কাজিপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রোপা আমন ধানের ফলন অর্ধেকের কম হওয়ায় এলাকার কৃষক হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। গত বছর অক্টোবর মাসের শেষের দিকে অতিবৃষ্টি ও ঝড় বয়ে যাওয়ায় বেশিরভাগ ধান মাটিতে পড়ে যায় এবং রোপা আমনে চিটা হওয়ায় ধানের ফলন অর্ধেকেরও কম হয়েছে। গান্ধাইল ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের কৃষক মো. আব্দুর রশিদ বলেন, ৫ বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করে মাত্র ২৫ মণ ধান পাওয়া গেছে। আর ফলন ভাল হলে ৬০ থেকে ৭০ মণ ধান হতো।
জানা গেছে বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা একই হারে ফলন পাওয়ায় তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
সামনে ইরি- বোরো ধানের চাষ নিয়ে তারা দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এ বছর উপজেলায় রোপা আমনের চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৭৫০ হেক্টর। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান জানান, আবহাওয়া ব্যাপকভাবে খারাপ থাকায় রোপার ফলন বিপর্যয়ের বড় কারণ।
ঘন কুয়াশায় বীজতলা বিবর্ণ: প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সবজির চারা বিবর্ণ হয়ে শুকিয়ে গেছে। এতে সাধারণ কৃষক দারুণভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড শীত আর ঘন কুয়াশার কারণে থমকে দাঁড়িয়েছে ইরি বোরো চাষ ও নষ্ট হচ্ছে সবজি বাগানও। শৈত্যপ্রবাহ আর ঘন কুয়াশায় বোরো বীজতলা বিবর্ণ হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। বীজতলার চারা গাছগুলো লালচে আর হলুদ হয়ে শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সময় মত বোরো আবাদ করা যাবে কিনা তা নিয়ে শংকা কাটছে না স্থানীয় কৃষকদের।
 প্রতি বছর ঠিক এই সময়ে কৃষকরা ইরি-বোরোর বীজ উত্তোলন করে দিনরাত সেচ পাম্প চালু রেখে এবং চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেলেও এবারের চিত্র একটু ভিন্ন।
প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশার কারণে কৃষকদের খুব একটা মাঠে দেখা যাচ্ছে না। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, শীত ও ঘনকুয়াশার কারণে প্রায় ৬০ শতাংশ বোরো বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। সে সাথে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সবজি বাগান। ক্ডো ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে হলদে লালচে বিবর্ণ আকার ধারন করে শুকিয়ে মরে যাচ্ছে বীজতলা।
উপজেলার বরইতলা মেরারপাড়ার কৃষক মুকুল হোসেন, আল মাহমুদের সাথে কথা বললে তারা জানান, তীব্র শীত আর ঘনকুয়াশার কারণে ইরিবোরোর চারা বড় হচ্চে না। লালচে রং ধরে শুকিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হাটবাজারে ইরিবোরোর চারা বীজের মূল্য বৃদ্ধির দরুণ কৃষকরা চাষাবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। বরইতলা গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম এক পণ (৮০ মুঠা চারা বীজ হাটে নিয়ে ৫০০ টাকা বিক্রি করেছে। এই দাম স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে অনেক বেশি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ