শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

নতুন তিন মামলায় খালেদা জিয়ার কারামুক্তি প্রলম্বিত

তোফাজ্জল হোসেন কামাল : বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নির্জন কারাগারে কেমন আছেন, কিভাবে কাটছে তার কারাবন্দিত্বের দিনগুলো, কবে নাগাদ জামিনে মুক্তি পাবেন-অযুত নিযুত জনতার মুখে মুখে এসব প্রশ্ন এখন ঘুরেফিরেই। এ সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফেরার মধ্যেই মিলছে তাদের আপাতত শান্তনা। আর সে জন্য উত্তরের ভরসা দেশের গণমাধ্যমেই নিহিত।
উৎসুক্য জনতার এসব প্রশ্নের মধ্যেই বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর অভিযোগ, বর্তমান সরকার চায় খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘায়িত হোক। তাই জামিনে থাকা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এর মাধ্যমে পরিষ্কার হয় যে, সরকার বিএনপির চেয়ারপারসনের জামিন বিলম্বিত করতে চায়। আর সেই জন্য তারা নতুন ষড়যন্ত্র করছে। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গতকাল সোমবার বিকেলে রিজভী এসব কথা বলেন।
এদিকে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার রায় হাইকোর্টে নিলে সেই 'রায়' টিকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, রায় হাইকোর্টে টিকবে না। টিকতে পারে না। কারণ সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়া রায় দেয়া হয়েছে। একইদিন বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির স্বাধীনতা হলে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত এক প্রতিবাদ আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিএনপির শীর্ষ এই দুই নেতার বক্তব্যের মধ্যে যে মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাবরণ করতে হয়েছে, তার ভবিষ্যৎ বোঝা যায়-এটা আপাতত পরিষ্কার। মামলার ‘মেরিট’ উচ্চ আদালতের আমলে নেয়া হলে খালেদা জিয়াকে প্রদত্ত সাজার একটা ফায়সালা আসতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ।
আর এসব চিন্তাভাবনা মাথায় রেখেই খালেদা জিয়ার কারাবাসকে প্রলম্বিত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে নানামুখী অভিযোগ। এর মধ্যে একটি অভিযোগ, যে মামলায় তাকে সাজা দেয়া হয়েছে সেই মামলার সার্টিফাইড কপি আদালত থেকে গতকাল পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন বেগম জিয়ার আইনজীবীরা। যার কারণে ওই মামলায় আপীল করা এবং উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদনও প্রলম্বিত হয়ে পড়ছে।
নানামুখী এসব বাদ প্রতিবাদ আর অভিযোগের মধ্যেই গতকাল কুমিল্লা আদালতের একটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার সংলগ্ন জগমোহনপুর এলাকায় বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের মামলায় গত ২ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ ৪৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। কুমিল্লার কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক সুব্রত ব্যানার্জি ওই মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে পাঠায়। গতকাল সোববার গুলশান থানা-পুলিশ ওই মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য মো. কাইমুল হক। ২৫ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার আমলি আদালতে (চৌদ্দগ্রাম) ওই মামলার বিচারকার্যের দিন ধার্য করা হয়েছে।
অপরদিকে, রাজধানীর শাহবাগ ও তেজগাঁও থানার দুই মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জারি হওয়া ‘হাজিরা পরোয়ানা’ কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পরোয়ানা পৌঁছানো হয়েছে কারাগারে। কারা অধিদফতরের ঢাকা বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন্স) তৌহিদুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
খালেদা জিয়ার কারাবাস কতদিন?
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, দুর্নীতির মামলায় তিন বছরের কারাদন্ড পাওয়া কক্সবাজারের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির আপিল করে জামিনে মুক্তি পেতে সময় লেগেছিল ১৮ দিন। ঘটনাটি পুরনো হলেও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজার পর আপিল ও জামিন আবেদনের চেষ্টা চলার কারণে বদির বিষয়টি উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদ- পেয়ে কারাগারে গেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তার দ-ের আদেশ হওয়ার পর পর আইনজীবীরা আপিল করে জামিন আবেদনের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। আর রোববারের মধ্যে এই আপিল করা আশাও করছিলেন তারা। কিন্তু আপিল করতে হলে রায়ের সার্টিফাইড কপি লাগবে। মোট ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সার্টিফাইড কপি অবশ্য গতকালও পাওয়া যায়নি।
কাজেই দন্ডের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল আর জামিন আবেদন কবে হবে, তার আগ পর্যন্ত তাকে কত দিন কারাগারে থাকতে হবে, এই বিষয়টি নিয়ে তার সমর্থকদের মধ্যে এক ধরনের প্রশ্ন আছে।
আইনজীবীরা বলছেন, এই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা কঠিন। কারণ, সার্টিফাইড কপি পাওয়ার পর কোন কোন যুক্তিতে আপিল করা হবে, এই বিষয়গুলো আগেই ঠিক করে তা জমা দিতে হবে। কারণ, এর ওপরই নির্ভর করবে আপিলের রায়। কাজেই তাড়াহুড়ো করে ভুল করলে পরে ক্ষতি হবে খালেদা জিয়ারই।
দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় কক্সবাজারে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির তিন বছরের জন্য দন্ডিত হয়ে কারাগারে যান গত ২ নভেম্বর। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও জামিন আবেদন করতে করতে লেগে যায় ১৩ দিন। ১৫ নভেম্বর হাইকোর্টে এই আবেদন করার পর বদির জামিনে মুক্ত হতে লেগে যায় আরও পাঁচ দিন। ২০ নভেম্বর জামিনে কারাগার থেকে বের হন তিনি।
অবশ্য আপিল করে জামিন আবেদন করলেই যে উচ্চ আদালত কাউকে জামিন দেবেন, সেটাও সুনিশ্চিত নয় বলে জানিয়ছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি মামলায় কারাদ- হওয়ার পর হাইকোর্ট থেকে জামিন মঞ্জুর ও জামিন না মঞ্জুর উভয় নজিরই আছে।’
দুদকে সম্পত্তির হিসাব জমা না দেয়ার মামলায় সাভারের রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার তিন বছরের কারাদন্ডের বিরুদ্ধে আপিল হলেও তার জামিনের আবেদনে সায় দেয়নি হাইকোর্ট। অবশ্য সোহেলের বিরুদ্ধে আরও মামলা রয়েছে।
আবার হাইকোর্ট আব্দুর রহমান বদির জামিনের আদেশ দিলেও সেটির বিরুদ্ধে আপিল করেছে দুদক। সংস্থাটির আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, আবেদনটি এখন শুনানির জন্য অপেক্ষায় রয়েছে।
তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ আশা করছেন, খালেদা জিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জামিনে বেগ পেতে হবে না। তিনি বলেন, ‘রায়ের সার্টিফাইড কপি পেলেই আমরা আপিল করব। একইসঙ্গে জামিনের জন্য আবেদন করব। আমরা মনে করি তিনি জামিন পাবেন।’
তবে যে মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হয়েছে, সেটি ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও ৩৫টি মামলা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা একেবারেই শেষ পর্যায়ে রয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায়ের তারিখ ঘোষণার পর থেকে তিন দিন যুক্তি উপস্থাপন হয়েছে চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায়। আগামী ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় যুক্তি উপস্থাপনের কথা আছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের মতে, দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘ হতে পারে। তার বিরুদ্ধে যে চারটি মামলায় এখন গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে, তা কার্যকর করা হবে। এই চার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে। খালেদা জিয়াসহ অন্য যেসব নেতার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
চার মামলায় পরোয়ানা
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মোট ৩৬টি মামলা আছে। এর মধ্যে ৪টি মামলায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। পরোয়ানা থাকা মামলার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, ১৫ আগস্ট ‘ভুয়া জন্মদিন’ পালন এবং বাসে পেট্রলবোমা ছুঁড়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ মামলাগুলো হয়।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে ৩টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২টি মামলা হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দেন। ১টি মামলায় অর্থাৎ বাসে পেট্রলবোমা ছুঁড়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা বলবৎ আছে। ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ১টি এবং ৩ ফেব্রুয়ারি ২টি মামলা দায়ের করা হয় চৌদ্দগ্রাম থানায়। পরবর্তী সময়ে আদালত তিন মামলায় খালেদা জিয়াসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এর মধ্যে গত বছরের নভেম্বর মাসে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ কুমিল্লার কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক সুব্রত ব্যানার্জি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে পাঠান।
এ ছাড়া ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ‘ভুয়া জন্মদিন’ পালনের অভিযোগ এনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম মামলা করেন। ওই বছরের ১৭ নভেম্বর আদালত খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। চলতি মাসের ২৫ তারিখ এই মামলার শুনানির তারিখ রয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মানচিত্র ও জাতীয় পতাকাকে অবমাননার অভিযোগে ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে মামলা করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী। গত বছরের ১২ অক্টোবর ওই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার মহানগর হাকিম নুর নবী। আগামী ১৪ তারিখ এই মামলার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন নড়াইলের আদালত। নড়াইলের নড়াগাতী থানাধীন চাপাইল গ্রামের রায়হান ফারুকী বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর নড়াইল সদর আমলি আদালতে এ মামলা করেন।
বিএনপির একাধিক আইনজীবী জানিয়েছেন, তারাও মনে করছেন, খালেদার কারামুক্তি বিলম্ব হতে পারে। কারণ হিসেবে তারা মনে করছেন, ওই মামলার রায়ের প্রত্যয়িত অনুলিপি এখনো খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা পাননি। অনুলিপি না পাওয়ায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিতে পারছেন না। আবার এই মামলার বাইরে অন্য মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হলে আলাদাভাবে তাকে জামিন নিতে হবে। এতেও সময় লাগবে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আপিলের জন্য ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সার্টিফায়েড কপি পেতে স্বাভাবিকভাবেই দেরি হবে।
খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সরকারের তরফ থেকে যদি খালেদা জিয়াকে দীর্ঘদিন জেলে রাখার ইচ্ছা থাকে, তাহলে অবশ্যই দেরি করবে। সোমবার পর্যন্ত প্রত্যয়িত অনুলিপি তারা হাতে পাননি। তিনি বলেন, রায়ের প্রত্যয়িত অনুলিপি পাওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে আপিল দায়ের করা সম্ভব। নিম্ন আদালতের রায়ের প্রত্যয়িত অনুলিপি পাওয়া সাপেক্ষে আপিলের গ্রহণযোগ্যতার ও জামিন আবেদনের শুনানি এক সপ্তাহের মধ্যে হতে পারে, যদি সরকারপক্ষ থেকে বিলম্ব করার চেষ্টা করা না হয়।
 গ্রেফতারি পরোয়ানা ঢাকায়
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কুমিল্লায় নাশকতার একটি মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়েছে। কুমিল্লা থেকে পাঠানো এ সংক্রান্ত গ্রেফতারি পরোয়ানাটি গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ বিভাগের এআইজি সহেলী ফেরদৌস বলেন, ‘কুমিল্লায় নাশকতার মামলার তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। আদালত চার্জশিটটি গ্রহণ করে মামলার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। গ্রেফতারি পরোয়ানাটি কুমিল্লা জেলা পুলিশ ঢাকায় পাঠিয়েছে।’
তবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘কারা কর্তৃপক্ষের হাতে খালেদা জিয়ার নতুন কোনও মামলার কাগজপত্র এখনও পৌঁছেনি।’
কারা অধিদফতরের মহাপরিদর্শক (প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার সৈয়দ ইফতেখার বলেন, সন্ধ্যায় দু’টি গ্রেফতারি পরোয়ানা আমরা পেয়েছি।
ঢাকার দুই মামলায় খালেদা জিয়ার ‘হাজিরা পরোয়ানা’ কারাগারে
শাহবাগ ও তেজগাঁও থানার দুই মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জারি হওয়া ‘হাজিরা পরোয়ানা’কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পরোয়ানা পৌঁছানো হয়েছে কারাগারে। কারা অধিদফতরের ঢাকা বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন্স) তৌহিদুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ডিআইজি প্রিজন্স বলেন, “২০০৭ ও ২০০৮ সালে রাজধানীর শাহবাগ ও তেজগাঁও থানার দুই মামলার ‘হাজিরা পরোয়ানা’ আমাদের হাতে পৌঁছেছে। এসব মামলার ধার্য তারিখে খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করার জন্য আদালতের পক্ষ থেকে এসব পরোয়ানা জারি করা হয়।’’ তবে এই মামলাগুলো কী নিয়ে সেটা তিনি জানাতে পারেননি।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হাজিরা পরোয়ানার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার ও তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ‘এমন কোনও তথ্য আমাদের কাছে নেই। পুলিশের অন্য কোনও সংস্থার কাছে থাকা মামলায় হাজিরা পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে কিনা, জানি না।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ