শুক্রবার ২৯ মে ২০২০
Online Edition

পাকিস্তানের বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী আসমা জাহাঙ্গীর আর নেই

ডন : পাকিস্তানের বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আসমা জাহাঙ্গীর মারা গেছেন। গতকাল রোববার লাহোরে একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানেই মারা যান তিনি। 
মানবাধিকার রক্ষায় তিনি অনবদ্য অবদান রেখে গেছেন। এ কাজে তাকে চরম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পথ চলতে হয়েছে। গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যে অবদান রেখেছেন তাতে আসমা জাহাঙ্গীর অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। 
আসমা জাহাঙ্গীর ১৯৫২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। কিনেয়ার্ড কলেজ থেকে ¯œাতক ডিগ্রি লাভের পর পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। ১৯৮০ সালে তিনি লাহোর হাইকোর্ট ও ১৯৮২ সালে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। এরপর প্রথমবারের মতো একজন নারী হিসেবে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি নির্বাচিত হন। 
 জেনারেল জিয়াউল হকের সময়ে ১৯৮৩ সালে তিনি প্রথম গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যোগ দেন। ২০০৭ সালে জেনারেল পারভেজ মোশাররফের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় তিনি গৃহবন্দী হন। পাকিস্তান মানবাধিকার কমিশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আসমা জাহাঙ্গীর। তার উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠিত হয় ‘উইমেন্স অ্যাকশন ফোরাম’। আসমা জাহাঙ্গীর তার এই বর্ণাঢ্য জীবনে বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। যার মধ্যে ২০১০ সালে হিলাল-ই-ইমতিয়াজ ও সিতাবাহ-ই-ইমতিয়াজ অন্যতম। এছাড়া মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ফ্রান্স থেকে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন তিনি। ২০১০ সালে তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। 
বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী আসমা জাহাঙ্গীরের মৃত্যুতে বিভিন্ন মহল থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন মুসলিম লিগের সিনিয়র নেতা শাহবাজ শরীফ, নওয়াজ শরীফের মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ