মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

আজ থেকে ৪৭৮ ক্যামেরা গুণবে সুন্দরবনের বাঘ

খুলনা অফিস : আজ বুধবার থেকে সুন্দরবনের অতন্দ্র প্রহরী রয়েল বেঙ্গল টাইগার গণনা শুরু হচ্ছে। এ দিন একসঙ্গে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও সুন্দরবন দিবস। এদিন থেকেই ৪৭৮টি ক্যামেরা গুনবে সুন্দরবনের বাঘ। বনের হিরণ পয়েন্টের নীলকমল বনফাঁড়ি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণনার কার্যক্রম শুরু হবে। ওই গণনায় বন বিভাগ ও ওয়াইল্ড টিমের মোট ৫৬ জন কর্মী কাজ করবেন।
ক্যামেরায় ছবি তোলা ও খালে বাঘের পায়ের ছাপ গুনে এই গণনার কাজ চলবে ৭৫ দিন। সুন্দরবনের মধ্যে ২৩৯টি গ্রিড পয়েন্টে এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। ক্যামেরা পদ্ধতিতে সুন্দরবনের বাঘ গণনা জরিপ-২০১৫-এর ফলাফল অনুযায়ী বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি। এর আগে জরিপে বাঘের সংখ্যা বলা হয়েছিল ৪০০ থেকে ৪৫০টি।
২০১০ সালে বন বিভাগ ও ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ যৌথভাবে সুন্দরবনের খালে বাঘের বিচরণ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে ওই জরিপ চালায়। ২০০৪ সালে বন বিভাগ জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহায়তায় বাঘের পায়ের ছাপ গুনে জরিপ করেছিল। এতে বাঘের সংখ্যা এসেছিল ৪৪০টি। ক্যামেরায় ছবি তুলে, খালে বাঘের পায়ের ছাপ গুনে ও তার গতিবিধির অন্য তথ্য-প্রমাণ ব্যাখ্যা করে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে এবারের জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের খুলনা ও শরণখোলা রেঞ্জের ২৩৯টি পয়েন্টের গাছ বা খুঁটির সঙ্গে ৬৭০টি ক্যামেরা বসিয়ে এ বাঘ মনিটরিং করা হবে।
এর আগে প্রথম দফায় ২০১৩ সালে সুন্দরবনের ২৬ শতাংশ এলাকায় ক্যামেরা ট্রাপিং পদ্ধতিতে বাঘ শুমারি হয়েছিল। ওই সময় বাঘের উপস্থিতি বেশি এমন এলাকা বেছে নেয়া হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ১৫ মার্চ সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে ক্যামেরা ট্রাপিং’র মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
এবারে খুলনা ও শরণখোলা রেঞ্জে মনিটরিং শেষ হওয়ার পর তিনটি রেঞ্জের ফলাফল ২০১৯ সালের প্রথম দিকে প্রকাশ করা হবে। তখনই জানা যাবে সুন্দরবনে বাঘের প্রকৃত অবস্থান।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্টি অ্যান্ড উড টেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. নাজমুস সাদাত বাঘ মনিটরিং কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, এ কাজে দেশী গবেষকদের সম্পৃক্ততা থাকলে ভালো হতো। বাঘ রক্ষায় ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সহজ হতো।
খুলনা সার্কেল বন সংরক্ষক, মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, সর্বশেষ ২০১৩ ও ২০১৪ সালে ক্যামেরা ট্রাপিং পদ্ধতিতে বাঘ গণনা করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের মার্চে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১০৬টি। তাই বর্তমানে সুন্দবনের বাঘের সংখ্যা, অবস্থান ও গতিপ্রকৃতি জানতেই এবারের মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
খুলনা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মদিনুল আহসান জানান, এবারে বাঘের সংখ্যা গণনার পাশাপাশি পর্যবেক্ষণ করা হবে বাঘ যেসব প্রাণি খায় সেগুলোর অবস্থাও। বাংলাদেশসহ ভারত, নেপাল ও ভুটানে একই সঙ্গে শুরু হচ্ছে বাঘ পরিবীক্ষণ। বাঘ রক্ষায় ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণের জন্য করা হচ্ছে এই মনিটরিং। এজন্য মঙ্গলবার অনুশীলন এবং বুধবার ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু হবে।
তিনি বলেন, ম্যানগ্রোভ এই বনাঞ্চলে বাঘের সঠিক সংখ্যা কত তা জানতে ১৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘ গণনা শুরু হবে। ইউএসএআইডির অর্থায়নে বেসরকারি সংস্থা ওয়াইল্ড টিম সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছে সুন্দরবনে ক্যামেরা ট্রাপিং করবে। যেহেতু সরকারি স্থানে করবে সেহেতু সরকার ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে আমি ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে আছি। সমগ্র প্রোগ্রামটির আমি কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করছি। তিনি বলেন, বাঘের সংখ্যা নির্ণয়ের জন্য ক্যামেরা ফাঁদ (ক্যামেরা ট্রাপিং) এখন বিশ্বের সর্বাধুনিক পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে সুন্দরবনে বাঘের প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয় করা যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ