শুক্রবার ২৯ মে ২০২০
Online Edition

প্রতারণায় সোনালী ব্যাংকের ২৬ কোটি টাকা আত্মসাত

খুলনা অফিস : খুলনার স্টার সী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লি. ২৫ কোটি ৮২ লাখ তিন হাজার দুইশ’ বিশ টাকা আত্মসাৎ করায় সোনালী ব্যাংক খুলনা কর্পোরেট শাখা জজ অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোনালী ব্যাংক খুলনা কর্পোরেট শাখার পক্ষে সিনিয়র প্রিন্সিপ্যাল অফিসার গাজী আল বেরুনী বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বিবাদী করা হয়েছে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানের এমডি মো. সালাউদ্দিন, পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন, মো. জাকির হোসেন ও মো. ইসমাইল হোসেনকে।
মামলার আর্জিতে বলা হয় যে, ৩৭ সাউথ সেন্ট্রাল রোডে অফিস স্থাপন করে স্টার সী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। তারা তাদের গুদামে চিংড়ি মাছ প্লেজ দেখিয়ে সাড়ে ১৮ কোটি টাকার ঋণ গ্রহণ করেন। কিন্তু গুদামের মাছ পরীক্ষা করার জন্য ব্যাংকের ৫ সদস্যের একটি ইনভেনট্রি টিম গেলে তাদের সহযোগিতা করা হয়নি। পরবর্তীতে ব্যাংক হতে প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত নোটিশ লিগ্যাল নোটিশ দেবার পরও কোন অর্থ পরিশোধ করেনি। প্লেজ ঋণ ছাড়া প্রকল্প ঋণ, হাইপো ঋণ মিলে এই প্রতিষ্ঠানের নিকট উল্লিখিত পাওনা দাঁড়িয়েছে। ২৯ জানুয়ারি ২০১৮ দায়ের করা মামলা আদালত গ্রহণ করে বিধি বিধানমত বিবাদীদের সমন জারী করেছেন।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো কর্তৃক গুদামে পাট ও চিংড়ি মাছ রাখার বিপরীতে সহজ শর্তে ঋণ দেয়া হয়। এই শর্তে গুদামের পণ্যটিই জামনাত হিসেবে রাখা হয়। কিন্তু গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিটে ধরা পড়ে শুধু সোনালী ব্যাংকের খুলনার পাট গুদামে রেখে দেয়া চার হাজার কোটি টাকার কোন হদিস নেই। এ ব্যাপারে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আইনি চূড়ান্ত নোটিশ দেবার পরও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে কোন আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। একইভাবে স্টার সী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ প্লেজ ঋণের চিংড়ি মাছ প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করলে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ইনভেনট্রি টিমের কাজে বাধা দিলেও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে থানায় কোন এজাহার করা হয়নি। শুধুমাত্র অর্থঋণ আদালতে অর্থ আদায়ের জন্য ডিক্রির মামলা করা হয়েছে।
সোনালী ব্যাংক খুলনা জোনের সদ্য বিদায়ী জেনারেল ম্যানেজার মোশারেফ হোসেন বলেন, ব্যাংক সিবিএ নেতাদের চাপে তারা আইনি ব্যবস্থা নিতে পারছিলেন না। তিনি বলেন, অর্থঋণ আদালতে মামলাটি অনেক কৌশল করে করা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, প্লেজ ঋণ নিয়ে ব্যাবসায়ীরা ব্যাংককে জিম্মি করে ফেলেছে। তারা বর্তমানে কোন গ্রাহককেই প্লেজ ঋণ দিচ্ছেন না। তিনি আরো বলেন, পাট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত নোটিশ দিয়েও তারা কোন আইনি ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। কারণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পাট ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ