মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

রাজধানীসহ সারাদেশে বিএনপির বিক্ষোভ ॥ অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি

গতকাল শনিবার রাজধানীর বিজয় নগরে বিনপির মিছিলের পেছন থেকে পুলিশের ধাওয়া এবং একজন মিছিলকারীদের উপর পুলিশি অ্যাকশন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: দলের চেয়ারাপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল শনিবারও রাজধানী সহ সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে বিএনপি। রাজধানীতে অনুষ্ঠিত মিছিলে নেতৃত্বে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু এবং চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক। এই মিছিলে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, শহীদুল ইসলাম বাবুল, হারুনুর রশীদ, আকম মোজাম্মেলন হক, খান রবিউল ইসলাম রবি প্রমুখ নেতারা ছিলেন। ১০ মিনিট স্থায়ী মিছিলটি ফকিরেরপুলের কাছে এসে পুলিশের ধাওয়ায় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সেখান থেকে কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
বেলা ১টা ২০ মিনিটে হাউজ বিল্ডিংয়ের গলি থেকে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে শ্লোগান দিতে দিতে দৈনিক বাংলার কাছে আসে। এই পর্যায়ে মিছিলের সম্মুখভাবে আসেন যুব দলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নিরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুসহ যুব দলের নেতৃবৃন্দ।
মিছিলটি ফকিরের পুল পানি ট্যাংকের কাছে আরো কয়েক হাজার নেতা-কর্মী যুক্ত হয়ে বিশাল আকার করে। নেতা-কর্মীদের মধ্যে থেকে মির্জা আব্বাস ও বরকত উল্লাহ বুলু মিছিলে অগ্রভাগে চলে আসেন। মিছিলটি পানির ট্যাংক অতিক্রম করে ২০ গজ পেরুনোর পর বেলা ১টা ৩০ মিনিটে পুলিশ পেছন দিক থেকে ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। হাজার হাজার নেতা-কর্মী বিভিন্ন গলিতে ছুটে পালাতে থাকে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ওই সব গলি কয়েকজন লাঠিপেটা করে আটক করে। এদিকে বিজয়নগর থেকেও একটি মিছিল বের হলে সেখান থেকে নগর বিএনপি নেতা নবীউল্লাহ নবীসহ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।
জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় বৃহস্পতিবার মহানগর বিশেষ জজ আদালত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছর এবং লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানকে ১০ বছরের সাজা প্রদান করলে বিএনপি শুক্র ও শনিবার বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে।
এদিকে দলের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভুয়া ও জাল নথি’র মাধ্যমে সাজানো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আদালত কর্তৃক সাজা প্রদানের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র উদ্যেগে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র সহ-সভাপতি আতিকুল ইসলাম মতিন এর নেতৃত্বে একটি বিশাল মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি এবং সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করে। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, সহ-সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান সাগির, বিএনপি নেতা দেওয়ান মোহাম্মদ নাজিম, আবদুস সালাম, মতিউর রহমান মতি ও মোস্তফা কামাল হৃদয়সহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি হাউস বিল্ডিং থেকে শুরু হয়ে ১১ নং রোডে গেলে পুলিশী বাধার মুখে পড়ে।
শেরে বাংলা নগর থানা বিএনপির একটি মিছিল সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, শাহ আলম, তোফায়েল আহম্মেদ, আব্দুল কাদের লুটুল, নাছির, শামীম, ফরিদ, ফারুক, সোহেল সহ থানা বিএনপি ও সকল অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিছিল সফল করায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি এম.এ কাইয়ুম এবং সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি এবং সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতকর্মীদেরকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তার হোসেন এর বাসায় পুলিশ তল্লাশীর নামে তান্ডব চালিয়েছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র সভাপতি এম এ কাইয়ুম এবং সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান।
খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভুয়া ও জাল নথি’র মাধ্যমে সাজানো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় সাজা প্রদানের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে বিশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে অংশ নেন-স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি শফিউল বারী বাবু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদরেজ জামান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি এস এম জিলানী, উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান সাইদুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বির, সাবেক কেন্দ্রীয় য্গ্মু সাধারণ সম্পাদক আনু মোহাম্মদ শামীম আজাদ, ইমতিয়াজ বকুল, সহ-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মাসুম, সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মনিরসহ অসংখ্য নেতাকর্মী।
খুলনা অফিস : খুলনা রেল স্টেশন এলাকা থেকে জিহাদী বইপত্রসহ মো. আব্দুল্লাহ (২৪)-কে গ্রেফতারের ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে খুলনা সদর থানায়। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আশরাফুল আলম বাদি হয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলাটি দায়ের করেন (যার নং-১৩, ০৮-০২-১৮ ইং)। গ্রেফতারকৃত মো. আব্দল্লাহকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এজাহারভুক্ত অন্যরা হলো-হাফেজ মো. নাসরুল্লাহ্, হাফেজ মো. শাকিল, মো. ইলিয়াস, মো. সাদ বিন শফিক, মো. রাসেল, মো. মিলন, মো. রাকিবুল ইসলাম, মো. সাগর, মো. জুলহাস, মো. আমিনুল ইসলাম, হাফেজ মো. রাসেল, মো. তুষার, মো. আজিজ, মো. পলাশ, মো. শিমুল, মো. কিরণ, মো. রাফিদুল ইসলাম, মো. জাহিদ, মো. নাহিদুল ইসলাম, মো. রেজাউল, মো. জাহিদুল কবির, মো. রাব্বি, মো. পারভেজ, মো. কমলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন।
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা : সাতক্ষীরায় পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে। ৪৮ ঘণ্টায় পুলিশের অভিযানে ১৭ জন বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মীসহ ৭০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার  সকাল পর্যন্ত জেলার ৮টি থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। আটক কৃতদের মধ্যে পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটা ইউপি যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি এরশাদ হোসেন মিলন রয়েছে।  গতকাল আটক করা হয়েছে তার মধ্যে সাতক্ষীরা সদর থানার ৯ জন এদের মধ্যে জামায়াত কর্মী ৫জন, কলারোয়া থানার ৪ জন, তালা থানার ২জন, কালিগজ্ঞ থানার ৫জন, শ্যামনগর থানার ৪ জন, আশাশুনি থানার ৪ জন, দেবহাটা থানর ৫জন ও পাটকেলঘাটা থানার ৫ জন এদের মধ্যে বিএনপি নেতা ১ জন ও জামায়াত কর্মী ২ জন।
বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আটককৃতদের মধ্যে, সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ৮ জন, কলারোয়া থানা ৪ জন, তালা থানা ২ জন, কালিগঞ্জ থানা ৫ জন, শ্যামনগর থানা ৩ জন, আশাশুনি থানা ৪ জন, দেবহাটা থানা ৩ জন পাটকেলঘাটা থানা থেকে ৩ জন জনকে আটক করা হয়।
জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার উপ পরিদর্শক মিজানুর রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গ্রেফতারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আটকের দুইঘণ্টা পর গাড়ি পোড়ানো মামলার প্রধান আসামী ইসলামী হাসপালের কর্মকর্তা:আসামী  বিএনপির সভাপতি- সেক্রেটারি
এছাড়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা শহর উপকন্ঠের বাঁকাল এলাকায় রাস্তার ধারে পরিত্যক্ত একে ট্রাভেলস এর একটি এসি বাসে আগুন দেয়ার ঘটনায় শুক্রবার পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। সদর থানার এসআই হাফিজুর রহমান (২) বাদী হয়ে ১৬ জনকে এজাহারনামীয় আসামী করে এ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২০। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই পাচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সদর থানার দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ১৯৭৪ সালের স্পেশাল পাওয়ার এ্যাক্ট ১৫(৩)/২৫(ঘ) তৎসহ পেনাল কোডের ৪৩৫ ধারার এ মামলার আসামী করা হয়েছে, খুলনার খালিশপুর এলাকার আলিম খানের ছেলে ও সাতক্ষীরা ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্ত হামিদুল ইসলাম, কলারোয়ার ধানঘোরা গ্রামের মৃত গরিবুল্যার ছেলে ওমর আলী, কালিগঞ্জের ফতেপুর গ্রামের মোসলেম গাজীর ছেলে আব্দুল মোমিন, সদরের কাশেমপুর গ্রামের হাজাম পাড়ার মৃত ঈমান আলীর ছেলে গোলাম রসুল, শহর উপকণ্ঠের কুচপুকুর গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে গোলাম হোসেন।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ টা ২১ মিনিটে ডিবি পুলিশ  এমামলার প্রধান আসামী আব্দুল হামিদকে তার নিজস্ব কর্মস্থল ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতাল সাতক্ষীরা নারকেলতলাস্থ অফিস থেকে তাকে আটক করে। এ বিষয় হাসপাতাল স্টাফরা জানান বিকাল ৪ টা ২১ মিনিটে ১০ থেকে ১১ জনের ডিবি পুলিশের একটি ফোর্স দুটি গাড়িতে করে তাকে নিয়ে যায়। সাতক্ষীরা ডিবি পুলিশের ওসি জানান,জামায়াতের সাথে সংশ্লিতার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে। তবে যাচাই বাছাই চলছে। হাসপাতালে সিসিটিভির ক্যামেরায় দেখা যায় ডিবিপুলিশের কয়েকজন সদস্য ৪টা ২১মিনিটে তার অফিসে থেকে তাকে নিয়ে যেতে দেখায়। হাসপাতালের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে ডিবিপুলিশ সহ একটি ছবি সরবরাহ করা হয়। পরে ডিবি অফিসে নিয়ে মামলা নরমাল করে দেয়ার নাম করে এক লক্ষ টাকা আদায় করেন আব্দুল হামিদের পরিবারের কাছ থেকে। হাসপাপতালের কয়েকজন স্টাফ ও আব্দুল হামিদের স্ত্রী এমন অভিযোগ করেছে কয়েকজন সাংবাদিকের কাছে। এর পরও আটকেতর কয়েক ঘণ্টা পর গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনায় তাকে প্রধান আসামী করা হয়েছে। অনেকে বলছে পুলিশ হেফাজাতে আব্দুল হামিদ কি ভাবে গাড়িতে আগুন দিতে পারে। তবে অর্থ লেনদেনের ঘটনা অস্বীকার করেছে ডিবি পুলিশ।
এছাড়া কলারোয়া থেকে আটক করে আনা কলারোয়ার ধানঘোরা গ্রামের মৃত গরিবুল্যার ছেলে ওমর আল কে এ মামলার দ্বিতীয় নং আসামী করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রানুযায়ী এ মামলায়  পলাতক দেখানো হয়েছে আলিপুরের আব্দুস সাত্তার সরদারের ছেলে আব্দুস সবুর, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুর রউপ তার ছোট ভাই মোস্তাাফিজুর রহমান ছোট, জেলা বিএনপির সভাপতি রহমত উল্যাহ পলাশ, সাধারণ সম্পাদক তারিকুল হাসান, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসিম ফারুক খান মিঠু, জেলা যুবদলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আইনুল ইসলাম নান্টা, ভোমরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আসাদুল ইসলাম আসাদ, জেলা যুব দলের সভাপতি আবুল হাসান হাদী, লাবসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল আলিম এবং জনৈক আল মামুন। এজাহার নামীয় ১৬জন ছাড়াও অজ্ঞাত নামা ৪০/৫০ জনকে আসামী করা হয়েছে এই মামলায়।
এমামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, আমি শুনেছি আমাকে তদন্তকারি কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে কিন্তু আমি টহলে থাকায় কোন কপি এখনও হাতে পাইনি। সুতারাং কছিুই বলতে পারছি না। সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি (ইনটেলিজেন্স) মহিদুল হক মামলার বিষয়ে নিশ্চিত করে বলেন, আসামীদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যহত আছে। যে কোন সময় এসব আসামীরা আটক হবে।
ময়মনসংিহ সংবাদদাতা : ময়মনসংিহে জামায়াত-শবিরিরে ৪ নতো-র্কমীকে আটক করছেে জলো পুলশিরে গোয়ন্দো শাখার (ডবি)ি সদস্যরা। আটকরা হলনে- তানভীর আহাম্মদে (২৩), মো. রজোউল হায়দার (২৬), রাজবি আহম্মদে (২৫) ও রফকিুল বারী সজীব (২৩)। গতকাল শনবিার সকালে তাদরে আদালতরে মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ময়মনসংিহ গোয়ন্দো পুলশিরে ভারপ্রাপ্ত র্কমর্কতা (ওস)ি আশকিুর রহমান  জানান, গোপন সংবাদরে ভত্তিতিে শুক্রবার  দনিগত গভীর রাতে নগরীর কৃষ্টপুর এলাকার ত্রশিাল হাউজ নামে একটি ভবনরে পঞ্চম তলায় অভযিান চালয়িে তাদরে আটক করা হয়। পরে তাদরে বরিুদ্ধে সন্ত্রাস বরিোধী ও বস্ফিোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়রে করা হয়। সন্ত্রাস ও নাশকতা বরিোধী এ অভযিান অব্যাহত থাকবে বলওে জানান ওসি আশকিুর।
চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে গত ২ দিনে জেলার কোথাও বিএনপির কোন কর্মসুচীর সংবাদ না পাওয়া গেলেও চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে জামায়াতের ৩ নেতা-কর্মী আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাতে এদেরকে নিজ নিজ বাড়ী থেকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান এর নির্দেশে পুলিশ অভিযান চালিয়ে জীবননগর উপজেলার উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের বালিহুদা গ্রাম থেকে জামায়াত কর্মী সলেমান আলী এবং ছামাউল ইসলামকে পুলিশ আটক করে। একই রাতে উপজেলার পুরাতন চাকলা গ্রাম থেকে ওয়ার্ড সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে পুলিশ আটক করে। আটককৃতদের গতকাল দুপুরে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ আদালত জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির ২৮জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার সকাল থেকে গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সদর উপজেলার মিজান মিয়া- (২৮), সরাইল উপজেলার রাজু-(২৭), একই উপজেলার দানা মিয়া, নাসিরনগর উপজেলার লাল খাঁ-(৪০), একই উপজেলার ধন মিয়া-(৪২), আশুগঞ্জ উপজেলার আকাশ মিয়া-(৩৫), একই উপজেলার আসাদ-(৩২), একই উপজেলার সৈয়দ মিয়া-(৪০), ইউনুছ মিয়া-(৩২), আরমান মিয়া-(২৫), মজিবুর রহমন-(৪৮), মোঃ সুমন মিয়া- (৩০), আখাউড়া উপজেলার মোঃ মামুন মিয়া-(৩৪), একই উপজেলার আবু বকর সিদ্দিক-(৫০), নান্নু মিয়া-(৫০), মোঃ আল আমিন-(৩০), মোঃ রুহুল আমিন (২৬), মোঃ মানিক মিয়া-(২৪), মোঃ রবিউল ইসলাম-(৩০), নবীনগরের টিপু মিয়া, একই উপজেলার আজিজ মিয়া, নাসির মিয়া, আমির হোসেন, মোঃ সেলিম, আনোয়ার মিয়া, রঙ্গু মিয়া ও  ফারুক মিয়া।
এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিআইওয়ান) মোঃ ইমতিয়াজ আহমেদ পিপিএম বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী। তারা সবাই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আসামী। গতকাল শনিবার সকালে তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর সংবাদদাতা : সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গায় পুলিশি গ্রেফতার অব্যাহত আছে। গতকাল শুক্রবার জুম্মা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিএনপি –জামায়াতের ৭জন জন কর্মী-সমর্থক কে  আটক করে । তারা হলেন বিএনপির কর্মী চুয়াডাঙ্গা সদরের শৈলমারি গ্রামের মৃত জামাত আলীর ছেলে মনিরুল ইসলাম (৩০), দোস্ত গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে বাবুল রহমত (৩২) ও জামায়াতের একই গ্রামের মাহাতাবের ছেলে শাজাহান (৩৬), শৈলমারি গ্রামের মৃত জাহেরুল হকের ছেলে মেহেদি হাসান (২৮)  ,জীবননগর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বালির হুদা গ্রামের আহাদ আলীর দুই ছেলে সলেমান (৫৩),সামাউল (৫০) ,একই উপজেলার পুরাতন চাকলা গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে আনোয়ার (৪০) তাদের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে তাকে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রায়গঞ্জ সংবাদদাতা : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বিএনপির ২৯ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের হওয়ায় গ্রেফতার আতংকে অধিকাংশ নেতা-কর্মী এখন বাড়ি ছাড়া। বিষ্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে উপজেলা বিএনপি’র অজ্ঞাত ১৫-১৬ জন ও উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক  মোঃ শামছুল ইসলাম সহ ২৯ নেতা-কর্মী’র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। গত বুধবার ব্রহ্মগাছা ইউপি মেম্বার মোঃ আলাউদ্দিন কে ১নং আসামী করে উপজেলা বিএপি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামছুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক জুয়েল সহ নেতা-কর্মীদের নামে মামলা হওয়ায় পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে বিএনপি’র অধিকাংশ নেতা-কর্মী এখন এলাকা ছাড়া হয়েছে। মামলার বাদী রায়গঞ্জ থানার এসআই আব্দুর রহিম জানান, নাশকতার উদ্দেশ্যে গত বুধবার ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের হাসিল হোসেন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে বিএনপি নেতা-কর্মী জমায়েত হয়ে নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক করছিল। এ  সংবাদের ভিত্তিতে ঐ স্থানে অভিযান চালিয়ে ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার আলাউদ্দিনকে আটক করে ঘটনা স্থল থেকে ৭টি ককটেল উদ্ধার করা হয়। ১৯০৮ সালের বিষ্ফোরক উপাদানাবলি ৪/৫/৬ এবং তৎসহ ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ (৩) ধারায় এই মামলা করা হয়েছে। (রায়গঞ্জ থানা, মামলা নং ৩, তারিখ-০৭-০২-১৮)। বুধবার, বৃহস্পতিবার  ও শুক্রবার বিএনপি’র কেন্দ্রিয় কর্মসূচি হিসেবে বিক্ষোভ সমাবেশ করতেও দেখা যায়নি দলের পক্ষ থেকে। এ ছাড়া নতুন করে আর কোন মিথ্যা রাজনৈতিক মামলার অনাকাংখিত আসামী হওয়া ও গ্রেফতার এড়াতে অধিকাংশ বিএনপি নেতা-কর্মিরা পলাতক রয়েছেন বলে বিএনপি’র একটি সূত্র জানান।
ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বিএনপি ভোলাহাট উপজেলা শাখা পূর্ব ঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার রায়ের বিরুদ্ধে শনিবার বিকেলে মেডিকেল মোড় নিজস্ব কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা করে। উপজেলা বিএনপি শাখার সিনিয়ার সহসভাপতি মাতাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় মোবাইলে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ- ২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশি ও জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপি শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা সহসভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রভাষক আনোয়ারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চুটু, জেলা সহ সংগঠনিক সম্পাদক ভোলাহাট সদর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইয়াজদানী জর্জ, উপজেলা বিএনপি সহসভাপতি ও গোহালবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আল- হেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক কাউসারুল ইসলাম রন্জু, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা নেত্রী রেশমাতুল আরশ রেখা, উপজেলা স্বেচ্ছা সেবক দলের আহবায়ক মিজানুর রহমান, যুবদল উপজেলা শাখার সভাপতি বেলালউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মন্সুর আলী, সাবেক ছাত্রদল নেতা মনিরুল ইসলাম, ছাত্রদল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কায়সার আহমেদ ও মহিলা নেত্রী শাহানাজ খাতুনসহ অন্যরা। এ সময় দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জেলে আটক থাকায় আবেগ আপ্লুত হয়ে কাঁন্নায় ভেঙ্গে পড়েন নেতাকর্মীরা।
সিলেট ব্যুরো : সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্ট ও জেল রোড এলাকায় বিএনপির মিছিলে বাধা দিয়েছে পুলিশ। এসময় দুই বিএনপি নেতাকে আটকও করে পুলিশ। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার বিকেলে নগরীর কুদরত উল্লাহ মসজিদের সামনে থাকে বিএনপি একটি অংশ মিছিল নিয়ে কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় আসে। এসময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করে দুইজনকে আটক করে। পরে নগরীর জেল রেড এলাকায় জড়ো হয়ে আবার তার মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ আবার ধাওয়া করে। কোর্ট পয়েন্ট এলাকা থেকে আব্দুর রহমান ও সিরাজ খান নামে দুই বিএনপি নেতাকে আটক করে পুলিশ। এরআগে দুপুরে নগরীর মির্জাজাঙ্গাল থেকে মিছিল বের করে তারা। পুলিশের ধাওয়ায় ওই মিছিলও ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এসএমপির কোতয়ালি মডেল থানার এসআই ফয়েজ জানান, নাশকতার আশঙ্কায় বিএনপির মিছিলে ধাওয়া করেছে পুলিশ। এসময় দু'জনকে আটক করা হয়।
সিলেটে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ২৫ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে মহানগর এলাকা থেকে ১৬ জন ও জেলা থেকে ৯ জনকে আটক করা হয়। গতকাল শনিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার এ অভিযান চালায় পুলিশ। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মুহম্মদ আব্দুল ওয়াহাব জানান, গত শুক্রবার রাত থেকে অভিযান চালিয়ে নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়েছে। এদিকে, সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামসুল ইসলাম সরদার জানান, জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা বেশির ভাগই বিএনপি নেতাকর্মী বলে তিনি জানান।
বগুড়া অফিস: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অবিলম্বে নি:শর্ত মুক্তি ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারমান তারেক রহমান সহ নেতাকর্মীদের মামলা এবং হয়রানি থেকে রেহাই পেতে রোজা পালন কর্মসূিচ ঘোষণা করেছে বগুড়া জেলা বিএনপি। আগামী সোমবার সারাদিন রোজা পালন শেষে শহরের বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে ইফতার মাহফিলে অংশ নেয়ার আহবান জানানো হয়েছে। শনিবার দুপুরে শহরের নবাববাড়ী রোডে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে  জেলা বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বগুড়া জেলা সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জেলা সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, কেন্দ্রীয় সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মাদ শোকরানা, রেজাউল করিম বাদশা, ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, লাভলী রহমান প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ