শুক্রবার ২৯ মে ২০২০
Online Edition

ইন্টারনেট বন্ধ করেও ঠেকানো গেলোনা প্রশ্ন ফাঁস

স্টাফ রিপোর্টার : এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি সত্ত্বেও প্রশ্ন ফাঁস থামানোই যাচ্ছে না। প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষা শুরুর সময় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হলেও তার আগেই ইন্টারনেটে বিভিন্ন ফেসবুক ও মেসেঞ্জার গ্রুপে চলে এসেছে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন। গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত আইসিটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও ফাঁস হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৭টি বিষয়ের প্রশ্নই ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া গেলো।
আইসিটি বিষয়ের প্রশ্ন গতকাল সকাল থেকেই হোয়াটসঅ্যাপে ফাঁস করা হয়। সকাল ৮টা ৫১ মিনিটে হোয়াটসঅ্যাপের একটি গ্রুপে আইসিটির ‘ক সেট’ প্রশ্ন পাওয়া যায়। আর সকাল ৯টা ৩ মিনিটে ‘গ সেট’ প্রশ্নও ফাঁস হয়। এরপর তা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষা শেষে এই দুই সেট প্রশ্নের সঙ্গে মিলিয়ে ফাঁস হওয়া সেটের হুবহু মিল পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ও উত্তরের ছবি বিভিন্ন গ্রুপ ও পেইজে ছড়িয়ে পরে। পরীক্ষা শেষে ভাইরাল হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন হুবহু মিলে যায়। ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার বলেন, আপনাদের মত অনেকেই আমাদের তথ্য দিয়ে সাহায্য করছে, আমরা সবারটাই গুরুত্ব সহকারে দেখছি। ইন্টারনেট বন্ধে আজ একটু দেরি হয়ে গেছে। মিটিং আছে মন্ত্রণালয়ে, পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে কী পদক্ষেপ নেব- তখন জানা যাবে।
এবার এসএসসি পরীক্ষা শুরুর আগে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছিলেন, প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার দিনগুলোতে সীমিত সময়ের জন্য ফেসবুক বন্ধ রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। পরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তারা ‘অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা’ নেবেন।
এর ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ রাখার জন্য মোবাইল অপারেটরগুলোকে নির্দেশনা দেয় বিটিআরসি। কিন্তু ইন্টারনেট বন্ধ করতে করতে সাড়ে ৯টা বেজে যায়।
১০টার পর মোবাইল ইন্টারনেট আবার সচল হয় বলে এক অপারেটরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান। তবে ইন্টারনেট বন্ধের এই নির্দেশনা অন্যান্য পরীক্ষার দিনও বলবৎ থাকবে কি না- সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি বিটিআরসির কর্মকর্তারা।
পরীক্ষা শুরুর সময় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ : এসএসসিতে রোববার আইসিটি বিষয়ের পরীক্ষা শুরুর সময় প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে বিটিআরসির মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে। বিটিআরসির একজন  কর্মকর্তা বলেন, এই নির্দেশনা কেবল মোবাইল অপারেটরগুলোকেই দেয়া হয়েছিল। পরীক্ষা শুরুর আগে সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল।
একটি মোবাইল অপারেটরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, রোববার সকালে বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড অপারেটরস বিভাগ থেকে চিঠি দিয়ে তাদের সকাল ৯টায় ইন্টারনেট বন্ধ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ‘প্রযুক্তিগত কারণে’ বন্ধ করতে করতে সাড়ে ৯টা বেজে যায়।
ওই সময়ে দেশে মোবাইল অপারেটর ট্রাফিক পড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইন্টারনেট গেইটওয়ে (আইআইজি) প্রতিষ্ঠান ফাইবার অ্যাট হোমের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ সাবির। তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিক থেকে মোটামুটি ১০টা পর্যন্ত ইন্টারেনেটে মোবাইল অপারেটর ট্রাফিক একেবারেই কমে গিয়েছিল। ১০টার পর আবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে ওই সময় আইএসপিগুলোর ইন্টারনেট সেবায় কোনো বিঘœ ঘটেনি বলে জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ