মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

প্রধানমন্ত্রী কাল ইতালি যাচ্ছেন

বাসস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট (ইফাদ)-এর পরিচালনা পর্ষদের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে ইতালিতে ৪ দিনের সরকারি সফরে আগামীকাল রোববার রোমের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন। ইফাদ-এর প্রেসিডেন্ট গিলবার্ট এফ হুনগবো’র আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী এ বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন।
 পোপ ফ্রান্সিসের আমন্ত্রণে শেখ হাসিনা হলি সি (ভ্যাটিক্যান সিটি) সফর করবেন, সেখানে তিনি পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
 রোববার ভোরে প্রধানমন্ত্রী ও সফরসঙ্গীদের নিয়ে এমিরেটস এয়ারলাইন্স’র একটি ফ্লাইট রোমের উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ত্যাগ করবে।
ফ্লাইট স্থানীয় সময় সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় রোমের ফিউমিসিনো বিমান বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ইতালিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান সিকদার বিমান বন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন।
 রোমে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী প্রায় দু’ঘণ্টার জন্য দুবাইয়ে যাত্রা বিরতি করবেন।
 পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে বৈঠকে করতে প্রধানমন্ত্রী ১২ ফেব্রুয়ারি ভ্যাটিক্যান সিটি সফর করবেন।
তিনি সেখানে সেক্রেটারি স্টেট অব ভ্যাটিক্যান সিটি কার্ডিনাল পেইটরো পারোলাইনের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এর আগে পোপ ফ্রান্সিস শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে গত ৩১ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সফর করেছেন।
 শেখ হাসিনা ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে রোমে আইএফএডি’র সদর দপ্তরে গভর্নিং কাউন্সিলের ৪১তম অধিবেশনে যোগ দেবেন। গভর্নিং কাউন্সিলের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।
আইএফএডি’র গভর্নিং কাউন্সিলের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘ফ্রম ফ্রাগিলিটি টু লং টার্ম রেজিলেন্স : ইনভেস্টিং ইন সাসটেইনেবল রুরাল ইকোনমিকস’। প্রধানমন্ত্রী মূল প্রবন্ধে তাঁর সরকারের অন্যান্য উন্নয়ন উদ্যোগ ছাড়াও দেশের সাফল্য এবং কৃষি খাতের অর্জন তুলে ধরবেন।
বৃহস্পতিবার এখানে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী যুব উন্নয়ন, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়ন এবং এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের ভূমিকার জন্য তাঁর সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরবেন।
সম্মেলনের কী-নোট স্পিকারের আইএফএডি’র প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন।
১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা রোমের পারকো দেই প্রিনসিপি গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড এসপিএ প্রবাসী বাংলাদেশীদের এক সংবর্ধনা সভায় যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী আবুধাবি হয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরবেন।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর গ্রামীণ এলাকার দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণে ইফাদ একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা।
১৯৭৪ সালে বিশ্ব ফুড কনফারেন্সের সিদ্ধান্তে ১৯৭৭ সালে একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইফাদ প্রতিষ্ঠিত হয়।
দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং খাদ্য ও পুষ্টির মানোন্নয়নে গত ৩০ বছর যাবত রোম ভিত্তিক এই সংস্থা বাংলাদেশে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে।
ইফাদ মঞ্জুরি ও সহজ ঋণ হিসেবে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ৭৮২ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে।

লুসি হেলেনের পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
বরিশাল থেকে বাসস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিটিশ নারী লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হোল্টের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন। লুসি হেলেন ৫৭ বছর ধরে বাংলাদেশে বসবাস করছেন।
প্রতি বছর ভিসা নবায়নের অবসান ঘটিয়ে শেখ হাসিনা গত বৃহস্পতিবার ১৫ বছরের মাল্টিপল বাংলাদেশী ভিসাসহ লুসি হেলেনের হাতে তার পাসপোর্ট তুলে দেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বাসস’কে জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশাল বঙ্গবন্ধু উদ্যানে জনসভার আগে ১৫ বছরের মাল্টিপল ভিসাসহ লুসি হেলেনের হাতে তার পাসপোর্টটি তুলে দেন।’
 প্রেস সচিব বলেন, পাসপোর্ট হস্তান্তরের সময় প্রধানমন্ত্রী ৮৭ বছর বয়সী মানবতাবাদী লুসি হেলেনের সঙ্গে কথা বলেন। লুসি হেলেন বর্তমানে বরিশাল শহরে অক্সফোর্ড মিশনে কর্মরত রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় লুসি হেলেন অভিভূত হয়ে পড়েন।
জন হোল্ট ও ফ্রান্সিস হোল্টের কণ্যা লুসি ১৯৩০ সালের ১৬ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের সেন্ট হেলেন শহরে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করে তিনি ১৯৬০ সালে প্রথম বাংলাদেশ সফর করেন। সে বছর তিনি বরিশাল অক্সফোর্ড মিশনে যোগ দেন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের শিক্ষা দেন।
এরপর তিনি আর স্বদেশে ফিরে যাননি। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার টানে এখানেই থেকে যান। এরপর তিনি যশোর, খুলনা, নওগাঁ, ঢাকা এবং গোপালগঞ্জে ৫৭ বছর ধরে কাজ করেন। ২০০৪ সালে অবসর নেয়ার পর তিনি বরিশাল অক্সফোর্ড মিশনে ফিরে আসেন। অবসর জীবনে তিনি ইংরেজি শিক্ষা দেন এবং দুস্থ শিশুদের মানসিক প্রণোদনা দেন। পাশাপাশি দুস্থ শিশুদের জন্য সামর্থ্যবানদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ করেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে লুসি হেলেনের অসামান্য অবদান রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি আহত মানুষের সেবা-শুশ্রুষা করেছেন। সে সময় তিনি যশোর ক্যাথলিক চার্চে কর্মরত ছিলেন। তিনি শিশুদের ইংরেজি শিক্ষা দিতেন। যুদ্ধ শুরু হলে লুসি ছাড়া অন্য সবাই স্কুল বন্ধ করে দিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে খুলনা চলে যায়।
ভয়ঙ্কর ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি পাশের ফাতেমা হাসপাতালে যান এবং যুদ্ধাহত বেসামরিক নাগরিকদের সেবা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা একজন বিদেশী মহিলার এমন আগ্রহ দেখে অবাক হন এবং তাকে এ ব্যাপারে সম্মতি দেন। এরপর থেকে তিনি যুদ্ধাহত মানুষদের সেবা দিতে শুরু করেন।
গত ১৬ ডিসেম্বর বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখার জন্য লুসিকে সম্মাননা প্রদান করে।
লুসির এখন শেষ ইচ্ছা, তিনি বাংলাদেশের মাটিতেই সমাহিত হবেন এবং মৃত্যুর পূর্বে তিনি এ দেশের নাগরিকত্ব কামনা করেন।
তিনি বলেন, প্রত্যেক বছর তার ভিসা নবায়নের জন্য তাকে প্রচুর টাকা খরচ করতে হয় বলে তিনি বেশ কয়েকবার এ দেশের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন।
তিনি বলেন, ‘গতবছর আমি ভিসা নবায়নের জন্য ৩৮ হাজার টাকা খরচ করেছি। আমি বর্তমানে প্রতি মাসে অবসরভাতা বাবদ মাত্র ৭৫ পাউন্ড (সাড়ে সাত হাজার টাকার মতো) পাই।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ