সোমবার ২৫ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

দু’দফা সময় ও সাড়ে চার কোটি টাকা বৃদ্ধি

খুলনা অফিস: খুলনা আধুনিক রেল স্টেশনের দু’দফা সময় এবং সাড়ে চার কোটিরও বেশি টাকা ব্যয় বাড়ানোর পর আগামী জুন মাসে এর নির্মাণ কাজ শেষ হচ্ছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের হিসাব মতে এ পর্যায়ে ৮৩ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কোন আকস্মিক সমস্যা দেখা না দিলে আগামী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এর নির্মাণ কাজ সমাপ্তের বিষয়ে আশাবাদী বলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তমা কনসট্রাকশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মোসাব্বির হক বিপ্লব জানান, মূল স্টেশন বিল্ডিং, রঙ, ফিনিসিং, প্লাটফর্ম ও এর কার্নিস, মোজাইক, টাইলস, মার্বেল পাথরের কাজ চলছে। এখন ড্রেনেজ, কার, রিক্সা পার্কিং এর কাজ বাকী রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই এসব কাজ সম্পন্ন সম্ভব বলে তিনি জানান।
নির্ধারিত সময়ের অনেক দেরীতে নির্মাণ কাজ সম্পন্নের বিষয়ে তিনি বলেন, শিববাড়ি থেকে পাওয়ার হাউজ পর্যন্ত যশোর রোডের দু’ধারে দীর্ঘদিনের দোকানপাট উচ্ছেদে দেরী, সীমানা প্রাচীর, লোকশেডের ঢোকার রেল লাইন তোলার কাজ দেরী করায় ১ ও ২নং প্লাটফর্মের নির্মাণসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজ বিলম্ব হয়েছে।
খুলনা আধুনিক রেল স্টেশন নির্মাণ তদারকি কাজে রেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী বীরবল মন্ডল জানান, স্টেশনটির নির্মাণ কাজ ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজ বিলম্ব করায় ২০১৭ সালের জুনে একবার এরপর ২০১৮ সালের জুন মাসে সর্বশেষ সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
এখন কাজের শেষ পর্যায়ে জুনের আগেই সমস্ত কাজ শেষ করে এটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে।
তিনি আর জানান, প্রথমে এর নির্মাণ ব্যয় নির্ধারিত ছিল ৫৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। পরবর্তীতে এর ব্যয় বাড়িয়ে হয়েছে ৬০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মোসাব্বির হক বিপ্লব জানান, স্টেশন নির্মাণের কাজের সময়সীমা বাড়ার জন্য এর ব্যয় বাড়েনি। নর্দমা, কার ও রিক্সা পার্কিং, সীমানা প্রাচীর ও ফায়ার ফাইটিং রুম কাজ পরবর্তীতে সংযোগ হওয়া ব্যয় বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
খুলনা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, আধুনিক এই রেল স্টেশনে রাজশাহী ও কমলাপুর রেল স্টেশনের মত সকল আধুনিক সুযোগ সুবিধা যাত্রী সাধারনের জন্য থাকছে। তিনটি প্লাটফর্মে ৬ লাইন দিয়ে ছ’টি ট্রেন আপ-ডাউন করতে পারবে। ছয়টি টিকিট কাউন্টার, ফায়ার ফাইটিং ব্যবস্থা, ওয়াটার হাইডেন ছাড়াও থাকবে পুরুষ ও মহিলাদের আলাদা বাথরুম, ভিআইপি ২টি, ১ম শ্রেণি, শোভন যাত্রীদের আলাদা ওয়েটিং রুম।
এছাড়াও রেস্টুরেন্ট, ব্যাংক, নামাজের ঘর, ৩য় তলায় আবাসিক হোটেল পিএবিএক্স টেলিফোন ব্যবস্থা, প্রতিটি প্লাটফর্মেও প্রত্যেক পিলারেরর নিচে যাত্রীদের বসার ব্যবস্থাসহ পুরো লের স্টেশনটি থাকবে সিসি ক্যামেরার আওতায়। কর্তৃপক্ষ আশা করছেন আগামী জুনের আগেই এর সমস্ত কাজ সম্পন্ন করে এতদাঞ্চলের যাত্রীদের দীর্ঘদিনে আশা আকাঙ্খা পূরণ করতে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ