বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

পরীক্ষার ৪০ মিনিট আগে প্রশ্নফাঁস হয় -গোয়েন্দা পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার : পরীক্ষার ৪০ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন। প্রশ্নফাঁসের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, ‘কেন্দ্রে পৌঁছানোর আগে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলে দেখার কোনও সুযোগ নেই। সর্বোচ্চ ৪০ মিনিট আগে অর্থাৎ প্যাকেট খোলা ও পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর সময়ের মধ্যে সেটি ফাঁস হয়।’ গতকাল রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তবে ডিবি পুলিশের এই যুগ্ম কমিশনারের ভাষ্য, ‘যেভাবে প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়াচ্ছে, পরিস্থিতি ওইরকম নয়। যে সময় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় তখন শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা কেন্দ্রে থাকে। ফলে সরাসরি বা কারও মাধ্যমে যদি সেই প্রশ্নপত্রের উত্তর তাদের কাছে পৌঁছায় তাহলেই তারা উপকৃত হতে পারে। তা না হলে কোনোভাবেই উপকৃত হওয়া সম্ভব নয়।’
 গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, প্রশ্নফাঁস চক্রের যেসব সদস্যকে আটক করা হচ্ছে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপের অ্যাডমিন। তবে মূল প্রশ্ন ফাঁসকারীদের কাউকে এখনও আটক করা যায়নি। তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমেই পরীক্ষার্থীদের কাছে পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্ন পৌঁছে যায়। প্রশ্নের প্যাকেট খোলা ও পরীক্ষার্থীদের কাছে তা পৌঁছানোর সময়ের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতরা মোবাইল ফোনে প্রশ্নের ছবি তুলে গ্রুপগুলোতে দিয়ে দেয়।’
বিভিন্ন গ্রুপের অ্যাডমিনদের কাছে ছবি সরবরাহ করে কারা, তাদের আটক করা সম্ভব হয়েছে কিনা, এসব প্রশ্নের জবাবে আব্দুল বাতেন বলেন, ‘রুট পর্যন্ত যাওয়া কঠিন। তবে এটা অসাধ্য নয়, এজন্য সময় প্রয়োজন। যারা গ্রুপগুলোতে মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে থাকে এমন ৩০০ মোবাইল নম্বর ইতোমধ্যে ব্লক করা হয়েছে। আমরা এ প্রক্রিয়ার মূলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি।’
শনিবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রশ্নফাঁসকারী চক্রের ১৪ সদস্যকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। তারা হলো রাহাত ইসলাম, সালাউদ্দিন, সুজন, জাহিদ হোসেন, সুফল রায় ওরফে শাওন, আলামিন, সাইদুল ইসলাম, আবির ইসলাম নোমান, আমানুল্লাহ, বরকতুল্লাহ, আহসান উল্লাহ, শাহাদাত হোসেন স্বপন, ফাহিম ইসলাম ও তাহসিদ রহমান। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, ২৩টি মোবাইল ফোন, নগদ ২ লাখ ২ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
 গ্রেপ্তারদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহিম। শনিবার সকালে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিউ মার্কেট থানার ওসি আতিকুর রহমান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “সকালে ওই স্কুল কেন্দ্রের সামনে ফাহিমকে মোবাইলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। সে পরীক্ষার্থী ছোট ভাইকে সাহায্যের জন্য গিয়েছিল। কিন্তু মোবাইল নিয়ে নাড়াচাড়া করার সময় সন্দেহ হয়। পরে তাকে আটক করে মোবাইল পরীক্ষা করে দেখা যায় প্রশ্নপত্র। “আমরা সেই প্রশ্ন দেখে পরীক্ষার হলে গিয়ে চলমান পরীক্ষার প্রশ্নের সাথে মিল পাই।”
গত বছর নভেম্বর-ডিসেম্বরে প্রাথমিক ও অষ্টম শ্রেণি সমাপনী পরীক্ষার সকালে বিভিন্ন ফেইসবুক পেইজ ও গ্রুপে প্রশ্ন ও উত্তর ছড়িয়ে পড়ে। একই ঘটনা ঘটছে এবার এসএসসি পরীক্ষায়, প্রতিটি পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়ছে ফেইসবুক গ্রুপ- মেসেঞ্জারে। এর আগের পরীক্ষাগুলোতে পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টাখানেক প্রশ্ন ফাঁস হলেও শনিবার  ঘণ্টা দেড়েক আগেই কয়েকটি ফেইসবুক গ্রুপে দেওয়া হয় গণিতের বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্রের উত্তরসহ ছবি।
সকালে পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে মোবাইল ফোনে প্রশ্ন দেখানোর সময় রাজশাহী ও যশোরে দুই কলেজ শিক্ষার্থীকে ধরে পুলিশে দেন অভিভাবকরা। পরীক্ষা চলাকালে গাজীপুরের মাওনায় একটি কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন নিয়ে বেরোনোর পর এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আমজাদ হোসেন নাহীন নামের ওই ব্যক্তি শ্রীপুরের রেড়াইদেরচালা আলহাজ্ব ধনাই বেপারী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সেখানে সহকারী কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
নিউ মার্কেট থানার ওসি জানান, মোবাইলসহ ধরা পড়ার আগে ফাহিম কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে তার ছোট ভাইয়ের বন্ধু এক পরীক্ষার্থীকে সহযোগিতা করছিলেন। “ওই ছেলেকেও ধরা হয়। তার সাথেও একটি মোবাইল পাওয়া যায়। তবে তাকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরীক্ষার পর তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।” প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য ওই দুজনকে গোয়েন্দা পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়ে যায় বলে জানান তিনি। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে আরও ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ