বুধবার ২০ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

সাতক্ষীরায় পুলিশ কনস্টেবলের ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা

খুলনা অফিস : সাতক্ষীরার বকচরা বাইপাস সড়ক এলাকায় তুচ্ছ ঘটনার জেরে পুলিশ কনস্টেবলের ছেলে স্কুলছাত্র সাকিব হোসেনকে (১৬) পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত সাকিব হোসেন পুলিশ লাইন্স স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্র ও কলারোয়ার সরসকাঠি পুলিশ ফাঁড়ির কনেস্টবল নজরুল ইসলামের ছেলে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা রাশেদ নামের অপর এক স্কুলছাত্র আহত হয়েছে। তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাশেদ শহরের রসুলপুর গ্রামের সাবেক পুলিশ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে।
এদিকে স্কুলছাত্র সাকিব হোসেন হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার পর সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলো-শহরের কামাল নগরের হাফিজুল ইসলাম (৬০), মেহেদি হাসান ফয়সল (১৫), যুবায়ের হোসেন (১৮), রনি (১৮), শাহিনুর (২৪), অমি (১৪) ও ইটাগাছার আবু হাসান (৩৮)।
পুলিশ ও অন্যান্য সূত্র জানায়, সাকিব হোসেন, রাশেদ ও অমি সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্স স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্র। তারা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বকচরায় মাহফিল শুনতে যায়। সেখানে গিয়ে কামালনগর কলোনীর আব্দুল কাদের ও একই এলাকার শান্তর সঙ্গে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি সেখানেই নিষ্পত্তির পর মাহফিল শুনে বাড়ি ফেরার পথে বকচরা বাইপাস সড়কে পৌঁছানো মাত্রই কাদের ও শান্তসহ তাদের কয়েকজন সঙ্গী সাকিব, রাশেদ ও অমির ওপর হামলা করে। এ সময় গাছের ডাল দিয়ে তাদের এলোপাতাড়ি পেটানো হয়। সাকিব ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে। আহত হয় রাশেদ। দৌঁড়ে পালিয়ে প্রাণে বেঁচে যায় অমি। পরে স্থানীয়রা গুরুতর জখম অবস্থায় সাকিব ও রাশেদকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক সাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর সঙ্গী আহত রাশেদ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. হাফিজুল্লাহ জানান, ভারী জিনিস দিয়ে আঘাত করায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে সাকিবের মৃত্যু হয়েছে। রাশেদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (ইনটেলিজেন্স) মহিদুল হক জানান, সাকিব হোসেন হত্যার ঘটনায় সাতজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া হামলার শিকার অমিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, চিকিৎসাধীন রাশেদ কিছু তথ্য দিয়েছে। তারই ভিত্তিতে শহরের কামালনগরের আমিরুজ্জামান বাবুর ছেলে অমিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাতেই পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়।
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মেরিনা আক্তার বলেন, ‘আমার প্রাথমিক তদন্তে ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে ঝগড়ার পরে মারামারি হয়েছে বলে ধারণা করছি। এ ঘটনায় স্থানীয় যুবলীগ নেতা মিলন জড়িত কিনা বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ইতোমধ্যে ৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ