সোমবার ৩০ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইসলামী বীমা প্রবিধান প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা

অধ্যক্ষ ডা. মিজানুর রহমান : সূচনা : সুস্থ, সুন্দর, সুখী ও শান্তিও জীবন কেনা কামনা করে? মানব সৃষ্টির পর থেকেই এ ধরনের কামনা বাসনা বিরাজমান। দুনিয়ার তাবুত মানুষের ন্যূনতম মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অনাদিকাল হতে চলমান প্রক্রিয়া। তবে নিখিল বিশ্বে মানচিত্রের, পরিবেশের বৈচিত্র আর কালের বিবর্তনে পাল্টে যাচ্ছে মানবাধিকারের ধরণ-ধারণ।
বিশ্বায়নের যুগে আধুনিক সভ্যতা বলতে যে সভ্যতাকে বুঝানো হয় সেটি অর্জন করতে মনুষ্য জাতীর ৭-৮ কোটি বছর সময়লেগেছে। এ সময়ের ব্যবধানে অবনীর প্রায় দু-লাখ এর বেশি ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে প্রান্তে জন্ম গ্রহণ করে স্রষ্টার নীতি নৈতিকতায় গড়া আলোকিত মানুষ হিসাবে যুগেযুগে পথ ভোলা সাধারণ মানব জাতিকে আলোর পথ দেখিয়ে ইহজনমে অমরত্ব জীবন লাভ করার সৌভাগ্য অর্জন করেন। যার ইতিহাস ঐতিহ্যের রেনেসাঁর মাতথ্য পূর্ণ আল-কুরআনে বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে।
তাদের একমাত্র কাজই ছিলো স্রষ্টার ইচ্ছা পুরণ করা তথা স্রষ্টার সপ্ন হলো মানুষ তার বিধান সমূহ পরিপূর্ণ ভাবে প্রতিপালন ও অনুশীলনের মাধ্যমে স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জন করা। এতে করে তারা দুনিয়ার কল্যাণ লাভ করবে ও আখিরাতে মুক্ত পাবে।
এক্ষেত্রে তাদের মিশ্রণ ছিলো স্রষ্টা কর্তৃক জ্ঞানার্জন, অনুশীলন, জীবাকার জন্য কায়িক পরিশ্রম করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ অর্জন, পারিবারিক, সামাজিক সহ একটি উন্নত সভ্য ও শান্তির কল্যাণ রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। পরিশেষে ইসলাম নামক পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার হিসাবে রূপকার হিসাবে একজন সফল অগ্রনায়ক বিশ্বনেতা হযরত মুহাম্মদ (সা) এর জন্ম হয় মক্কায়। তিনি ৪০ বছর বয়সে স্রষ্টার ঐশীবানী প্রাপ্ত হয়ে সুদীর্ঘ ২৩ বছর সংগ্রাম করে মানব জাতীর জন্য একটি বিরাট নিয়ামত মহাগ্রন্থ আল-কুরআন উপহার দেন।
এই মহাগ্রন্থ আল-কুরআন বিশ্লেষণ করে যা পাওয়া যায় তা হলো পরকালের কল্যাণকর অনন্তজীবন আবিষ্কারের ক্ষেত্রস্থল হলো দুনিয়া। এখানে দৈনন্দিন জীবনাচড়ণ যেভাবে পরিচালিত হবে আখিরাতে সে ধরনের ফলাফলের ভিত্তিতে জান্নাত-জাহান্নাম নির্ধারিত হবে। দুনিয়ার সময়টা আখিরাতের তুলনায় যৎসামান্য কাজেইন্য অনন্ত জীবনের সুখ লাভের সহজ উপায় আল-কুরআনে বিশদভাবে প্রকাশিত ও বর্ণিত হয়েছে।
উল্লেখ্য ১৮ হাজার প্রজাতি সুধুমাত্র মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছ্। এরা কখনো সীমা লংঘন করেনা। অথচ মানুষ সৃষ্টির সেরা হয়েও সীমা লংঘর করার নজীর রয়েছে। প্রচলিত প্রথা রীতিনীতির মূলোৎপাটন করে একমাত্র আল্লাহ প্রদত্ত বিধি-বিধান প্রতিষ্ঠা ও কার্যকর করার জন্যই নবী ও রাসূলগণের আগমন ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় মানব জাতির একটি অংশ তাদের ব্যক্তি জীবনের সর্বক্ষেত্রে শরীয়াতের বিধা-বিধান মেনে চলে এবং সকল প্রকার মতাদর্শের উপর ইসলামি হুকুমত প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করে মারে ও মরে।
ইসলামের আলোকে জীবন-জীবিকায় সফলতা ও বিফলতা : “তোমরা কল্যাণ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে অপরকে সহযোগিতা করবে এবং পাপ ও সীমা লংঘনের কাজে সহযোগিতা করবেনা।” সুরা মায়িদা -২
রাসূলের যুগে নবী মোহাম্মাদ (সা) সামাজিক কুসংস্কার তথা সূদ, ঘুষ, জেনা,ব্যভিচার, জুয়া, লটারী, মিথ্যাচার, প্রতারণা, ক্ষমতার লিপ্সা, স্বৈরাচারি আচড়ণ ইত্যাদি অপনীতির বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে লক্ষ লক্ষ সাহাবী নিয়ে সংগ্রাম করেছেন। অবশেষে বিজয় লাভ করেন ইসলাম সারা বিশ্বে আলোর জ্যোতি ছড়িয়ে বিশ্ব ভ্রমান্ডের মানচিত্র একে একে দখল করতে থাকে। সে আলোর মর্যাদা টেকসই করার জন্য সাহাবিদের নানা ভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
ব্যক্তি সমাজ রাষ্ট্রে যাতে দুর্ভিক্ষ না আসে সে জন্য দারিদ্র্যতাকে কুফরের সাথে তুলনা করা হয়েছে। দারিদ্র্যতাকে জয় করে সুখি সমৃদ্ধশালী অর্থনৈতিক ভিত মজবুত করণে বার বার নানাভঙ্গিতে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। যেমন রাসূল (সা) বলেন, নিচের হাতের চেয়ে উপরের হাত মর্যাদাবান। একথায় বোঝা যায় যে আমাদের অর্থনৈতিক সফলতা ছাড়া ইসলামের মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ তাআলা আল-কুরআনে যতবার সালাতের কথা উল্লেখ করেছেন সাথে সাথে জাকাতের কথাও উল্লেখ করেছেন। তোমরা সালাত প্রতিষ্ঠা কর এবং যাকাত দাও।
রাসূল (সা) বলেছেন, তোমাদের উত্তরাধিকারিদের নিঃস্ব পরমুখাপ্রেক্ষি ও অপর লোকদের উপর নির্ভর করে রেখে যাওয়া অপেক্ষা তাদের স্বচ্ছল ধনী ও সম্পদশালী রেখে যাওয়া তোমাদের জন্য অনেক ভালো। - বুখারী শরীফ।
“জনপদ সমূহের অধিবাসিদের নিকট থেকে স্বীয় রাসূল (সা) কে যা পত্যাবর্তন করেছেন, বস্তুত আল্লাহ ও রাসূল (সা) এর জন্য এবং আত্মীয়-স্বজন, পিতৃহীন দারিদ্র্য ও পথিকদের জন্য দান জাতের সম্পদ পর্যায়ক্রমে তোমাদের ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়।” -সূরা হাসর -৭।
“রাসূল (সা) বলেছেন, তোমাদের কাজ কর্ম আমাকে চিন্তান্বিত করে রেখেছে যে, আমার পরে তোমাদের উত্তরসূরিরা কিভাবে জীবন-যাপন করবে, অর্থাৎ আমি কোন উত্তরাধিকার সম্পত্তি রেখে যাচ্ছিনা। আর তোমরা দুনিয়ার উপর আখিরাতকে প্রাধান্য দিচ্ছো।
স্বামী-স্ত্রী সন্তান-সন্ততিদের নিরাপদ ভবিষদের কথা চিন্তা করে তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ তৈরি করার বিষয়টি ইসলাম বিভিন্নভাবে উৎসাহিত ও অনুপ্রেরণা করেছে। এক্ষেত্রে ব্যক্তি পরিবার ও সমাজের অনিশ্চিত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা বিষয়টি টেকসই করার জন্য ইসলামি বীমা ব্যবস্থা মূলত একটি আর্থসামাজিক কৌশল মাত্র।
 “রাসূল (সা) বলেছেন, বিবাহের পূর্বে আর্থিক সংগতি না হলে রোজা রাখ। এক্ষেত্রে দৈনন্দিন জীবনে আর্থিক সামর্থের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
মহান আল্লাহ বলেন, “হে ইমানদারগন! তোমরা জেনে রাখ, মদ, জুয়া, মুর্তি পুজার দেবি, ভাগ্য জানার জন্য ব্যবহৃত শলাকা সমূহ শয়তানি কাজের অপবিত্রতা মাত্র অতএব তোমরা এর প্রত্যেকটি কাজই সম্পূর্ণরুপে পরিহার কর। তাহলেই আশা করা যায় যে, তোমরা সফলকাম হবে।” সূরা মায়িদা-৯০।
“সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাজ কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ কর।” আল ইমরান- ১৫৯।
“আল্লাহ তাআলার ইবাদত যেমন ফরজ, ইসলামে জীবিকা উপার্জন করাও তেমন ফরজ করা হয়েছে, এ প্রসঙ্গে কুরআন মাজিদে বলা হয়েছে- যখন সালাত আদায় শেষ হবে তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে, আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ করবে এবং আল্লাহর বেশি বেশি যিকির করবে; এতে তোমরা সফল হবে- আল-কুরআন, ৬২:১০।
“আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমরা উত্তম ও পবিত্র বস্তু আহার করো, যা আমি তোমাদের জীবিকারূপে দিয়েছি এবং কৃতজ্ঞতা আদায় কর আল্লাহর, যদি তোমরা একন্তই তাঁর ইবাদত কর।” আল-কুরআন -০২:১৭২।
“আল্লাহর রাসূল (সা) বলেছেন, হারাম সম্পদের তৈরি গোশত ও রক্ত জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং হারাম সম্পদের তৈরি প্রতি টুকরো গোশত ও প্রতি ফোটা রক্তের জন্য জাহান্নামই যথোপযুক্ত আবাস। তিনি আর বলেন, পবিত্রতম উপার্জন হল মানুষের নিজের হাতের পরিশ্রম। মূলত আল-কুরআন এর মৌলিক বিষয় হলো- মুসলিমদের আধ্যাত্মিক ও বস্তগত সমৃদ্ধি ও কল্যাণের জন্য মানব উন্নয়ন ও মানব সম্পদ গঠন।
মূলত দৈনন্দিন জীবনাচরণের উপরই নির্ভর করে পরকালের জান্নাত-জাহান্নাম। যেহেতু সকল মানুষকেই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর না দেয়া পর্যন্ত এক পা নড়তে দেয়া হবে না, সেই পাঁচটি প্রশ্নের মধ্যেও অর্থনৈতিক বিষয়ে দুটি প্রশ্ন বিদ্যমান। যেমন: সামগ্রিক জীবন, যৌবনকাল, আয়, ব্যয় ও অর্জিত জ্ঞানের ব্যবহার কিভাবে সম্পাদিত হয়েছে। এক্ষেত্রে হালাল উপায়ে উপার্জিত একটি অংশ বীমা এর মাধ্যমে সঞ্চয় করে ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে তা ব্যবহার করা যেতে পারে। জীবনকে সুন্দরভাবে সাজাতে হলে অর্থের প্রয়োজন আর অর্থ আসে পরিশ্্রমে। সে পরিশ্রমের বিনিময়ে প্রাপ্ত অর্থ সঞ্চয় করা হলে মৃত্যু, বার্ধক্য, অসুখ, দূর্ঘটনা ইত্যাদি ঝুঁকি ও আপদকালীন দুর্যোগে অসাধারণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
ভারসাম্যপূর্ণ জীবন-জীবিকায় ইসলামী বীমার গুরুত্ব : মূলতঃ আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল (সা) প্রদর্শিত জীবন বিধানের বিকাশই হলো ইসলামি রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য, এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরিন শান্তি-শৃংখলা রক্ষা করা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করা, বহিঃআগ্রাসন প্রতিরোধ করা ও ইনসাফ পূর্ণ কল্যাণ রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা ও সংরক্ষন করা।
রাসূল (সা) ইসলামি সমাজ ব্যবস্থার ঊষালগ্নে “আকেলার” বিধান বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহন করেন। এই আকেলাই বিবর্তনের মাধ্যমে বীমা ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে।
ইসলাম মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, মানবিক মুল্যবোধ, পরস্পরের প্রতি দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসা, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ, লজ্জাহীনভাবে কায়িক পরিশ্রম করে জোরগার করতে পৃথিবীর মানুষকে উৎসাহিত করা হয়েছে বার বার নানা ভাবে। এক্ষেত্রে বৈধ ও অবৈধ, আদেশ ও নিষেধ এর বিষয়টি প্রাধান্য দিতে হবে।
বিশ্ব নবী (সা) মাত্র ২৩ বছরে একটি অসভ্য জাতিকে সভ্য ও মডেল জাতিতে রূপান্তরিত করেছিলেন। সুশাসন, জাতিয় ঐক্য, ন্যয় বিচার, জবাবদিহিতা, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক কল্যাণ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধতা ইত্যাদি বিষয়ে অসাধারণ সফলতা অর্জন করে বিশ্ব নন্দিত হয়েছিলেন।
আজকের যুগে মানুষ জীবন মানের উপাত্ত বৃদ্ধির জন্য নানা রকম কৌশল উদ্ভাবন ও গবেষণা চালাচ্ছে। অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র ও রাসায়নিক এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রীর ব্যবহার, ক্ষমতার দাপটের প্রতিযোগিতায় মানুষ এক মহাক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। অপরদিকে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতি সংঘ ও ওআইসি নাম মাত্র ম্যারাথন শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবতীর্ণ হয়।
এর পাশাপাশি মহাদেশগুলোতে আলাদা আলাদা ভাবে রাষ্ট্রগুলো নিজস্ব স্বকীয়তায় ব্যবসা, বাণিজ্য, শিল্প, প্রযুক্তি, প্রকৌশলী ব্যবহার করে অর্থনৈতিক স¦াবলম্বীতা অর্জনে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এতে করে বিত্তশালিরা আরো বিত্তবান হচ্ছে, নিম্নবিত্তরা সম্পদহীন হয়ে পড়ছে এবং হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে, এদের সংখ্যা শতকরা ৯৪%। এই বিশাল জনগোষ্ঠিকে জীবন ধারনের তাগিদেই এখন থেকে সচেতন মনোভাব সৃষ্টি করে আর থেকে যতকিঞ্চিৎ অর্থ জমা রাখার অভ্যাস করতে হবে। তাহলে দুর্দিনে এ অর্থ মহিরূপে আবির্ভাব হয়ে সাহায্য করবে।
মুসলমানরা ভিখারির জাতিতে পরিনত হতে পারেনা। পরনির্ভরশীলতা ও পরমুখাপেক্ষিতা ইসলাম সমর্থন করেনা। মুসলমানরা অর্ধপৃথিবী সাড়ে ন’শ বছর শাসন করে তা দেখিয়ে দিয়েছে। বিশ্ব নবী (সা) ভালোভাবেই বুঝেছিলেন অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় ইমান বিনষ্ট হয়। কাজেই তিনি অর্থনৈতিক ইনসাফ ও বৈষম্যহীন ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য জাকাতের ব্যবস্থা কঠোর ভাবে বাস্তবায়ন করেন। ফলে ভিক্ষা গ্রহণের মানুষ খুঁজে পাওয়া ছিল দুস্কর।
তিনি আরো বুঝতে পেরেছিলেন যে, মানুষ মহান আল্লাহর সর্বোৎকৃষ্ট সৃষ্টি। এই মানুষকে কেন্দ্র করেই সৃষ্টি জগতের সকল আয়োজন। এই মানুষই মহাপ্রলয়ের নিরাপত্তার প্রতিক।
আমাদের মনে রাখতে হবে যে, শুধু বৈষয়িক উন্নতি সাধনকেই ইসলাম মুখ্য বিষয় হিসাবে পরিগনিত করেনা। পাশা পাশি আখিরাতের মুক্তির জন্য বিশেষ কিছূ গুরুত্বপূর্ণ গুনাবলি অর্জনে সচেষ্ট থাকার বিষয়েও যথেষ্ঠ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এরমধ্যে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ব্যক্তিগত গুনাবলি, তন্মধ্যে সময়ানুবর্তিতা, একাগ্রতা, মানব কল্যাণ সাধন উল্লেখযোগ্য।
এক্ষেত্রে তামান্না বা আশা আকাঙ্খার মাত্রার ক্ষেত্রে তাকওয়া বা খোদাভীতির বিষয়টি জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সীমালংঘন করে আশা পুরনের অনুমতি ইসলাম অনুমোদন করেনা। সীমার মধ্যেই অসীমতা অর্জনে ইসলাম উৎসাহিত করে। সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেই কামিলই ইনসানিয়াত অর্জন করে আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্য অর্জনে প্রচেষ্টা চালাতে উৎসাহিত করে।
অধুনা বিশ্বায়নের প্রচেষ্টা ধারনার বিকাশ সাধনে যে সব পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে আপাত দৃষ্টিতে তা যত ভালো মনে হচ্ছে এটি নিতান্তই ক্ষণস্থায়ী ও নশ্বর। মানবিক গুনাবলিহীন মানবীয় উন্নয়ন মূলত বস্তুগত উন্নয়ন। যেখানে উন্নয়নই মুখ্য বিষয় বলে চিহ্নিত করা হয়। এধরনের বৈষয়িক উন্নয়নের মধ্যে ইসলাম সীমাবদ্ধ নয়। বরং বৈষয়িক উন্নয়নের পাশা পাশি মানবিক মূল্যবোধ, সহানুভূতি, পরস্পর সহযোগিতা ও ভালোবাসা অর্জনের প্রতিও সমভাবে গুরুত্ব দিয়েছে।
মূলতঃ ভারসাম্যহীন উন্নয়ন একটি জাতিকে তিন ভাগে ভাগ করে (এক) শাসক, (দুই) শোষক, (তিন) শাসিত।
ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় বীমার গুরুত্ব : পৃথিবী সকলের জন্য যেভাবে সমভাবে আলো, বাতাস, পানি, রাত, দিন, এর সুবিধা বিতরণ করে ঠিক তেমনি ভাবে মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে ইনসাফ পূর্ণ এবং ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় ইসলাম সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
আল্লাহ তাআলা মানুষের সৃষ্টিকর্তা। তার নিকট সকল মনুষ সমান। ন্যায় ভিত্তিক সমতা, সহযোগিত ও সহমর্মিতার ভিত্তিতে বিশ্বভ্রাতৃত্বের অনুপম নিদর্শন হলো ইসলামি বীমা। এতে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সম্পদ বন্টনের নিশ্চয়তা বিধান করে। ইসলামে শেয়ার হোল্ডিং বা চুক্তি ভিত্তিক পদ্ধতি স্বীকৃত। পাশাপাশি আল-গারার অর্থাৎ অন্তহীন সন্দেহজনক ও ফটকাবাজির লেনদেন নিষিদ্ধ।
সামাজে কেউ বিপন্ন হয়ে গেলে এবং প্রয়োজন পুরনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে পুনঃবন্টন প্রক্রিয়া সমাজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিৎ। ইসলামিক বীমা ব্যবস্থার সাধারন অনুদান তহবিল সৃষ্টি করেন সম্পদের পুনঃবন্টন করা হয়।
অর্থনৈতিক (অন্যের) সুযোগ, সামাজিক সুবিধা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, জননিরাপত্তা, সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, জনমতামত ইত্যাদি বিষয়ের ইসলাম আপোষহীন। খাদ্য সঞ্চয়, নিরাপত্তা, বাসস্থান, পরিশ্রম, দলবদ্ধতা, দায়িত্বশীলতা, আনুগত্য, নিয়ম-শৃঙ্খলা, বুদ্ধিমত্তা, বিবেকবোধ ইত্যাদি নানা বিষয়ের জ্ঞান অর্জন করা যায় মৌচাক থেকে।
ইসলামি বীমার সুচনা ও ক্রমবিকাশ : সাধারণ বীমা ব্যবস্থার সুচনা ঘটে সর্বপ্রথম ইতালির সওদাগরের মাধ্যমে। ঐতিহাসিকদের মতে, উন্দুলুসে মুসলমান শাসন আমলে মুসলিম সওদাগরদের সর্বপ্রথম পারস্পরিক সহযোগিতা মূলক ব্যবস্থার সুচনা করেন। একবার এই সওদাগরদের একটি বাহিনী দীর্ঘদিনের পথ উটের বহর যোগে পাড়ি দিয়ে মালামাল ক্রয় করে ভিন দেশ থেকে নিজ দেশে আমদানি করতে গিয়ে পথের মাঝামাঝিতে মরুভূমিতে রাত হয়ে যায়। তাবু গেড়ে সকলেই ঘুমিয়ে পড়ে। হঠাৎ সে কালোমেঘ দেখা দেয়, তেড়ে আসে সাইমুম, মুহূর্তেই লন্ডভন্ড হয়ে যায় তাদের বহর, বেশ কিছু উট ও মানুষের প্রাণ হানী ঘটে। যারা বেঁচে ছিলেন তারা কোন রকমে দেশে ফিরে আসেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়ায় শোকের মাতমে এলাকা ভারী হয়ে যায়। শিশু ও মহিলারা পিতা, স্বামী ও ভাই হারিয়ে নিঃস্ব ও সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় গত্রের বুদ্ধিজীবি সওদাগরের প্রধানগণ অনেক গবেষণা করে সমাজের ব্যবসায়ীদের সমন্বিত উদ্যোগে একটি “দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল” গঠন করেন। সে তহবিলে সকলেই কিস্তিতে প্রিমিয়াম জমা দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে সে জমাকৃত অর্থ দিয়ে ক্ষতি গ্রস্তদের উট কিনে দেয়া হয় কিন্তু তারা প্রিমিয়াম জমা অব্যাহত রাখেন। দীর্ঘ দিনে আর কোন দূর্যোগ না আসায় তহবিলটি সমৃদ্ধ হতে থাকে। এর পর হঠাৎ আবার এরকম প্রাকৃতিক দূর্যোগে জান ও মালের ক্ষতি সাধন হলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ঐ তহবিল থেকে উটসহ পণ্য সামগ্রী ক্রয়ের অর্থ যোগান দেয়া হয়, যাতে করে ঐ পরিবারের সদস্যরা চলমান ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে। এভাবেই জন্ম নেয় বীমা কার্যক্রম।
যীশু খৃষ্টের ৫ শত বছর পুর্বের বীমা চালু হয়। ১৬ শ শতাব্দীতে ব্যবসায়ী সফরে বীমা চালূ হয়েছে। ১৭০৫ সালে পৃথিবীতে সর্বপ্রথম বীমা কার্যকরণ চালু করেন মি. হার্ডলে লন্ডনে। যিনি প্রথমে বই ব্যবসায়ী ছিলেন। ১৮৩২ খ্রিঃ দি ইস্টার্ন ফেডারেল ইউনিয়ন ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিঃ চালু হয়। ১৮৪৭ খ্রিঃ পাদ্রী মাদ্রাজ লাহোরে বীমা চালূ হয়। এটি চালু করে হিন্দুস্থান ও অপারেটিভ সংস্থা। ১৯৩৫ খ্রিঃ পাকিস্তানে আল্লামা ইকবাল মুসলীম ইন্ডিয়া ইন্সুরেন্স কোম্পানী চালু হয়। ১৯৪২ খ্রিঃ মোহাম্মাদ আলী হাবিব ইন্সুরেন্স কোম্পানী চালু করেন।
১৯৬৯ খ্রিঃ অনুষ্ঠিত প্যান-মালয়েশিয়ায় ইসলামি সম্মেলনে প্রথম ইসলামি বীমা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। জনগনের আগ্রহ ও চেতনায় অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে ১৯৭২ সালে জাতিয় ফতোয়া কমিটির প্রচলিত বীমা কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অতঃপর বিষয়টি নিয়ে গবেষণার পর ১৯৭৯ সালে ঈদে মিলাদুন নবী উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে উপস্থিত জনতার প্রশ্নের জবাবে কুয়ালালামপুরের সাবেক এক মুফতি বিষয়টি পুনরায় গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেন। উক্ত সমাবেশে তিনি প্রচলিত বীমা কার্যক্রমকে শরীয়া বিরোধি বলে ঘোষনা করে।
তুর্কির ওসমানির শাসন আমলে একটি সমাজ কল্যাণ মুলক প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যের পরিধি ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ায় ১৯৭৯ সালে সুদানের খার্তুমের ইসলামি শরীয়া ভিত্তিক বীমা কোম্পানী চালু হয়। একই বছর সৌদি আরবে “ইসলামি আরব কোম্পানী” নামক একটি বীমা কোম্পানী চালু হয়। ১৯৮১ সালে জেনেভায় প্রতিষ্ঠিত হয় “দারুলমাল আল-ইসলামি” নামে আর একটি বীমা কোম্পানী। ১৯৮৩ সালে তৃতীয় বীমা কোম্পানী প্রতিষ্ঠিত হয় লুক্সেমবার্গে। একই বছর বাহামাতে প্রতিষ্ঠিত হয় “ইসলামি তাকাফুল ওবি তাকাফুল কোম্পানী”। বাহরাইনে প্রতিষ্ঠিত হয় “শরীকত আত-তাকাফুল আল-ইসলামিয়া”। ১৯৮৪ সালে মালয়েশিয়াতে প্রতিষ্ঠা লাভ করে “শরীকত তাকাফুল মালয়েশিয়া সিন্ডিরান বারহেড”। ১৯৯৮ খ্রিঃ ১১ আগষ্ট হোমল্যান্ড লাইফ ইন্সুরেন্স এর একটি প্রকল্প চালু করা হয়।
তাকাফুল ও বীমা সংক্রান্ত তথ্য : ভারতিয় আইন বিশেষজ্ঞ ড.মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ইসলামি আইনের আলোকে বীমার একটি সতর্ক এবং বস্তুনিষ্ঠ সমীক্ষা পরিচালনা করেন। তাঁর সমীক্ষার ও গবেষণার ফলাফল তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে থিসিস আকারে উপস্থাপন করেন। থিসিসটি গৃহিত হয় এবং ১৯৬৬ সালে তাকে ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়া হয়। তিনি উপসংহার টানে এই বলে যে পারস্পরিক সহযোগিতা বীমা (গঁঃঁধষ ওহংঁৎধহপব) ইসলামে অনুমোদন যোগ্য।
পাকিস্তানের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. নেজাতুল্লাহ ছিদ্দিকী ১৯৭০ দশকের শুরুতে কুরআন-সুন্নাহ এবং শরীয়াহর বিস্তৃত লক্ষ্য উদ্দেশ্যের আলোকে ইসলামি বীমার বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি যুক্তি দেখান যে বীমা ও জুয়া একটি অন্যটি থেকে মৌলিক ভাবে ভিন্ন এবং ইসলাম সহজভাবে নির্ভরযোগ্য ঝুঁকি পুরনের ধারনার বিরোধী নয়। তার মতে ইসলামি দৃষ্টিকোন থেকে বর্তমান বিদ্যমান বীমা ব্যবস্থার নির্দিষ্ট কিছু দুর্বলতায় ভুগছে। তবে সেগুলো নীতিমালা এর অনুশীলনের জন্য অপরিহার্য অংশ নয়। তাই ইসলামি শরীয়াহর আলোকে একটি নতুন ধারার বীমা ব্যবস্থা বিকশিত করা যায়। ইসলামি বীমার প্রতিশব্দ “আত্ তাকাফুল” যার অর্থ যৌথ নিশ্চয়তা।
গত তিন দশকে ইসলামি বিশ্বের বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন গ্রƒপ এবং ব্যক্তি বিষয়টি নিয়ে বিস্তর গবেষনা করেছে। মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইকোনমিসোসাইটি ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরে একটি সেমিনার আয়োজন করে। ইসলামি ইকোনমিক্স রিসার্চব্যুরো ঢাকা এই বিষয়ে ১৯৮৭ সালে একটি সেমিনার আয়োজন করে বন্ধ উপস্থাপনা করা হয়।
মসলিম আইনবেত্তাগন সনাতন বীমার কার্যক্রম প্রশ্নে ব্যাপক জ্ঞানগর্ভ গবেষণা ও পুঙ্খানূপুঙ্খ সমিক্ষা পরিচালনা করেন। এসব সমিক্ষার ফলে সাধারন ভাবে মুসলিম আইনবেত্তাগনের মধ্যে মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, বর্তমান ধারায় প্রচলিত বীমার কার্যক্রম পুঙ্খানূপুঙ্খ নিয়ম ও বিধানের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। তাই মুসলিম বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদগণ যৌথভাবে ব্যাপক ও পুঙ্খানূপুঙ্খ সমক্ষা চালিয়ে ইসলামি বিধি বিধান কঠোর ভাবে মেনে বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে ইসলামি বীমার নিতিমালা প্রনয়ন করেন।
দৈনিক ইত্তেফাক এর ৮ ই আগষ্ট ২০১১ খ্রিঃ প্রকাশিত অর্থনীতির পাতায় “বীমা কোম্পানীর আবেদনের ভিড়িক” শিরোনামে শাহীন হোসেন লিখেছেন বীমা কোম্পানীার লাইসেন্স পাওয়ার জন্য এ পর্যন্ত প্রায় ১৪০ টি আবেদন জমা পড়েছে। বিগত ৫ বছরে আরও হয়ত অনেক কোম্পানী আবেদন করেছে। অর্থমন্ত্রি আবুুল মাল আবদুল মুহিত নতুন ব্যাংক লাইসেন্স ঘোষনা দেওয়ার পর ব্যাংকের পাশাপাশি বীমা আবেদন জমা দেওয়ার হার বেড়ে গেছে। তথ্যমতে জানা যায় সরকারি সাধারণ বীমা এবং জীবন বীমা করপরেশন সহ বর্তমানে দেশে কর্মরত বীমা কোম্পানীর সংখ্যা ৬৩টি। এসব কোম্পানী ৪১টিই সাধারণ বীমা (নন লাইফ) কার্যক্রম পরিচালনা করে। অন্যদিকে সরকারি জীবন বীমা করপরেশনের এবং মেটলাইফ আমেরিকান লাইফ ইন্সুরেন্স সহ মোট ১৮টি কোম্পানী জীবন বীমা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।  ১৯৯৬ থেকে ২০০১খ্রিঃ পর্যন্ত মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার সময় সর্বোচ্চ ৩০টি বীমা কোম্পানীর অনুমোদন পেয়েছিলো। সেসময় ১১টি জীবন বীমা এবং ১৯ সাধারণ বীমা কোম্পানী কে অনুমোদন দেওয়া হয়। তারও আগে ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট এরশাদের আমলে তিনটি জীবন বীমা এবং ১৬টি সাধারন বীমা প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পর ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার অনুমোদন ২ দুইটি জীবন বীমা ও ৮টি সাধারন বীমা। পরবর্তিতে যে সমস্ত বীমা প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক অনুমতি নিয়ে বীমা কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেসব বীমা প্রতিষ্ঠানকে বীমা কোম্পানীর নীতিমালার আওতায় সংশোধিত আকারে প্রবিধান রচিত করে তা অনুমোদনের প্রয়োজন মনে করেন অভিজ্ঞ মহল।
ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আলোকে জীবন বীমা : ইসলামের আলোকে জীবন বীমা ব্যবস্থা এখন অনেকটা বিতর্কের উর্ধে চলে এসেছ। যদিও এ সম্পর্কে আরও ব্যাপক আলোচনা পর্যালোচনা প্রয়োজন। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা প্রভৃতি দক্ষিন পূর্ব এশিয়ায় দেশসমূহে ইসলামি বীমা কোম্পানী সমূহ বিভিন্ন আদলে মডেল কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশসমূহে ইসলামি বীমা কোম্পানী সমূহ সফলতার সাথে কাজ করছে। বর্তমান বিশ্বে অন্তত ৬০ টি ইসলামি বীমা কোম্পানী কাজ করছে। আরও অনেক গুলো প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে। বলা যায় গত তিন দশকে ইসলামি বীমার ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামি বীমা অনুমোদন যোগ্য কিনা তা প্রাসঙ্গিক বিষয় নয়। বর্তমানে যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো ইসলামি বীমা ইসলামি সমাজ ও ইসলামি অর্থনীতি বিকাশের মাধ্যমে মানুষের ব্যক্তিগত অর্থনীতি সাফল্যমন্ডিত করা। প্রথমে আমরা চেষ্টা করবো বিষয়টি ভালোভাবে এবং উদার দৃষ্টিতে সূক্ষ বিশ্লেষণের। পশ্চিমা বীমা ব্যবস্থা কোন ইসলামি নীতি মালার সংঙ্গে যথেষ্ট অমিল রয়েছে। এ জন্যে ইসলামি আর্থ সামাজিক ব্যবস্থার মৌলিক দর্শন ও নীতি মালা সম্পর্কে সচ্ছ ধারনা থাকা জরুরী। কারণ পুজবাদি মুক্ত বাজার দর্শনে অধিকাংশ মুসলিমদেশে বিরাজমান ইসলামি আদর্শ ও নীতির আংশিক প্রয়োগ ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কাঙ্খিত উদ্দেশ্য সাধন করবেনা। ইসলামি আর্থ সামাজিক ব্যবস্থার মৌলিক দর্শন ও নীতি মালার সারমর্ম হল বিশ্বভ্রাতৃত্বের ইসলামি দর্শনের ভিক্তিতে তাকাফুল বা ইসলামি বীমা ব্যবস্থার প্রচলন করে সম্পদের ন্যায়ানুগবন্টনের ব্যবস্থা করা যা শূধু মাত্র জাকাতের মাধ্যমে সম্ভব নয় যেটা জীবন বীমার মাধ্যমে সম্ভব।
অর্থনীতিতে জাকাতের প্রচলন অতীব জরুরী যার অর্থ ধনী লোকের সম্পদ ও ধনে নিঃদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। সমাজের অভাবি বঞ্চিত দুর্বল লোকদের কল্যাণের জন্য ইসলামে অন্যতম স্তম্ভ হল জাকাত ব্যবস্থা যা বাধ্যতা মূলক করা হয়েছে। ইসলামি জীবন বীমা জাকাতকে প্রাতিষ্ঠনিক ভাবে প্রবর্তন করে থাকে। এভাবে ইসলামি অর্থনৈতিক মৌলিক বিষয়গুলো তাকাফুল ব্যবস্থায় প্রয়োগ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এটা পরিস্কার যে পুজিবাদি বীমা ব্যবস্থা ইসলাম গ্রহন করেনা তবে বীমার মূলনীতিমালা বিশেষ করে সঞ্চয়ী বীমা কারির আকস্মিক ক্ষতি সাধন হলে তা পুষিয়ে নেয়া যায়।
একটি শরীয়াহ বোর্ডের তত্তাবধানে কোম্পানীর দৈনন্দিন কার্যাবলির তত্তাবধানের প্রক্রিয়া অভ্যাহত থাকবে যা ইসলামি মুদারাবা নীতির ভিক্তিতে পরিচালিত হয়। আধুনিক বীমা কোম্পানীগুলো ইসলামি শরীয়াতের কোন প্রকার ধার ধারেনা কিন্তু ইসলামি বীমা কোম্পানীকে ইসলামি পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি স্বার্থ সংরক্ষন, সামাজিক কল্যান সাধনের বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এখন আমাদের উচিৎ হবে ইসলামি জীবন বীমার কল্যাণময়ী দিকগুলোকে মানুষের সামনে তুলে ধরা। ইসলামি বীমা জগতে প্রথম পর্যায়ে প্রয়োজন সমাজের অপেক্ষাকৃত শিক্ষিত ভালো মানুষ যারা ইসলামি জীবন ব্যবস্থা সম্পর্কে এবং ইসলামি বীমা বিষয়ক সম্যকজ্ঞান রাখেন। সামাজে যারা ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্টা করতে চায় তারা যদি বীমা কার্যক্রমকে সাগত না জানিয়ে দুরে থাকেন এবং অন্যদের দুরে থাকতে উৎসাহিত করেন তাহলে ইসলামি আন্দলন সফল হবে এমনটি আশা করা সমিচিন বলে মনে হয় না।
ইসলাম যেহেতু পরীক্ষিত প্রতিষ্ঠিত সার্বজনীন দির্ঘস্থায়ী জীবন ব্যবস্থা হিসাবে সারা বিশ্বে সমাদৃত ছিলো। কালের ব্যবধানে সে সব ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলার কারণেই ইসলামী জাকাত ও ইসলামী বীমা ব্যবস্থাকে নতুন করে বুঝাতে হচ্ছে। জাতি যত দ্রুত এটি বুঝতে পারবে তত দ্রুতই অর্থনৈতিক সফলতা লাভ করার সৌভাগ্য অর্জন করবে।
ইসলামকে বর্তমান বিশ্বে বিজয় করার যে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে তার মূল শক্তি হচ্ছে ঈমান ও অর্থনীতির সমৃদ্ধি। অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় ইসলামি আন্দোলন সফল হতে পারেনা। ইসলামি সমাজ ব্যবস্থা বা কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্ব শর্ত হলো জাকাত ব্যবস্থা রাষ্ট্রিয়ভাবে চালু করন। সেই সাথে নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনের ও প্রয়োজনে ইসলামি বীমা কার্যক্রম সঞ্চয়ী মনোভাব জাগ্রত করা। সময় এসেছে বাস্তবতা উপলব্ধি করে চুলচেরা বিশ্লেষন ও গবেষনা করে ইসলাম প্রিয় সাধারন মানুষকে বীমা সংক্রান্ত সঠিক ধারনা দেওয়া। আশা করি অল্প দিনেই তা সম্ভব হবে।
রাষ্ট্রযন্ত্র চায় দেশের মানুষ অর্থে, খাদ্যে, বস্ত্রে, শিক্ষায়, বিনোদনে সনির্ভরতা অর্জন করে কিন্তু তা যে বড় কঠিন ও বাস্তব এবিষযে একটি সচিত্র পতিবেদন পাঠকদের সদয় অবগতির জন্য পেশ করছি। গত ১৭ মার্চ ২০১১ খ্রিঃ দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় দেশের প্রথিতজশা বিশিষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারাকাত এর লেখা “বৈদেশিক সাহয্যে অবাধ লুটপাট প্রক্রিয়া” শিরনামে প্রকাশিত প্রবন্ধে উল্লেক করা হয়েছে যে, ১৯৭১ থেকে ১৯৯৯ খ্রিঃ মোট ৩০ বছরে বাংলাদেশে মোট বৈদেশিক ঋণ সাহায্য এসেছে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এই ঋণ সাহায্য মানব উন্নয়ন কাঠামো সৃষ্টিতে ব্যার্থ হয়েছে। সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (জিডিপি প্রবৃদ্ধি) অর্জন ঐ ঋণ সাহায্যের ভূমিকা নেই।
বাংলাদেশে ইসলামি বীমা প্রবর্তন : অত্যন্ত আশার কথা এইযে অনেক পরে হলেও অন্যান্য দেশের ন্যায় আমাদের বাংলাদেশেও ইসলামি বীমা (তাকাফুল) প্রকল্প চালু হয়েছে। ১৯৯৮ সালের ১১ আগস্ট দেশের কতিপয় সনামধন্য ধর্মপ্রাণ ব্যক্তির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় “হোমল্যান্ড লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড” নামক একটি বীমা কোম্পানী বাংলাদেশে প্রথম বারের মত ইসলামি শরীয়াহ ও আধুনিক বীমার অপুর্ব সমন্বয়ে ইসলামি বীমা বা তাকাফুল প্রকল্পকে সংযোজন করে বীমা ব্যবস্থা চালুর পথকে সুগম করে। পুরুন হয় দেশের মুসলমানদের বহুদিনে লালিত স্বপ্ন। বাংলাদেশে এই প্রকল্পে স্বপ্নদ্রষ্টা ও সফল রূপকার হলেন দেশের ধর্মপ্রান মুসলমানদের প্রিয় ব্যক্তিত্ব এসএম আব্দুল হাই। তিনি একজন ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলিম।
বাংলাদেশে বীমা বিষয়ক ইসলামি শরীয়াহ বোর্ড গঠন : বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত ইসলামী বীমা প্রকল্পের যাবতীয় কার্যক্রম ইসলামী শরিয়াহ বোর্ডের তত্বাবধানে পরিচালিত হয়। খ্যাতনামা মুফতি, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ও ইসলামী অর্থনৈতিক ব্যক্তিত্ব এর সমন্বয়ে গঠিত এই শরিয়াহ বোর্ডের সদস্য ছিলেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সম্মানিত খতিব মরহুম মাওলানা উবায়দুল কাদের। মাওলানা কবি রুহুল আমীন, মাওলানা মহিউদ্দিন খান ও মাওলানা যাইনুল আবিদিন অন্যতম।
বাংলাদেশ সরকার আইন অনুযায়ি এবং বীমা আইনের নিরিখে ইসলামী শরিয়াহ বোর্ডের অনুমোদন ক্রমে ইসলামী শরিয়তে বৈধ্য লাভজনক প্রকল্পেই এই প্রকল্পের অর্থ বিনিয়োগ করা হয়ে থাকে। যেমন: রিয়েল এস্টেট, মেডিকেল সেন্টার, শিক্ষালয় ইত্যাদি।
বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত বীমা প্রকল্পের আকর্ষণীয় তাকাফূল (যৌথ নিশ্চয়তা ) বীমা পলিসি সমুহ হলো ১) তাকাফুল বীমা পলিসি। ২) পারিবারিক তাকাফুল বীমা পলিসি। ৩) তিন কিস্তি প্রত্যাশিত মেয়াদি তাকাফুল বীমা পলিসি। ৪) শিশু ও শিক্ষা নিরাপত্তা তাকাফুল বীমা পলিসি।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিনে অশেষ মেহেরবাণীতে সম্মানীত বীমা গ্রাহক বৃন্দের বীপুল আগ্রহ উৎসাহ উদ্দীপনায় ও সহযোগীতায় ইসলামী বীমা তাকাফুল বাংলাদেশ প্রকল্পটি ধাপে ধাপে দেশের বীমা অঙ্গনে এক অভূতপূর্ব জনকল্যাণমুলক বৈপ্লবিক অবদান রেখে অচিরেই সার্বজনীন আস্থা অর্জনে সক্ষম হবে।
আগামী একবিংশ শতাব্দীর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলয় বাংলাদেশের ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক একটি স¦তন্ত্র জীবন বীমা কোম্পানি ও সাধারন বীমা কোম্পানি চালু এখন সময়ের একান্ত দাবতে পরিণত হয়েছে। কারণ দেশের শষিত বঞ্চিত সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ যে পরিমাণ ইসলামের ভক্ত, দরদি ও অনুসারি তা আর অন্য কোন দেশে খুজে পাওয়া বিরল। তারা চায় শরিয়াহ ভিত্তিক সঞ্চয়ই প্রতিষ্ঠান তাকাফুল তার সমহিমায় এগিয়ে যাক। এই দরদ ও চাহিদাকে কেন্দ্র করেই আমাদের অনতিবিলম্বে দেশের নীতি নির্ধারক ও ওলামা সমাজ এবং অর্থনীতিবিদ এর সমন্বিত প্রচেষ্টা ও উদ্যোগে বাংলাদেশে ইসলামী জীবন-বীমা ও সাধারণ বীমা স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠার জন্য দেশের পার্লামেন্টে অনুমোদনের উপযোগী করে একটি তাকাফুল এর প্রবিধান প্রনয়ন করা।
ইসলামী অর্থনৈতিক ব্যাবস্থা মানব জীবনে একটি মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বুনিয়াদ হলো মানব জাতির সার্বিক কল্যাণ সাধন করা ও প্রয়োজনীয়তা এক্ষেত্রে মানুষের আর্থসামাজিক জীবন জীবিকার নিরাপত্তার প্রতিক হলো তাকাফুল। আল কোরআন ও হাদিসের নীতি আদর্শকে বুলন্দ করতে যেহেতু ইসলামীক অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ ও সমুন্নত রাখা প্রয়োজন তেমনি তারই একটি বাহন তাকাফুলকে সমুন্নত রাখা আমাদের নৈতিক ও ঈমানী দায়িত্ব।
কারণ ইসলামী বীমার সেবা এ পর্যন্ত দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকের মতো ইসলামী বীমাকে সাগত জানিয়ে ধর্ম প্রাণ মুসলমানরা ঝুকে পড়েছে তাকাফুলের দিকে। শুধু তাই নয়, এক জরিপে দেখা গেছে ২২% অমুসলিম নাগরিকগণও এই বীমা গ্রহণ করেছে ইতোমধ্যে।
যাকাত যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক ইবাদাত তেমনি তাকাফুলও ইবাদাতকারীদের জীবন ও জীবিকা নিশ্চয়তা বিধান করার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ হিকমত। মানব সম্পদ একটি দেশের উন্নতির চাবিকাঠি অথচ আমরা এব্যাপারে এখনও অনেকটা উদাসীন। তেমনি আমাদের বুঝতে হবে মানুষের জীবনের ও জীবিকার যথাযথ মূল্যায়ণ নিশ্চিত করে বীমা পদ্ধতি।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইসলামী বীমার প্রয়োজনীয়তা : বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অশিক্ষিত। অর্ধশিক্ষিত বা শিক্ষিতদের মধ্যে বেকার সংখ্যা তিন ভাগের এক ভাগ তথা ছয় কোটি। প্রাকৃতিক দূর্যোগ, জলবায়ূ পরির্বতন, বন্যা, নদীভাঙ্গন, খড়া, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, দূর্ঘটনা, অকালমৃত্যু ইত্যাদি সমস্যা আমাদেরকে হতাশার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় দেশের এক শ্রেণীর শিক্ষিত বেকার যুবকেরা উপার্জনের জন্য অবৈধ্য পন্থায় সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে মৃত্যু বরণ করছে এ সংখ্যাও কম নয়। এমতাবস্থায় অনাগত ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা বিধানের জন্য এক নতুন বারতা নিয়ে এসেছে তাকাফুল যা শুধু মুসলমানদেরই নয় অমুসলিমদের জন্যও আশীর্বাদ। মোট কথা ইসলামী বীমা তাকাফুল আর্তমানবতা জন্য খিদমতে খাল্ক স্বরুপ। সেজন্য ইসলামী বীমা শিল্প বিশ্বের দরবারে ইসলামী অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাইলফলক ও যুগান্তকারী মডেল হিসেবে পরিগণিত হয়ে গেছে।
সার্বজনীন আধুনিক ইসলামী অর্থনীতির লক্ষ হচ্ছে মানুষের ন্যূনতম প্রয়োজন পূরণে শতকরা ১০০% নিশ্চয়তা বিধান করে সুবিচার প্রতিষ্ঠা, দারিদ্র্য নিরসন, নির্যাতিত ও বঞ্চিতদের অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রাখা। আমরা জানি পৃথিবীর জীবন ব্যবস্থায় একটি অপরিহার্য অঙ্গ অর্থ ব্যাবস্থা। মানুষের জীবদ্দশায় যে সমস্ত ঝুঁকি ও প্রতিকুলতার সম্মুখীন হতে হয় তার বেশির ভাগই অর্থের সাথে সম্পৃক্ত। ইসলামী অর্থনীতি ভীত মজবুত না করে কোন ক্রমেই সামগ্রিক কর্মকান্ড সুচারুভাবে পরিচালিত হতে পারে না। এক্ষেত্রে অন্যতম আধুনিক পদ্ধতি হলো তাকাফুল।ইসলামি বীমা ব্যবস্থা আজ একটি বাস্তব সত্য এটি দেশে দেশে বেশ জনপ্রিয়তা ও নিয়ামক হিসাবে সমাদৃত হচ্ছে।
দুঃখ, দারিদ্র্য, অভাব, অনটন, বিপদ-আপদ, অসুখ-বিসুখ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পরিবারের সদস্যদের আর্থিক জোগান এমনকি নিজেরই মৃত্যু হতে পারে। এটি নিত্যদিনের ঝুকি, ভোগবাদিতা, লোভ, সামাজিক অবক্ষয়, রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তাহীনতা, পেশী শক্তির নিপীড়ন, নির্মমতা, অসমপ্রতিযোগিতা, আদর্শিকদন্দ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, আস্থাহীনাতা, বিচার বহির্ভূতহত্যাকান্ড, প্রহশন, অবিচার, অনাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার,শোষণ, বঞ্চনা, বৈষম্য, নৈরাজ্য, প্রযুক্তির নোংরা ব্যবহারম, অপসংস্কৃতি, সুদ, ঘুষ, দুর্নিতি, লুন্ঠন, ঘাত-প্রতিঘাত, অপহরণ, মুক্তিপণ, হাইজাক, চুরি, ডাকাতি, যৌতুক, মাদক, বিবেকবর্জিত কর্মকান্ড, অমানবিক অত্যাচার, ধর্ষন, এসিড নিক্ষেপ, কৃত্রিমতা, লৌকিকতা, অশিক্ষা ইত্যাদি চলমান কর্মকান্ড মূলত জলবায়ু পরিবর্তন জনিত বৈষ্ণিক বিষয়। এসব ঝুঁকি থেকে বাচার জন্য আমাদের এখন থেকে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এটি সম্ভব শুধূ মাত্র সঞ্চয় মনোভাব ও তাকাফুলের মাধ্যমে। (চলবে)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ