বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বিএনপির কর্মসূচিতে একাত্মতার পাশাপাশি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত ২০ দলের

গতকাল রোববার গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সাথে ২০ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির কর্মসূচির প্রতি একাত্মতা ঘোষণার পাশাপাশি তাতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০ দলীয় জোট। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ২০ দলীয় জোটের বৈঠকের পর এক ব্রিফিঙে জোটের সমন্বয়ক বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তিনি বলেন, ২০ দলীয় জোটের এই সভায় দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে বিএনপি যে কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করেছে, সেই কর্মসূচির প্রতি তারা একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। তারা এই সব কর্মসূচি সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করবেন। একই সাথে অদূরভবিষ্যতে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, জোটের এই সভায় দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে যে সাজা দেয়া হয়েছে এবং তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে তার তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের গ্রেপ্তারকৃত নেতা-কর্মীর মুক্তির দাবিও জানানো হয়েছে। দেশনেত্রীর মুক্তির দবির পর থেকে পুলিশ নির্যাতনে আহতদের প্রতি সমবেদনা জানানোও হয়েছে।
খালেদা জিয়া কারাগারে যাবার পর তার অনুপস্থিতিতে জোটের নেতা কে জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, আমি বলতে চাই, দেশনেত্রীই হচ্ছে ২০ দলীয় জোটের নেত্রী। এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই। আমি জোটের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছি। গতকাল বিকেল ৫টা থেকে ঘন্টাব্যাপী এই বৈঠক হয় গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে।
মির্জা ফখরুল জানান, বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে টেলিফোনে জোট নেতাদের উদ্দেশ্য বক্তব্য রাখেন। তার (তারেক রহমান) বক্তব্যে যেটা এসেছে,তিনি জনগণের একটি জোট প্লাটফর্ম তৈরি করবার কথা বলেছেন। দেশনেত্রী সর্বশেষ যে সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন তাতে জাত্য়ী ঐ্ক্য তৈরি করবার জন্য আহবান জানিয়েছেন। সেটা ২০ দলীয় জোটের নেতারা সমর্থন করেছেন। মির্জা ফখরুল বলেন, জোটের এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, এই জোটের ঐক্যকে আরো প্রসারিত করবার জন্যে অন্যান্য রাজণৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলবে।
২০ দলীয় জোটের এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জোটের সমন্বয়ক বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জোটের শরিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম ,বিজেপি‘র আন্দালিব রহমান পার্থ, জাতীয় পার্টি(কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট এম এ রকীব, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি(এলডিপি) রেদোয়ান আহমেদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি(জাগপা) অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান, খেলাফত মজলিশের আহমেদ আবদুল কাদের, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির(এনডিপি) খন্দকার গোলাম মূর্তজা, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির(এনপিপি) ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাপ-ভাসানী আজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, বাংলাদেশ ন্যাপের জেবেল রহমান গানি, পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, লেবার পার্টির একাংশের মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, অপর অংশের হামদুল্লাহ আল মেহেদি, জমিয়তে উলামা ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, মাওলানা শাহিনুর পাশা, মাওলানা রেজাউল করীম, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, ইসলামিক পার্টির সাখাওয়াত হোসেন চৌধুরী, ডেমোক্রেটিক লীগ(ডিএল) সাইফুদ্দিন মনি প্রমুখ।
বিএনপি নেতাদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
সর্বশেষ ২০ দলীয় জোটের বৈঠক হয় গত ২৮ জানুয়ারি। সেখানে জোটের শীর্ষ নেতা বেগম খালেদা জিয়া সভাপতিত্বে করেছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ