সোমবার ০১ মার্চ ২০২১
Online Edition

কবিতা

ডাব্লিউ বি ইয়েটস-এর কবিতা

তরজমা: মুহাম্মদ আবদুল হাদি

স্যালি গার্র্র্ডেনে

 

স্যালি গার্ডেনে আমরা মিলিত হয়েছিলাম।

বরফ শাদা ছোট্ট পায়ে আমার প্রিয়তমা হেঁটে বেড়াচ্ছিল।

‘ভালবাসাকে সহজভাবে গ্রহণ করো, যেভাবে 

পত্র-পল্লব বৃক্ষের শাখায় বিকশিত হয়।’- সে বলেছিল।

আমি তার সাথে একমত হতে পারিনি। কারণ-

আমি ছিলাম তরুণ এবং বোকা।

নদী তীরবর্তী মাঠে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম।

আমার কাধে বরফ-শাদা হাত রেখে

 সে বলেছিল-‘জীবনকে সহজ ভাবে মেনে নাও,

যেভাবে ঘাসেরা বেড়ে ওঠে।’ কিন্তুঋ

আমি ছিলাম তরুন এবং বোকা।

আর এখন আমার চোখে পানি টলমল করছে।

 

[কবি WILLIAM BUTLER YEATS(১৮৬৫-১৯৩৯) ছিলেন বিশ শতকের আইরিশ ও ব্রিটিশ সাহিত্যাঙ্গানের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। আইরিশ জাতীয়তাবাদী কবি ইয়েটস তার কবিতায় আয়ারল্যান্ডের মিথ, গাঁথা ও ফোকলোরকে ব্যবহার করেছন অকৃপণভাবে। ১৯২৩ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। A. NORMAN JEFFARES  সম্পাদিত ইয়েটস-এর SELECTED POETRY এর অন্তর্ভুক্ত DOWN BY THE SALLEY GARDEN-এর বাংলা অনুবাদ স্যালি গার্র্র্ডেনে ]

 

 

পথের খোঁজে পথে পথে

শাহিদ উল ইসলাম

 

পথের খোঁজে পথে পথে পথ খুঁজে ফিরি

তবু পাই না পথের দিশা পথে পড়ে মরি

অচিনপুরে যাবো আমি অচিনপুরে যাবো

অচিনপুরের পথ আমি কোথায় গেলে পাবো

একে ধরি ওকে ধরি পথের দিশা পেতে

পাই না তবু পথের দিশা পথে যেতে যেতে

কেউবা বলে ডানে যাও কেউবা বলে বায়ে

কেউবা বলে জল পথে যাও উঠে পড় নায়ে

জলপথে যাই কিভাবে সাঁতার জানি না

ধানখেতের মাঠ মাড়িয়েও হাঁটতে পারি না

পথের কথা বলতে যেয়ে পথ হারিয়ে ফেলি

আসল কথা আড়াল থাকে নকল পথে চলি

কি বলবো আর পথের কথা পথিক ভাল না

পথ চেনে না পথিক যে জন সে জন পথিক না।

পথের খোঁজে পথে পথে পথ খুঁজে ফিরি

তবু পাই না পথের দিশা পথে পড়ে মরি

অচিনপুরে যাবো আমি অচিনপুরে যাবো

অচিনপুরের পথ আমি কোথায় গেলে পাবো।

 

 

নিঝুম নদীর তীরে 

হাসান নাজমুল

 

নিঝুম নদীর তীরে নীরবতার বিশাল মাঠ,

নীরবতার মাঝেও খুঁজতে এসেছি নীরবতা;

এখানে আরেক পৃথিবী দাঁড়িয়ে

এ মাঠে জুয়ার খেলোয়াড় নেই

নেই মানুষের রাজনীতি,

এ প্রান্তরে যুবক দুর্নীতি করে-

খোঁজে না কাজের দাম,

শব্দহীনতায় ভরাট এ মাঠ,

নির্জন আত্মার খোরাক মেটাতে এসেছি এখানে 

অজান্তে মিশেছি বাতাসের দেহে

নিসর্গের খাদ্য খেতে এসেছি এ মাঠে,

এই প্রথম আমার দিলে দেখতে পেলাম-

আনন্দের ফল্গুধারা,

কী যে আনন্দ ঘুমিয়ে আছে এই মাঠে!

পুরো মাঠ যেন নীরবতার মানবতার হাট,

এ নিঝুম নদীতীরে তবু আরও স্তব্ধতা খুঁজি।   

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ