শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়ে যারা বিএনপির বিনাশ চেয়েছিল আজ তারাই অস্তিত্ব সংকটে

খুলনা : গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় নগরীর কেডি ঘোষ রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে খুলনা মহানগর বিএনপির মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়

খুলনা অফিস : খুলনায় বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর শাখার সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম বলেছেন, মুক্ত খালেদা জিয়ার চাইতে কারাবন্দী খালেদা জিয়া অনেক বেশি শক্তিশালী। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে জেলে দিয়ে যারা বিএনপির বিনাশ চেয়েছিল, আজ সেই আওয়ামী লীগই নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে সংকটে পড়ছে। গণতন্ত্রের সংগ্রামের আপোসহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার পক্ষে জনগণের সমর্থন বেড়েই চলেছে। তিনি বলেন, দেশনেত্রীর নির্দেশে আমরা মানববন্ধন, অবস্থান ও অনশন কর্মসূচির মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি। আমাদের এই অবস্থানকে দুর্বলতা মনে করলে আপনারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের জেলে পাঠিয়ে, নির্বাচনে অযোগ্য করে আর একটি বাকশালী মার্কা নির্বাচনের আয়োজন করলে এমন পরিণতি সৃষ্টি করা হবে যা সামাল দেয়া আওয়ামী লীগ ও তার রক্ষক পেটোয়া পুলিশ বাহিনীর পক্ষে সম্ভব হবে না। খালেদা জিয়াকে মাইনাস করে দেশে কোন নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। 

বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা বানোয়াট ভিত্তিহীন মামলায় কারাদ- দেয়ার প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত তিন দিনের কর্মসূচির প্রথম দিনে সোমবার মানববন্ধণ কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় নগরীর কে ডি ঘোষ রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে পালিত হয় এই কর্মসূচি। নির্ধারিত সময়ের আগে থেকেই নগরীর সকল থানা ও ওয়ার্ড থেকে হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ কর্মীর মিছিল সমাবেশস্থলে এসে হাজির হয়। যুদ্ধসাজে নিয়োজিত শত শত পুলিশের বন্দুক উচিয়ে সতর্ক উপস্থিতি ও রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মিছিলের পর মিছিল আসতে থাকে। মিছিলকারীদের শ্লোগান ছিল-খুনী হাসিনার গদিতে আগুন জ্বালো এক সাথে, খালেদা জিয়ার কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে।  

গগনবিদারী শ্লোগানের মধ্যে বক্তৃতায় নজরুল ইসলাম বলেন, নয় বছরের দুঃশাসনকে আরো দীর্ঘায়িত করতে  শেখ হাসিনার ইচ্ছায় আদালত সাজানো পাতানো বানোয়াট মামলায় খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়েছে। ১৬ কোটি মানুষ এ রায়ে মর্মাহত, হতাশ, ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সরকার দেশের স্বার্থ বিরোধী কাজ করেছ, দেশকে ভারতের বাজারে পরিণত করেছে, গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করেছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করেছে, প্রধান বিচারপতিকে বন্দুকের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে, ইসলামী মূল্যবোধকে পদদলিত করেছে। তারেক রহমানকে যে বিচারক খালাসের রায় দিয়েছিলেন, জীবন বাঁচাতে তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে বাকশাল করতে হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সাজানো পাতানো ভোট করতে চায়। সে চেষ্টা করা হলে পরিণতি ২০১৩, ২০১৪,২০১৫ সালের চাইতেও ভয়াবহ হবে বলে হুশিয়ার করেন তিনি। 

সভা থেকে খুলনায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে বিনা উস্কানিতে পুলিশের দফায় দফায় হামলা এবং দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, মেহেদী হাসান দীপু, শামসুজ্জামান চঞ্চলসহ গ্রেফতারের শিকার হয়ে কারাগারে আটক সকল নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়। সভা থেকে খুলনায় দায়ের হওয়া পুলিশের মিথ্যা বানোয়াট মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হয়।  

বিএনপির নেতা আসাদুজ্জামান মুরাদের পরিচালনায় এ সময় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সাবেক এমপি কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সাবেক এমপি মুজিবর রহমান, খানজাহান আলী থানা বিএনপি সভাপতি মীর কায়সেদ আলী, নগর বিএনপির উপদেষ্টা জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, নগর বিএনপির যুব সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, মহিলা দল সভাপতি সৈয়দা রেহানা আক্তার, নগর যুবদল সভাপতি মাহবুব হাসান পিয়ারু, নগর স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি আজিজুল হাসান দুলু, নগর শ্রমিক দল সাধারণ সম্পাদক মুজিবর রহমান, নগর ছাত্রদল সভাপতি শরিফুল ইসলাম বাবু। কর্মসূচির শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন ওলামা দল নেতা মাওলানা আব্দুল গফফার। 

অপরদিকে সোমবার সকাল ১০টায় কে ডি ঘোষ রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে খুলনা জেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তৃতা খুলনা জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি সাবেক এমপি অধ্যাপক ডা. গাজী আব্দুল হক, সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান, মুজিবর রহমান, খান জুলফিকার আলী জুলু, মনিরুজ্জামান মন্টু, এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী, শেখ আব্দুর রশিদ, চৌধুরী কওসার আলী, শরিফুল ইসলাম জোয়াদ্দার খোকন, এস এ রহমান বাবুল, এডভোকেট তছলিমা খাতুন ছন্দা, আব্দুর রকিব মল্লিক, মোস্তফা উল বারী লাভলু, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, খান আলী মুনসুর, এডভোকেট মোমরেজুল ইসলাম, সাইফুর রহমান মিন্টু, কওসার আলী জমাদ্দার, কামরুজ্জামান টুকু, আশরাফুল আলম নান্নু, মেজবাউল আলম, আলী আসগার, শামসুল আলম পিন্টু, মোশারফ হোসেন মফিজ, এডভোকেট কে এম শহিদুল আলম, মোল্লা এনামুল কবীর, মুর্শিদুর রহমান লিটন, ওয়াহিদুজ্জামান রানা, খায়রুল ইসলাম খান জনি, মোল্লা সাইফুর রহমান, খন্দকার ফারুক হোসেন, নুরুল আমিন বাবুল, আবুল বাশার, মোফাজ্জল হোসেন মফু, মামমি কবীর, ইবাদুল হক রুবায়েদ, তৈয়েবুর রহমান, আতাউর রহমান রনু, উজ্জল কুমার সাহা, জাবির আলী, আব্দুল মান্নান মিস্ত্রি, গোলাম মোস্তফা তুহিন, ইলিয়াস মল্লিক, সুলতান মাহমুদ, সাইফুল হাসান রবি, মিরাজুর রহমান, হাফিজুর রহমান, অধ্যাপক আইয়ুব আলী, কাজী মিজানুর রহমান, কাজী ওয়াইজউদ্দিন মান্টু, হাফেজ আবুল বাশার, আরিফুর রহমান, এডভোকেট আব্দুস সবুর, হারুনর রশিদ হিরু, গোলাম কিবরিয়া আশা, জি এম আসাদ, জসিমউদ্দিন লাবু, এস এম রফিকুল ইসলাম বাবু, ফরহাদ হোসেন, রাহাত আলী লাচ্চু, ডা. আলমগীর কবীর, হাবিবুর রহমান হবি, মোল্লা কবির হোসেন, সাইদুর রহমান, আব্দুল মালেক, খান ইসমাইল হোসেন, আসলাম পারভেজ, তানভীরুল আযম রুম্মান, বিকাশ মিত্র, জাভেদ মল্লিক, সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। এ কর্মসূচিতে খুলনা জেলার অন্তর্গত ৯ উপজেলা এবং দুই পৌরসভা থেকে শত শত বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীর বিশাল মিছিল সমাবেশস্থলে আসতে থাকে। এক সময় তা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। দলীয় কার্যালয়ের দুই পাশে অবস্থান নেয়া বিপুল সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি উপেক্ষা করেই সাহসী নেতৃবৃন্দের মিছিল সমাবেশস্থলে পৌঁছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ