বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা হিসেব

# এই কারাদণ্ড বেগম জিয়ার জন্য ইতিবাচক হবে
মোহাম্মদ জাফর ইকবাল: বিএনপি চেযারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার এই বক্তব্যের পক্ষে-বিপেক্ষে মতামত চাওয়া হয়েছিল। গতকাল শনিবার একটি জরিপে দেখা গেছে মির্জা ফখরুলের অভিযোগের সাথে একমত পোষণ করেছেন দেশের ৬০ শতাংশ সাধারণ মানুষ। এতে ভোট দিয়েছেন ১৪০৬ জন। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, খালেদা জিয়ার বিচার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার এই বক্তব্যের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছে ৯০ শতাংশ মানুষ। এখানে মতামত দিয়েছেন ১০৯১ জন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণ মানুষ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই রায় সহজভাবে নেয়নি। তারা মনে করে, এই রায় প্রতিহিংসামূলকভাবে করা হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষ এই রায়কে বিশ্বাস করেনা। তারা মনে করে এই রায়ের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অনেক ক্ষতি হয়ে গেলো। অন্যদিকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা বেড়েছে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার। কারণ মানুষ অনেক আগেই বিচারের রায় সম্পর্কে জেনে গেছে। রায়ের আগে থেকে সরকারি দলের মন্ত্রী ও সিনিয়র নেতাদের বক্তব্য থেকেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এছাড়া আদালতে বেগম জিয়ার দেয়া দীর্ঘ বক্তব্য ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। বেগম জিয়া দেশবাসীর উদ্দেশ্যে স্পষ্ট করে বলেছেন, আপনাদের খালেদা জিয়া কোনো অন্যায় করেনি। সরকার ইচ্ছাকৃত তাকে হেয় করতে সাজার আয়োজন করছে। এই সরকারের আমলে ন্যায় বিচার চেয়ে লাভ হবেনা। তার এই বক্তব্য নিয়ে মানুষ বিচার বিশ্লেষণ করেছে। তারা মনে করে, বেগম জিয়াকে সাজা দিয়ে ক্ষমতাসীন লাভ হয়নি বরং ক্ষতিই বেশী হলো।
এদিকে খালেদা জিয়াকে কারাগারে যেভাবে রাখা হয়েছে, তার সাথে যে রকম আচরণ করা হচ্ছে তা নিয়ে দেশে-বিদেশে সমালোচনার ঝড় বইছে। গ্রামে-গঞ্জের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষও সরকারের এমন আচরণে হতবাক। তারা বলছেন, সাবেক তিনবারের একজন প্রধানমন্ত্রীর সাথে এরকম আচরণ কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না। যেখানে বড় মাপের সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজরা ডিভিশন পেয়ে থাকেন সেখানে বেগম জিয়াকে রাখা হয়েছে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে। যেখানে জনমানব বলে কেউই নেই। তাকে অখাদ্য পরিবেশন করা হচ্ছে।
গত শনিবার তার সাথে দেখা করে বেগম জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, আইন অনুসারে ১৮ ক্যাটাগরির কারাবন্দী অটোম্যাটিক্যালি ডিভিশন পান। এর জন্য আলাদা করে আবেদনের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় খালেদা জিয়াকে কারাগারে আনার পর এখনও ডিভিশন দেয়া হয়নি। যেখানে তাকে রাখা হয়েছে এটি একটি নির্জন ও পরিত্যক্ত ভবনে। এটা কোনো কারাগার নয়। এখানে ফাঁসির আসামীদের যেভাবে রাখা হয় তাকেও সেভাবেই রাখা হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে সাধারণ কয়েদিদের ‘অখাদ্য’ খাবার খেতে দেয়া হচ্ছে।  তিনি বলেন, কারাগারের সাধারণ কয়েদিদের যে খাবার খেতে দেয়া হয়, সেই অখাদ্য ম্যাডামকে খেতে দেয়া হচ্ছে। তাকে ডিভিশন দেয়া হয়নি। জনমানবহীন নির্জন পরিবেশে তাকে রাখা হয়েছে। মওদুদ বলেন, ম্যাডাম অসুস্থ, তিনি একা একা হাঁটুর ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন। যে গৃহপরিচারিকা ফাতেমাকে ছাড়া তিনি থাকতে পারেন না, তাকেও থাকার অনুমতি দেয়া হয়নি এখনো।তবে রোববার আদালতের নির্দেশে খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দেয়া হয়। যদিও জেল কর্তৃপক্ষ ডিভিশন প্রদান নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছিলেন।
সাধারণ মানুষ মনে করেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ শুধুমাত্র প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যই বেগম জিয়ার সাথে এমন আচরণ করছে। তারা বলছেন, তিনি শুধু এক সময় দেশের প্রধানমন্ত্রীই ছিলেন না, একজন এমপি ছিলেন। বিএনপির মতো একটি বড় দলের তিনি প্রধান হিসেবে তাকে তিন ক্যাটাগরিতে ডিভিশন দেয়ার কথা। অথচ সরকার তাকে এমন পরিবেশে রেখে মুখে বলছে তাকে ডিভিশন দেয়া হয়েছে। এটা চরম মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়। এতে করে ক্ষমতাসীনদের ভাবমূর্তি উজ্জল হচ্ছেনা বরং তাদের সমালোচনা বাড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘কারাগার’ যে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার আলোকিত করছে সেটা বোঝা যাচ্ছে। গত কয়েক বছর বিশ্বরাজনীতির খাতা থেকে অনেক দূরে থাকলেও কারাগারে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খালেদা জিয়ার নাম দেশের গন্ডি পেরিয়ে এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে সর্বত্র একটিই আলোচনা, খালেদা জিয়ার সাজা। আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোর গুরুত্বপূর্ণ খবর হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করছেন; কেউ পরিস্থিতি জানতে চান কেউবা ঘটনার ওপর রাখছেন তিক্ষè দৃষ্টি। গোটা বিশ্বের দৃষ্টি যেন ঢাকার দিকে বন্দী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর। জাতিসংঘ বেগম জিয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে মামলা পর্যবেক্ষণ করছে। ভারত খালেদা জিয়ার কারাবরণ শতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। ঢাকায় কর্মরত প্রভাবশালী দেশগুলোর কূটনীতিকরা নড়েচড়ে উঠেছেন। অষ্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, কানাডা যুক্তরাজ্য ঢাকায় কর্মরত নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করে দিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ‘বন্দী খালেদা জিয়ার’ ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ করছেন। দেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া রুপসা থেকে পাথুরিয়া সর্বত্রই একই অবস্থা। সবার মুখে মুখে খালেদা জিয়ার নাম।
বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে নেয়ার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা বেজায় খুশি। তারা এমন সব মন্তব্য করছেন-বক্তব্য দিচ্ছেন যে বেগম জিয়া নির্বাচনে অযোগ্য হলে তারা যেন স্বর্গ জয় করে ফেলবেন। প্রশ্ন হলো বেগম জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না সেটা এতো দ্রুত নিশ্চিত হলেন কিভাবে? বাস্তবতা কি বলে? বর্তমান সরকারে মন্ত্রীত্ব করছেন তিনজন মন্ত্রী সর্বচ্চো আদালতের সাজাপ্রাপ্ত। একজনের ১৩ বছর সশ্রম কারাদন্ড হয়েছে। অন্য দুই জনের কারাদন্ড ও অর্থ দন্ড হয়েছে। দুই জন এমপি কারাদন্ড হয়েছে। দন্ড নিয়েই তারা কেউ মন্ত্রীত্ব করছেন; কেউ জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। এসব নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক হচ্ছে।
বেগম জিয়ার কারাদন্ড নিয়ে দেশের মানুষ কি ভাবছে?  সাধারণ মানুষের মধ্যে বেগম জিয়ার কারাবন্দী এবং ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ মামলার রায়ে ৫ বছরের কারাদন্ড নিয়ে তর্ক-বিতর্কের ঝড় বইছে। সাধারণ মানুষ দুর্নীতির মামলার রায়ে খালেদা জিয়ার দন্ড নিজেদের মতো করেই মূল্যায়ন করছেন বক্তব্য দিচ্ছেন। এই বক্তব্যগুলোর মধ্যে অধিকাংশ মতই হলো বেগম জিয়ার দন্ড তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টায় করা হয়েছে। যারা মামলার রায়কে স্বাগত জানান, তারাও অভিমত দেন- হলমার্ক, সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের বিচার না করে মাত্র দুই কোটি টাকা দুর্নীতির বিচারের প্রতি অতি উৎসাহ প্রশ্নের জন্মই দেয়। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন রেন্টাল-কুইক রেন্টাল বিদ্যুতের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে যাতে কেউ মামলা করতে না পারেন সে জন্য জাতীয় সংসদে ইনডিমিনেটি বিল পাস করা হয়েছে। দেশের উন্নয়নের নামে মেগা মেগা প্রকল্প গ্রহণ করে সেগুলো বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণ এবং দফায় দফায় ব্যয় বৃদ্ধি কি দুর্নীতি নয়? খালেদা জিয়ার কারাদন্ডে যে মন্ত্রীরা উৎফুল্ল তারা আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখেন না কেন? ‘এক মাঘে শীত যায় না’ প্রবাদবাক্যটি ক্ষমতাসীনদের কেউ কেউ স্মরণ করে দিয়েছেন।
টিভির টকশোগুলোতে কি আলোচনা হচ্ছে? দেশের অধিকাংশ টিভি মিডিয়া সরকারের তল্পিবাহক হওয়ায় টকশোতে সরকারি দল অনুগত ব্যক্তিদের বেশি আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু ব্যবসায়ীক কারণে দর্শক ধরে রাখার কৌশল হিসেবে ‘নিরপেক্ষ চাদর পড়তে’ হাতে গোনা কয়েকজন ভিন্ন মতাবলম্বীকে টকশো’য় ডাকা হয়। কিন্তু অধিকাংশ টকশোর সঞ্চালক ‘তল্পীবাহক’ হওয়ায় লাইভ টকশোতেই সরকারি দলের গুণগান ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপির সমালোচনার প্রতি আলোচকদের প্রলুব্ধ করেন। তার মধ্যেই বেগম খালেদা জিয়ার দন্ডের পক্ষে সাফাই গাইলেও বড় বড় দুর্নীতিগুলোর বিচারের দাবি জানাচ্ছেন। টিভির হরেক কিসিমের আলোচকদের কথায় যে চিত্র উঠে আসছে; তাহলো ‘মুক্ত খালেদা জিয়ার’ চেয়ে ‘বন্দী খালেদা জিয়া’ অনেক বেশি শক্তিশালী। খালেদা জিয়া হয়তো জামিনে মুক্ত হবেন। কিন্তু নির্বাচনের বছরে বিএনপির অভ্যন্তরে যে সব বিরোধ, নেতায় নেতায় দ্বন্দ্ব ছিল সেগুলোর নিরসন হবে। সারাদেশে বিএনপির ব্যাপক জনসমর্থন। কিন্তু নেতাকর্মীদের মধ্যে ভীতি আতঙ্ক ছিল। সেটা কেটে যাবে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হবে। এই ঘটনায় যারা বিএনপিকে সমর্থন করেননি তাদের অনেকেই বেগম জিয়ার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে দলটির পক্ষে অবস্থান নেবেন। তাছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় সরকারে ‘ইচ্ছাশক্তি’ নিয়ে নিজেদের মতো করে বিশ্লেষণ করবেন। কারণ দেশে হাজার হাজার কোটি দুর্নীতির মামলায় যারা নীরব; তাদের মুখে দুর্নীতি বিরোধী ছবক বেমানান বটে।
খালেদা জিয়ার কারাদন্ডে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। বিএনপি দুই দিনের কর্মসূচি পালন করছে। শুধু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের ১৪ দলীয় জোট নেতারা ছাড়া প্রায় সব দলই উদ্বেগ জানাচ্ছেন প্রতিবাদ করেছেন। বিকল্পধারা সভাপতি একিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্য আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, জনমনে সন্দেহ দৃঢ় হচ্ছে জনগণের ভোটে নির্বাচিত তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভবিষ্যৎ আইনী পদক্ষেপ (আপিল, জামিন ইত্যাদি) সরকারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে প্রভাবিত হবে কিনা। এ রকম কিছু হলে তাঁর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হবে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতার কারণে নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটার জন্য সরকারই দায়ী থাকবে। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ক ও গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয় জোনায়েদ সাকি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, খালেদা জিয়ার রায়ের মধ্য দিয়ে সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটেছে।
সাধারণ মানুষ বলছে, বর্তমানে অবাধে দুর্নীতি লুটপাট চলছে। শুধু ২/৪ কোটি টাকা নয়, ক্ষমতার ছত্রছায়ায় শত শত ও হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট এবং বিদেশে পাচারের খবর প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতায় থাকায় অপরাধীরা দুর্নীতির সাজা থেকে দায়মুক্তি পাচ্ছে। নানা কারণে জনগণ মনে করছে যে, খালেদা জিয়ার বিচার কার্যক্রমের পেছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি কাজ করেছে।
গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেছেন, খালেদা জিয়ার মামলার রায় দেশের রাজনীতি এবং আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হবে। দেশে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির বিচার হয় না; অথচ সামান্য ইস্যু বিচার নিয়ে হৈচৈ হয়। তাতেই বোঝা যায় খালেদা জিয়ার মামলায় কি হয়েছে।
বিচার যত স্বচ্ছই হোক মানুষ মনে করছে বিচারের রায় প্রভাবিত। মানুষের এই বিশ্বাস ভাংতে যারা ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা চুরি করেছেন তাদের ছায়া দিয়ে রাখার বদলে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়াররম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, বেগম জিয়ার মামলায় যে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে তার প্রমাণ আওয়ামী লীগ নেতাদের কথাবার্তায় বোঝা যায়। দেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন নেত্রী বেগম জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার নীল নকশায় কারাদন্ড দিয়ে ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার খায়েশ সরকারের পুরণ হবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলছেন, খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন কিনা তার চাইতেও বড় প্রশ্ন হচ্ছে নির্বাচনের সময় তিনি জেলের ভেতরে থাকবেন না মুক্ত থাকবেন? খালেদা জিয়া যদি নির্বাচনে অংশ নিতে নাও পারেন, তবুও তিনি যদি জামিনে থাকেন এবং প্রচারাভিযানে অংশ নিতে পারেন, তাহলে এই কারাদন্ড বিএনপির জন্য নেতিবাচক না হয়ে বরং ইতিবাচক হতে পারে।
বেগম জিয়াকে কারাগারে নেয়ার পর টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ায় প্রতিবাদ হচ্ছে। নির্বাচনের বছর হওয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে। যা বেগম জিয়ার রাজনীতির ক্যারিয়ার আরো সমৃদ্ধ করবে বলে মনে করছে সাধারণ মানুষ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ