বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সার্টিফাইড কপি মেলেনি ॥ আপিল করতে পারেননি খালেদা জিয়া

স্টাফ রিপোর্টার: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন  ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপিল আবেদনের প্রক্রিয়া পিছিয়ে গেছে। গতকাল রোববার রায়ের সার্টিফায়েড কপি না পাওয়ায় আবেদন করতে পারেননি তার আইনজীবীরা। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া জানান, সার্টিফাইড কপি পাওয়া যায়নি। তবে আশা করি, সোমবার পাওয়া যাবে। আদালত প্রশাসন থেকেও তেমন আশ্বাস পেয়েছি। তিনি বলেন, সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নথিপত্র ঠিক করে উচ্চ আদালতে জামিন আবেদন করা হবে। এর আগে গতকাল সকালে খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের সার্টিফাইড কপি পাওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হয়। কপি পাওয়ার উপর উচ্চ আদালতে আপিল আবেদন নির্ভর করছে।
এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাদ- পাওয়া বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে ডিভিশন এবং সেবিকা ফাতেমার বিষয়ে জেলকোর্ড অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল সকালে পুরানো ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ নির্দেশ দেন। এর আগে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে ডিভিশনের আবেদন জানান। একই সঙ্গে আরেকটি আবেদন কারা কর্তৃপক্ষের কাছেও জমা দেয়া হয়।
গতকাল এক সাংবাদিক সম্মেলনে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি-প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন বলেছেন, জেলকোর্ড অনুযায়ী সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ডেভিশন দেয়ার বিষয়ে কোনো কথা বলা নেই।  তিনি বলেন, ১৯৬৪ ও ২০০৬ সালের কারাবিধি অনুযায়ী বর্তমানে যারা সংসদ সদস্য, তারাই ডিভিশন পান। সাবেক প্রেসিডেন্টও পান। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী পান না। সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন বলেন, খালেদা জিয়া সাধারণ বন্দীর মতোই আছেন। তিনি শান্ত স্বভাবের। এ কারণে তাকে সঙ্গ দেয়ার জন্য একজন নারী ডিপ্লোমা নার্স ও চারজন নারী কারারক্ষী আছেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে জেলকোর্ড অনুযায়ী ডিভিশন দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন আদালত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন বলেন, আমরা শুনেছি আদালত ওনাকে ডিভিশন দেয়ার আদেশ দিয়েছেন। সেই আদেশের কপি এখনো হাতে এসে পৌঁছায়নি। আদালতের কপি পাওয়ার পরেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।
রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লিখার সময় আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দেয়া হয়েছে বলে জানান  কারা মহাপরিদর্শক (আইজি-প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা পাবার পরই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। বেগম খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দেয়া হয়েছে।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, আমরা ম্যাডামের ডিভিশন চেয়ে আবেদন করেছিলাম। বিচারক সেটি গ্রহণ করে কারাবিধ মেনে কর্তৃপক্ষকে তার (খালেদা জিয়া) ডিভিশন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে খালেদা জিয়ার জন্য ডিভিশন চেয়ে আদালতে আবেদন করেন তার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম। এ বিষয়ে ১১টার পর শুনানি হয়। সানাউল্লাহ মিয়া শুনানিতে বলেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারি কারাদ- দেয়ার পর খালেদা জিয়া নাজিম উদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে আছেন। তিনি এখনও ডিভিশন পাননি। খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং একটি দলের প্রধান। তাই তাকে ডিভিশন দেয়ার আবেদন করছি।
তিনি আরও বলেন, রায়ের সার্টিফাইড কপির জন্য আমরা দরখাস্ত করেছি। নকলগুলো তাড়াতাড়ি (জরুরি) পাওয়ার ব্যবস্থার জন্য নির্দেশ দেন আপনি। তবে এ বিষয়ে আদালত কোনও আদেশ দেননি।
খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, জেলকোর্ড বিধির ৬৭১ (৪) অনুযায়ী যেকোনও ব্যক্তি দলের প্রধান হলে সে অবশ্যই এই ডিভিশনের সুবিধা পাবেন। এই আদেশ যেকোনও ম্যাজিস্ট্রেট, দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ  দিতে পারেন।
দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল শুনানিতে বলেন, ডিভিশন বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা দেয়ার কোনও বিধান নেই। এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অথবা জেলা প্রশাসক এই নির্দেশ দেবেন। আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
আদালতের নির্দেশ পাবার পরপরই জেলকোর্ড অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে ডিভিশন ও তার সঙ্গে পরিচারিকা (সেবিকা) ফাতিমার থাকার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশটি জেলগেটে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া আদালতের জারিকারক আনিসকে সঙ্গে নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষর কাছে আদালতের এই আদেশ পৌঁছে দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। এ সময় সানাউল্লার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ, জিয়া উদ্দিন জিয়া ও এম হেলাল উদ্দিন হেলাল।
৮ ফেব্রুয়ারি খালেদার সঙ্গে কারাগারে একজন পরিচারিকা (সেবিকা) নেয়ার আবেদন করেন তার আইনজীবী সানাউল্লাাহ মিয়া। আবেদনে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বয়স্ক মানুষ। তিনি একা চলাফেরা করতে পারেন না। তাই একজন পরিচারিকা প্রয়োজন। তার পরিচারিকা হিসেবে থাকার জন্য মোছা. ফাতেমা প্রস্তুত।
প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের জেলের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এরপর রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডের পুরানো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনটিকে ‘সাবজেল’ ঘোষণা করে সেখানে রাখা হয়েছে তাকে। পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারের অফিস ভবনের মূল ফটক দিয়ে ঢুকে বামেই সিনিয়র জেল সুপারের যে অফিস কক্ষ ছিল, সেখানেই তাকে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা কর্মকর্তারা। শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে দেখা করার পর তার আইনজীবী  ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ জানান, খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। সেখানে অন্য কোনও কারাবন্দী নেই। ফাঁসির আসামীদের যেভাবে রাখা হয় সেভাবেই তাকে রাখা হয়েছে। তাকে অখাদ্য দেয়া হচ্ছে। তাকে (খালেদা জিয়াকে) ডিভিশন দেয়া হয়নি। এটা সংবিধান পরিপন্থী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ