মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২০
Online Edition

অবকাঠামো প্ল্যাটফর্ম গঠনের তাগিদ

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় অবকাঠামো পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে অবকাঠামো প্ল্যাটফর্ম গঠনের তাগিদ দিয়েছেন পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আফসর এইচ উদ্দিন।
গতকাল রোববার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি আবুল কাসেম খানের নেতৃত্বে ডিসিসিআইর পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা পিপিপির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ তাগিদ দেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- ডিসিসিআইর পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আকবর হাকিম, আন্দালিব হাসান, হুমায়ুন রশিদ, সেলিম আকতার খান, ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী এবং মহাসচিব এ এইচ এম রেজাউল কবির।
পিপিপির আওতায় বিভিন্ন মেগা প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি জাতীয় অবকাঠামো বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান সৈয়দ আফসর এইচ উদ্দিন।
তিনি বলেন, পিপিপির আওতায় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়ন, দক্ষ জনবলের অভাব, বিভিন্ন সংস্থার অনুমতিপত্র লাভে দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সময়ক্ষেপণ ও খাত ভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের বিশেষজ্ঞ দলের অভাব ইত্যাদি মূল প্রতিবন্ধকতা।
তিনি আরো বলেন, ২০১৮ সাল নাগাদ পিপিপির আওতায় ১৩টি প্রকল্পে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সড়ক, পর্যটন, স্বাস্থ্য, বন্দর, নগরায়ন ও শিল্প খাত উল্লেখযোগ্য। প্রকল্পসমূহে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১০ বছরের করমুক্ত সুবিধা প্রদান করা হয়ে থাকে এবং এ সুযোগ গ্রহণ করে দেশের ব্যবসায়ীদের অধিক হারে পিপিপির প্রকল্পসমূহে বিনিয়োগ করা উচিত।
 আবুল কাসেম খান বলেন, বিনিয়োগ খাতে বিদ্যমান স্থবিরতা কমানোর জন্য বৈদেশিক সহায়তা এবং উচ্চ হারের বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য পিপিপি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে। পিপিপি কার্যালয় এ পর্যন্ত ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ৪৭টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। 'ডুইং বিজনেস ইনডেক্স' এ বাংলাদেশের অবস্থান পিপিপি কার্যালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় করে আরো বাড়াতে হবে।
সৈয়দ আফসর এইচ উদ্দিন বলেন, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে জিডিপির ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ অবকাঠামো খাতে ব্যয় করে। ঢাকা চেম্বার মনে করে, এটাকে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীতকরণ করতে হবে। যার জন্য প্রতিবছর অতিরিক্ত প্রায় ৪২ হাজার ৫১০ কোটি টাকা প্র্রয়োজন হবে। বিশেষ করে, দেশের মেগাপ্রকল্পগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ অথরিটি 'ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রকাচার ডেভেলপমেন্ট এন্ড মনিটরিং এডভাইজরি অথরিটি (নিডমা)'  গঠনের প্রস্তাবও করেন ডিসিসিআই সভাপতি।
এছাড়া অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগে আর্থিক প্রবাহ নিশ্চিতকরণের জন্য স্টক মার্কেট 'বিনিয়োগ বন্ড' প্রবর্তনের প্রস্তাব করেন, যেখানে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ